নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
দেশের ক্রিকেটের টালমাটাল সময়েও খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎকে সামনে রেখেই আবারও মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সাবেক অধিনায়ক ‘তামিম ইকবাল’। বিসিবি নির্বাচন নিয়ে চলমান অসন্তোষ, ৪৪টি ক্লাবের বয়কট ঘোষণা, তার মাঝেও তামিম নিজের ক্লাব ওল্ড ডিওএইচএসকে প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে অংশ নিতে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন।

মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের আলো ঝলমলে করিডরের বাইরে এখন দেশের ক্রিকেট কিছুটা ধুলোমাখা অনিশ্চয়তায় দাঁড়িয়ে। লিগ শুরু হওয়ার তারিখ বদলেছে একের পর এক। ক্লাবগুলো দাবি তুলেছে নানা অনিয়মের। মাঠে ফেরার বদলে অনেকে বেছে নিয়েছে প্রতিবাদের পথ। কিন্তু ক্রিকেটারদের বাস্তবতা অন্য রকম। তাদের পরিবারের আয়, ক্যারিয়ারের সময়, ম্যাচ ফি, পারফরম্যান্স—সবই ঝুলে থাকে এমন লিগের ওপর।
এমন অবস্থায় তামিম ইকবাল ঠিক করলেন, বিভক্তি নয়, আগে খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়ানোই জরুরি। নির্বাচনে অংশ না নেওয়া ক্লাব কাউন্সিলরদের একজন হয়েও তিনি নিজের ক্লাবকে নির্দেশ দিলেন লিগে খেলতে। যেন সেই সিদ্ধান্তে এক অদেখা বাতাস বইলো ক্রিকেটে, যে বাতাসের গন্ধ দায়িত্বশীলতার আর মানবিকতার।
বিসিবিও এই সিদ্ধান্তকে সম্মানের চোখে দেখেছে। বোর্ড আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তামিমকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্পষ্ট বলেছে, দেশের ক্রিকেটের এই সংকটে তার উদ্যোগ প্রশংসার যোগ্য। বোর্ডের ভাষায়, তামিমের এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেটারদের জন্য আশীর্বাদের মতো, যেখানে মাঠই হয়ে ওঠে তাদের জীবনের রুদ্রমেলা রুটি-রোজগারের জায়গা।

বিসিবির সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদও তামিমের অবস্থানকে সমর্থন করে বলেন, নির্বাচনের জটিলতা আলাদা জায়গায় আছে, কিন্তু মাঠ বন্ধ থাকলে খেলোয়াড়রা ক্ষতিগ্রস্ত হন। সমস্যা থাকলে তা পরে মীমাংসা করা যায়, কিন্তু সময় ফুরিয়ে গেলে আর ফিরিয়ে আনা যায় না।
বিভিন্ন ক্লাব এখনো বয়কটের সিদ্ধান্তে অনড়। কেউ কেউ দাবি করছে তারা প্রতিবাদের চিঠি পাঠিয়েছে, আবার বিসিবি বলছে এমন কোনো আনুষ্ঠানিক কাগজ তাদের হাতে নেই। এই টানাপোড়েনের মাঝেও তামিম যে পথ বেছে নিলেন, তা অনেকটাই ধোঁয়াশা কাটানোর মতো।
বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে হয়তো এখনো দর্শকের শব্দ নেই, কিন্তু দেশের ক্রিকেটের অস্থির আকাশে তামিম ইকবাল যেন এক আলোর রেখা। নিজের ক্ষোভ পাশে রেখে, নির্বাচনে অংশ না নিয়েও, ক্রিকেটারদের স্বার্থকে প্রথমে রেখে তিনি দেখালেন—দায়িত্ববোধ এখনো হারিয়ে যায়নি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট যেদিন আবার শান্ত ছন্দে ফিরবে, সেদিন নিশ্চয়ই ইতিহাস মনে রাখবে তামিমের এই সিদ্ধান্তকে। কারণ সংকটের সময় যে পাশে দাঁড়ায়, তার মূল্য ঠিকই জমা থাকে খেলোয়াড়দের হৃদয়ে।
