নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াইগুলোর একটি—ভারত ও পাকিস্তানের মুখোমুখি সংঘর্ষ—আবারও তৈরি করেছে তুমুল উত্তেজনা। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচকে ঘিরে দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে বাড়ছে উন্মাদনা, যার প্রভাব পড়েছে টিকিট বাজারেও। নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় কালোবাজারে টিকিটের দাম চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
রবিবার সন্ধ্যায় কলম্বোর আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বহুল আলোচিত ম্যাচটি। প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামের সব টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। চাহিদা এতটাই বেশি যে, অনানুষ্ঠানিক বাজারে টিকিট সংগ্রহ করতে ভক্তদের গুনতে হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি অর্থ।
গ্রুপ ‘এ’-তে এখন পর্যন্ত দুই দলই নিজেদের প্রথম দুটি ম্যাচ জিতে দারুণ ছন্দে রয়েছে। ফলে এই ম্যাচের ফলাফলই প্রায় নিশ্চিত করে দিতে পারে সুপার এইটসে ওঠার সমীকরণ। মাঠের লড়াইয়ের গুরুত্বের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও ম্যাচটিকে বাড়তি মাত্রা দিয়েছে।
দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে ভারত ও পাকিস্তান এখন কেবল আইসিসি বা বহুজাতিক টুর্নামেন্টেই মুখোমুখি হয়, তাও নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। প্রায় দুই দশক ধরে টেস্ট ক্রিকেটে দেখা হয়নি দুই দলের, আর দ্বিপাক্ষিক সিরিজও বন্ধ রয়েছে এক যুগের বেশি সময় ধরে। সর্বশেষ এশিয়া কাপে তিনবার মুখোমুখি হয়ে প্রতিবারই জয় পেয়েছিল ভারত।
বিশ্বব্যাপী সম্প্রচার মাধ্যমগুলোও ম্যাচটিকে ঘিরে রেকর্ড দর্শকসংখ্যার প্রত্যাশা করছে। ধারণা করা হচ্ছে, একশ কোটিরও বেশি দর্শক টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ম্যাচটি উপভোগ করতে পারেন। যদিও এখনো সর্বোচ্চ দর্শকসংখ্যার রেকর্ড রয়েছে ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালের দখলে।
শুধু ক্রিকেটীয় উত্তেজনাই নয়, ম্যাচটি ঘিরে বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞাপন, সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ এবং পর্যটন খাত থেকে আয় হতে পারে কোটি কোটি ডলার।
তবে ম্যাচটি আয়োজনের পথ সহজ ছিল না। টুর্নামেন্টের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে পাকিস্তান সরকার প্রথমে দলকে ভারতের বিপক্ষে খেলতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। পরে বহুপাক্ষিক আলোচনা ও বিভিন্ন দেশের অনুরোধের পর সিদ্ধান্ত বদলে দলকে মাঠে নামার অনুমতি দেওয়া হয়। সরকার জানিয়েছে, ক্রিকেটের চেতনা বজায় রাখার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০ দলের এই বিশ্বকাপ ইতোমধ্যেই নানা রাজনৈতিক আলোচনায় ঘেরা। নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখিয়ে বাংলাদেশ ভারতের ভেন্যুতে খেলতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের পরিবর্তে সুযোগ পায় স্কটল্যান্ড।সব নাটকীয়তা পেরিয়ে এখন দৃষ্টি একটাই—মাঠের লড়াইয়ে। আবারও বিশ্ব ক্রিকেট অপেক্ষায় ভারত–পাকিস্তান মহারণের নতুন অধ্যায়ের।
