নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হয়েছে, নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতির মধ্যেই দেশের ক্রীড়াঙ্গন থেকে উঠতে শুরু করেছে নানা প্রত্যাশার কথা। নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে সরকার গঠনের পথে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন নতুন প্রশাসনের কাছে খেলাধুলার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা–৯ আসন ছিল এবারের নির্বাচনের আলোচিত কেন্দ্রগুলোর একটি। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলেও এখানে নির্বাচনী প্রচারে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা নেতিবাচক রাজনীতি দেখা যায়নি। এই এলাকারই বাসিন্দা সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুল ভোট দেওয়ার পর দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেট খেললেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এখনো পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে অবকাঠামো ও সুযোগ–সুবিধা বাড়ানোর বিকল্প নেই। আশরাফুলের মতে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্ধ হয়ে থাকা টেস্ট ভেন্যুগুলো পুনরায় চালু করা এবং খেলাধুলাকে ঢাকাকেন্দ্রিকতা থেকে বের করে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়াই এখন সময়ের দাবি।
শুধু ক্রিকেট নয়, দেশের সামগ্রিক ক্রীড়া ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তনের প্রত্যাশা জানানো হয়েছে বিভিন্ন ফেডারেশনের পক্ষ থেকে। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন–এর মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান মনে করেন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও পেশাদার ক্রীড়া প্রশাসন গড়ে তুলতে পারলে দেশের খেলাধুলায় ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকারের অধীনে ক্রীড়াবান্ধব কমিটি গঠিত হলে পরিকল্পিত উন্নয়ন সম্ভব হবে এবং দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা ফেডারেশন নির্বাচনেরও সমাধান মিলবে।
একই সুর শোনা গেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন–এর সহসভাপতি ফাহাদ করিমের বক্তব্যে। তাঁর মতে, ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত পরিবেশ, পর্যাপ্ত মাঠ ও স্টেডিয়াম এবং স্কুল পর্যায় থেকেই খেলাধুলার বিস্তার।
অন্যদিকে ব্যাডমিন্টন, হকি, হ্যান্ডবল, বক্সিং ও ভলিবল ফেডারেশনগুলোর কর্মকর্তারাও খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির জন্য আর্থিক সহায়তা, বিদেশি কোচ নিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তাদের মতে, নিয়মিত অনুশীলন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
সব মিলিয়ে নতুন সরকারের সামনে ক্রীড়াঙ্গনের বার্তা স্পষ্ট—অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার বিস্তার নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ কেবল অংশগ্রহণকারী নয়, বিশ্বমঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে। আর সেই স্বপ্নই এখন দেখছেন আশরাফুলসহ দেশের ক্রীড়ামহল।
