নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
৮০৭ দিনের হাহাকার শেষে আবার তিন অঙ্কে ফিরলেন বাবর আজম। দীর্ঘ সেঞ্চুরিখরা ভাঙতেই তিনি যেন নিজের ভেতরের জমে থাকা কথাগুলো উজাড় করে দিলেন—’কঠিন সময়েই আসল বন্ধু চেনা যায়।’
রাওয়ালপিন্ডি স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাবরের ব্যাট যেন আবার পরিচিত ছন্দে। ১১৯ বল মোকাবিলা করে অপরাজিত ১০২ রানে পাকিস্তানকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন তিনি। অপেক্ষার খাতা থেকে মুছে যায় ৮০৭ দিনের সেঞ্চুরি-তৃষ্ণা, আর তিন অঙ্কে পৌঁছে পাকিস্তানের কিংবদন্তি সাঈদ আনোয়ারের ওয়ানডে শতকের রেকর্ড স্পর্শ করেন তিনি।
এই সময়টায় বাবরকে ঘিরে নানা প্রশ্ন, সমালোচনা, ব্যর্থ ইনিংসের ভার—সব মিলিয়ে সময়টা ছিল কঠিন। মাঝের সময়টায় ২০টি ফিফটি থাকলেও তিন অঙ্ক যেন দূরের কোন দুর্গ ছিল। কিন্তু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গণিত বদলে গেল।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাবর আবেগミশ্রিত কণ্ঠে বলেন,
“কঠিন সময়ে কারা পাশে থাকে, তখনই বোঝা যায়। পাকিস্তানের ভক্তরা আমাকে কখনও একা ফেলেনি, এটাই সবচেয়ে বড় শক্তি।”
চাপের ম্যাচে ১০ম ওভারে নেমে বাবর শুরুটা করেন যথেষ্ট সতর্কভাবে। শুরুর ঝড় থামিয়ে একপ্রান্ত ধরে রেখে ধীরে ধীরে ইনিংস সাজান। যখন তার রান নব্বই ছাড়ায়, পুরো গ্যালারিতে ততক্ষণে হালকা উত্তেজনা। ব্যাটারও বুঝতে পারছিলেন, সামনে থাকা কয়েকটা রানই তার দুই বছরের দীর্ঘ ক্ষুধার ইতি ঘটাতে পারে।
অবশেষে মাদুশানের ছোট লেংথ বল অন-সাইডে ঠেলে এক রান নেওয়ার পরই মিলল অপেক্ষার পুরস্কার। মাথা নিচু করে হাঁটু গেড়ে নীরব উদযাপন—এমন মুহূর্তে আবেগ চাপা রাখা সহজ নয়।
এরপর নিজের ভেতরে চলা লড়াইয়ের কথা জানিয়ে বাবর বলেন,
“সময়টা অত্যন্ত কঠিন ছিল। কিন্তু নিজের ওপর বিশ্বাস হারাইনি। কোথায় উন্নতি দরকার—ওখানে মনোযোগ দিয়েছি। ফিটনেস, মানসিক স্থিরতা সবকিছু নিয়েই কাজ করেছি।”
তিনি আরও যোগ করেন—
“নেতিবাচকতায় ডুবে থাকা খুব সহজ। আপনি ভাবতেই পারেন কেন এসব হচ্ছে। কিন্তু পরিকল্পনায় অটল থাকতে হয়। বিশ্বাস রাখতে হয়, পরিশ্রমের পুরস্কার একদিন আসবেই।”
দীর্ঘ ব্যর্থতার পর সেঞ্চুরির স্বাদ পাওয়া বাবর জানালেন, রান এলেই আত্মবিশ্বাস অন্য মাত্রায় পৌঁছে যায়।
“এটা শুধু রান নয়, বিশ্বাসের ব্যাপার। নিজের কাজটা ঠিকমতো করলে ফল আসবেই—এই জায়গাটাই ধরে রেখেছি।”
কঠিন সময়ের গ্লানি সরিয়ে নতুন পথচলায় পাকিস্তান আবার পেয়েছে তাদের ব্যাটিং-স্তম্ভকে। আর বাবরও যেন সেই পুরোনো দৃঢ়তায় ফিরলেন—যে দৃঢ়তা তাঁকে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটার বানিয়েছে।
