নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
আফগানিস্তানের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশের পর দেশে ফেরার পথে যে অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিলেন নাঈম শেখ, তাওহীদ হৃদয় ও অন্যান্য ক্রিকেটাররা— সেই ঘটনাই নাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি)। বিমানবন্দরে ক্রিকেটারদের প্রতি অশালীন আচরণ এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকিমূলক পোস্ট ছড়িয়ে পড়ায় এবার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে বোর্ড।
বিসিবির এক পরিচালক জানিয়েছেন, এই দুই ঘটনার তদন্তে ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “বিমানবন্দরের ঘটনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া হুমকির বিষয়টি বিভিন্ন বাহিনীর নজরে আনা হয়েছে। সরকারও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।”
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ দিয়ে বের হওয়ার সময় জাতীয় দলের কয়েকজন ক্রিকেটারকে লক্ষ্য করে দর্শকদের একাংশের অশালীন স্লোগান ও গালিগালাজ ভিডিও আকারে ছড়িয়ে পড়ে অনলাইনে। কেউ কেউ ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে দিতে গাড়ির একদম কাছে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাসকিন আহমেদ থেকে শুরু করে নাঈম শেখ— কারও গাড়িই সে সময় নিরাপদ ছিল না।
এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও উদ্বেগজনক একটি পোস্ট ভাইরাল হয়, যেখানে মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের ম্যাচ দেখতে আসা দর্শকদের ওপর হামলার হুমকি দেওয়া হয়। ওই পোস্টে লেখা ছিল, “মিরপুরের কিছু ভাই ব্রাদার মিলে একটা টিম গঠন করছি, যারা মাঠে এই দলের খেলা দেখতে আসবে, তাদের শায়েস্তা করব।” এমনকি ‘বেধড়ক মার খেলে বা আহত হলে মিরপুরবাসী দায় নেবে না’— এমন মন্তব্যও করা হয়।
বিসিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য শুধু ক্রিকেটারদেরই নয়, সাধারণ দর্শকদের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি তৈরি করে। তার ভাষায়, “খেলার ফল খারাপ হতে পারে, সমালোচনাও হবে— সেটি স্বাভাবিক। কিন্তু পরিবারসহ খেলোয়াড়দের হেনস্তা করা বা দর্শকদের ভয় দেখানো কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা চাই স্টেডিয়াম ক্রিকেটার ও দর্শক— সবার জন্য নিরাপদ থাকুক।”
আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজকে সামনে রেখে তাই নিরাপত্তা জোরদারে বিসিবি ইতোমধ্যেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। বোর্ডের অবস্থান স্পষ্ট— ক্রিকেট মাঠে কেউ বিশৃঙ্খলা তৈরি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
