নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাধারণ পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ৬ অক্টোবর। এর আগে একের পর এক জটিলতায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে এ নির্বাচন। সর্বশেষ বড় ধাক্কা দিলেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। আইনি জটিলতা ও সরকারী হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে তিনি নির্বাচনী দৌড় থেকে সরে দাঁড়ালেন। শুধু তিনিই নন, আরও ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।
আজ মনোনয়ন প্রত্যাহার করা প্রার্থীরা হলেন— রফিকুল ইসলাম বাবু (ইন্দিরা ক্রীড়াচক্র), মাসুদুজ্জামান (মোহামেডান), সাঈদ ইব্রাহীম আহমেদ (ফেয়ার ফাইটার্স), মির হেলাল (চট্টগ্রাম জেলা), সৈয়দ বুরহান হোসেন পাপ্পু (তেজগাঁও ক্রিকেট একাডেমি), ইসরাফিল খসরু (এক্সিউম ক্রিকেটার্স), সাব্বির আহমেদ রুবেল (প্রগতি সেবা সংঘ), তৌহিদ তারেক (পাবনা), অসিফ রাব্বানী (শাইনপুকুর), সিরাজ উদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর (ক্যাটাগরি-৩) এবং ইয়াসির আব্বাস (আজাদ স্পোর্টিং)।
এর আগে তামিম অভিযোগ তুলেছিলেন, বিসিবি নির্বাচনে সরকারী প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে প্রাথমিক ভোটার তালিকা থেকে ১৫টি ক্লাব বাদ পড়ায় তিনি প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। যদিও পরে চূড়ান্ত তালিকায় ক্লাবগুলো জায়গা পেলেও, বিসিবির সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদের করা এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত রায় দেন— তৃতীয় বিভাগ বাছাই থেকে উঠে আসা বিতর্কিত ১৫টি ক্লাব ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে না।
ফলে এই ক্লাবগুলো নির্বাচন থেকে ছিটকে যায়। এর পর থেকেই সংগঠক ও প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। জানা গেছে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে অন্তত ১০-১২টি ক্লাবের প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
তফসিল অনুযায়ী, আজই ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। এদিন নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকাও প্রকাশ করবে। এদিকে রাতেই জরুরি বৈঠকে বসেছেন সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলোর প্রতিনিধিরা, যেখানে পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।
আদালতের নির্দেশে এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না এক্সিউম ক্রিকেটার্স, ঢাকা ক্রিকেট একাডেমী, মোহাম্মদ ক্রিকেট ক্লাব, নবাবগঞ্জ ক্রিকেট কোচিং একাডেমী, পূর্বাচল স্পোর্টিং ক্লাব, গুলশান ক্রিকেট ক্লাব, ওল্ড ঢাকা ক্রিকেটার্স, ভাইকিংস ক্রিকেট একাডেমী, বনানী ক্রিকেট ক্লাব, নাখালপাড়া ক্রিকেটার্স, মহাখালী ক্রিকেট একাডেমী, ধানমন্ডি ক্রিকেট ক্লাব, প্যাসিফিক ক্রিকেট ক্লাব, স্যাফায়ার স্পোর্টিং ক্লাব ও আলফা স্পোর্টিং ক্লাব।
সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের একের পর এক সরে দাঁড়ানোয় এবার বিসিবি নির্বাচনের পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠল।
