নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
বাংলাদেশ ক্রিকেটে ঝড় তুলেছে নতুন এক বিতর্ক। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা তারকা সাকিব আল হাসানকে জাতীয় দলের হয়ে আর খেলতে দেওয়া হবে না—এমন ঘোষণা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসিফ ও সাকিবের পাল্টাপাল্টি পোস্টে আগুনে ঘি পড়েছে।
মূলত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানানোকে কেন্দ্র করে এ বিতর্কের শুরু। রবিবার সাকিব নিজের ফেসবুকে শুভেচ্ছা বার্তা দেন শেখ হাসিনাকে। এর পরই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান আসিফ মাহমুদ। তাঁর অভিযোগ, সাকিব এখনও আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, আর সেটির প্রমাণ মিলেছে এই পোস্টে। তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিসিবিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে যাতে সাকিব আর কখনো দেশের হয়ে খেলতে না পারেন।
আসিফ চ্যানেল টোয়েন্টিফোরকে বলেন, “তাকে বাংলাদেশের পতাকা বহন করতে দেয়া যাবে না। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তোলা তার জন্য আর সম্ভব নয়। বিসিবির প্রতি আমার স্পষ্ট নির্দেশনা থাকবে—সাকিব আল হাসানকে জাতীয় দলে আর দেখা যাবে না।”
অন্যদিকে, সাকিব নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন, তাঁর শুভেচ্ছা জানানো ছিল কেবল ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গা থেকে, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়। সাকিবের ভাষ্য, “সে (শেখ হাসিনা) তো খেলাধুলার সঙ্গে সবসময়ই জড়িয়ে ছিলেন, ক্রিকেট ফলো করেছেন। সেই জায়গা থেকে আমি শুভেচ্ছা জানিয়েছি। অন্য কোনো উদ্দেশ্য, কাউকে ইঙ্গিত—এমন কিছুই ছিল না।”
এদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যেই সাকিবের বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে নতুন কমিটি গঠন করেছে। ফলে মাঠের বাইরের এই জটিলতা তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে বড় ধাক্কা দিতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
যদিও বিসিবি এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে আসিফের বক্তব্য প্রকাশের পর ক্রিকেটাঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। সমর্থক ও বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, রাজনৈতিক বিষয়কে টেনে এনে দেশের সবচেয়ে সফল ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা হলে সেটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য বড় ক্ষতি হবে। আবার অন্য অংশের মতে, জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তোলার আগে ব্যক্তির রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়।
সব মিলিয়ে, সাকিবের ভবিষ্যৎ এখন ঝুলে আছে বিসিবি ও সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর। একদিকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার, অন্যদিকে রাজনৈতিক টানাপোড়েন—কোনটি প্রাধান্য পাবে, সেটিই এখন কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু।
