নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
শেয়ারবাজার থেকে অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটার ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে অতিরিক্ত সময় পেল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার নির্ধারিত তারিখে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ নতুন তারিখ হিসেবে ২৬ নভেম্বর ধার্য করেছেন।
মামলার অপর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক আবুল খায়ের, তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসানসহ আরও কয়েকজন। দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র গঠন করে তারা নির্দিষ্ট শেয়ারে ধারাবাহিক ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রলুব্ধ করত। এতে বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগকারী ক্ষতির মুখে পড়েন এবং অভিযুক্তরা প্রায় ২৫৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আবুল খায়েরের নামে থাকা ১৭টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৫৪২ কোটিরও বেশি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে। এসব অর্থের একটি অংশ তার স্ত্রী কাজী সাদিয়ার সহায়তায় বিভিন্ন খাতে স্থানান্তর করা হয়, যা মানিলন্ডারিংয়ের আওতায় পড়ে।
শুধু তাই নয়, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সসহ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার কারসাজির মাধ্যমে সাকিব আল হাসানও সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে দুদকের দাবি। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এই কারসাজিতে সক্রিয় অংশ নিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রতারণার মাধ্যমে প্রলুব্ধ করেন তিনি এবং প্রায় তিন কোটি টাকা মূলধন লাভ হিসেবে উত্তোলন করেন।
প্রসঙ্গত, গত বছর পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি একই কারণে সাকিবকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করেছিল। সেই সময় এই চক্রের আরও কয়েকজনকে জরিমানা করা হয়।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের মনোনয়নে মাগুরা থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদে গিয়েছিলেন সাকিব। তবে গত আগস্টে সরকারের পতনের সময় তিনি কানাডায় ছিলেন এবং এরপর থেকে দেশে ফেরেননি। তার বিরুদ্ধে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি ছাড়াও হত্যা, জুয়া ব্যবসা, স্বর্ণ চোরাচালান ও সম্পদ গোপনের অভিযোগে তদন্ত চলছে।
