জাতীয় দলকে কোচিং করানোর স্বপ্ন দেখেন সাবেক অধিনায়ক রাজিন সালেহ-

নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »

বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমানে কোচিং পেশায় নিযুক্ত “রাজিন সালেহ” সম্প্রতি নিউজক্রিকেট টুয়েন্টিফোরের সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের ক্রিকেট জীবনের নানা দিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। তিনি তাঁর সিলেট ডিভিশনের হেড কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া,খেলোয়াড় জীবনের স্মরণীয় মুহূর্ত, ক্যারিয়ারের শুরু এবং কোচিংয়ে আসার সিদ্ধান্তের পেছনের গল্প শেয়ার করেছেন নিউজক্রিকেটের সাথে।

এছাড়াও, একান্ত এই সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান ক্রিকেট ও তাঁর সময়ে ক্রিকেটের পার্থক্য, কোচিংয়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বিষয়, বয়সভিত্তিক ক্রিকেট কাঠামোর মূল্যায়ন, বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তন, স্বপ্নের “আইডিয়াল টিম” গঠন, দেশি বনাম বিদেশি কোচের দৃষ্টিভঙ্গি, আগামী পাঁচ বছরে দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ এবং ব্যক্তিগতভাবে জাতীয় দল বা নির্দিষ্ট কোনো দলের কোচ হওয়ার ইচ্ছার কথাও তুলে ধরেছেন।

নিম্নে রাজিন সালেহের দেওয়া সাক্ষাৎকারটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

প্রশ্ন: বরাবরের মতো সিলেট ডিভিশনে এইবারও আপনি আপনার জন্মস্থান সিলেটের হেড কোচের ভূমিকায় থাকছেন।মুশফিকুর রহিমের মতো বিশ্বমানের ব্যাটার আছে  এবার আপনার দলে। এবারের এনসিএলে আপনার সিলেট টিম নিয়ে প্রত্যাশা কি?

রাজিন সালেহ: আলহামদুলিল্লাহ, আমি প্রায় পাঁচ বছর ধরে সিলেট ডিভিশনে হেড কোচের দায়িত্ব পালন করছি।এই নিয়ে ছয় বছর।নিজের জন্মস্থানের হয়ে কাজ করাটা বরাবরের মতোই আমার কাছে সম্মানের।

আপনি মুশফিকের কথা বললেন! হ্যাঁ, মুশফিকুর রহিমের মত বিশ্বমানের ব্যাটসম্যানকে আমাদের দলে পাওয়াটা সত্যিই আমাদের সিলেট ডিভিশনের জন্য ভাগ্যের ব্যাপার। মুশফিকের ২১ বছরের অভিজ্ঞতা আছে।নিঃসন্দেহে আমাদের তরুণ ক্রিকেটাররা মুশফিকের সাথে একসাথে ড্রেসিং রুম শেয়ার করে অনেক কিছু শিখতে পারবে।সবমিলিয়ে আমাদের দলের জন্য এবং সিলেট ডিভিশনের তরুণদের জন্য মুশফিককে সাথে পাওয়াটা সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার।

প্রত্যাশার কথা যদি বলতে যাই, আপনি নিশ্চয়ই জানেন গত আসরেও আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। তাই খুব স্বাভাবিক এই আসরেও আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই লড়বো।বাকীটা আল্লাহর ইচ্ছা। আল্লাহ যদি তকদিরে রাখে, ইনশাআল্লাহ আমরা ভালো কিছু উপহার দেব। চ্যাম্পিয়ন হওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

প্রশ্ন: আপনার ক্রিকেটে যাত্রাটা কিভাবে শুরু হয়েছিল?

রাজিন সালেহ: আমি ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট খেলতাম, ক্রিকেটকে ভালবাসতাম। যখন আমি ক্লাস এইটে পড়তাম, আমার বড় ভাই তখন প্রফেশনাল ক্রিকেট প্লেয়ার ছিলেন। আমার বড় ভাই নাসিরুল্লাহ আলম নাহিদ,উনি ফরমাল ন্যাশনাল ক্রিকেটার ছিলেন। উনি নির্মাণ স্কুল ক্রিকেট টিমেও খেলতেন। উনি তখন আমাকে মাঠে উনার সাথে প্র্যাকটিসে নিয়ে আসতেন।সেখানকার কোচ,ক্যাপ্টেন সবাই আমাকে পছন্দ করেছিলেন আমার ফিল্ডিং স্কিলের জন্য।আমি তখন ভালো ফিল্ডিং করতাম। মূলত ভালো ফিল্ডার হিসেবেই তখন আমি দলে সুযোগ পাই। আসলে এভাবে আমা যাত্রাটা শুরু হয়েছিল। আমার বড় ভাই আমার ক্রিকেটার হওয়ার পিছনে অনেক শ্রম দিয়েছেন, অনেক কষ্ট করেছেন। উনার অবদান কখনোই ভুলা যাবে না। এছাড়াও আমার স্কুলের প্রধান শিক্ষক মানস বাবু স্যার,উনার প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ। উনি আমাকে অনেক সাহায্য করতেন খেলার জন্য। খেলার জন্য আমি অনেক সময় ক্লাস করতাম না, এ বিষয়গুলো তিনি সেক্রিফাইস করতেন।আমাদের স্পোর্টস টিচার ছিলেন দিপাল বাবু স্যার, উনিও আমাকে অনেক অনেক হেল্প করেছেন। আমার কাছে তখন প্রফেশনাল ভালো মানের ক্রিকেটীয় সরঞ্জাম ছিল না।তিনি আমাকে স্কুল থেকে ব্যাট,ক্যাডস ও অন্যান সরঞ্জাম দিয়ে সাহায্য করতেন। আরেকজন ব্যক্তির নিকট আমি কৃতজ্ঞ, তিনি হচ্ছেন আরমান ভাই, তিনি ফর্মার আম্পায়ার ছিলেন। তিনিই প্রথমবারের মতো আমাকে সেকেন্ড ডিভিশনে খেলার সুযোগ করে দিয়েছিলেন স্টার ইউনাইটেড ক্লাবের হয়ে খেলার জন্য।তখন তিনি আমাকে বলেছিলেন, তুমি যদি এখানে ভালো করতে পারো তাহলে সামনে আরো ভালো ভালো জায়গায় সুযোগ পাবে। স্টার ইউনাইটেড ক্লাবে সুযোগ পাওয়ার পর,আমার বড় ভাই আমাকে বলেছিলেন,তুমি যদি এখানে ভালো করতে পারো, তাহলে আমি তোমাকে ঢাকায় নিয়ে কোয়ালিফাই খেলাবো।সেবার আমি লীগে চারটি হাফ সেঞ্চুরি করেছিলাম। এরপর আমার বড় ভাই আমাকে ঢাকা নিয়ে যান কোয়ালিফাই খেলার জন্য।

ঢাকায় আসার পর আমার শ্রদ্ধেয় কোচ দিপু রায় চৌধুরী স্যার আমাকে তার টিমে খেলার সুযোগ করে দেন। সেখানেও আমি আল্লাহর রহমতে ভালো পারফর্ম করি।এরপর আমি অনূর্ধ ১৬ ক্যাম্পে ডাক পাই। সেখানে আমি ৪০০ জন ক্রিকেটারের সাথে কম্পিটিশন করে অনুর্ধ্ব- ১৬ দলে জায়গা করে নিতে সক্ষম হই।এরপর আলহামদুলিল্লাহ আমাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আমার বড় ভাই, দিপু রায় চৌধুরী স্যার ও আনোয়ার স্যারের কল্যাণে আমি এরপর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে অগ্রণী ব্যাংকের হয়ে খেলার সুযোগ পাই। এরপর সেখান থেকে জাতীয় দল। সব মিলিয়ে আমার যাত্রাটা এমনই ছিল।

প্রশ্ন: ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় ম্যাচ বা মুহূর্ত কোনটা?

রাজিন সালেহ: আমার লাইফের সবচাইতে স্মরণীয় ম্যাচ ও মুহূর্ত হিসাবে আমি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আমাদের ঘরের মাঠে দুই ম্যাচের একটি টেস্ট সিরিজকে এগিয়ে রাখবো। কারণ, তখন আমাদের বলা হয়েছিল যদি আমরা এই সিরিজ হেরে যাই তাহলে আমাদের টেস্ট স্ট্যাটাস কেড়ে নেওয়া হবে আইসিসি থেকে।ওই সিরিজটি আমাদের জন্য জীবন মরণ লড়াই ছিল।আমি মনে করি ওই সিরিজটা আমার জন্য স্মরণীয়, কারণ ওই সিরিজে আমি উভয় ম্যাচে দলের জন্য অবদান রেখেছিলাম। প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে আমি ৯১ রান করেছিলাম।দ্বিতীয় ইনিংসে করেছিলাম ২৬ কিংবা ২৭। ওই ম্যাচটা আমরা জিতেছিলাম। দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে আমাদের ম্যাচটা ড্র করাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ে আমাদের জন্য ম্যাচটা কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। ওই সময়টায় পাইলট ভাই এবং আমি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা পার্টনারশিপ করেছিলাম। ওই ইনিংসে আমি সম্ভবত ৫৬ রান করেছিলাম। ম্যাচটা আমরা ড্র করে সেদিন সিরিজ জিতেছিলাম। তাই আমার কাছে মনে হয়, ওই সিরিজটাই আমার কাছে সবচেয়ে বেশি স্মরণীয় ম্যাচ ও মুহূর্ত।

প্রশ্ন: আপনার সময়ে ক্রিকেট আর এখনকার ক্রিকেট—মূল পার্থক্য কোথায় দেখেন?

রাজিন সালেহ: আমার সময়ের ক্রিকেট এবং বর্তমান সময়ের ক্রিকেটের মধ্যে পার্থক্য তো অবশ্যই আছে। আপনি যদি চিন্তা করেন আমাদের সময়ে হয়তো দুই তিন জন বা একজন ব্যাটসম্যান রান করতো।বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ দলকে দেখুন, ব্যাটসম্যানদের রান করার সক্ষমতা তূলনামূলক অনেক ভালো। এছাড়াও আমাদের যে পাঁচজন লিজেন্ডারি প্লেয়ার ছিলেন তারা নিয়মিত পারফর্ম করতেন। অবশ্যই বাংলাদেশ ক্রিকেট অনেক এগিয়েছে আর পার্থক্যটাও চোখে পড়ার মতো। যদিও টেস্ট ক্রিকেটে আমরা এখনো খুব একটা এগোতে পারেনি। আমি আশা করি আগামীতে টেস্ট ক্রিকেটেও আমরা উন্নতি করব।

প্রশ্ন: খেলোয়াড় থেকে কোচ হওয়ার সিদ্ধান্ত কিভাবে নিলেন?

রাজিন সালেহ: খেলোয়াড় থেকে কোচ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পিছনে যে দুটি মানুষের অবদান সব চাইতে বেশি তারা হলেন খালেদ মাহমুদ সুজন ভাই ও খালেদ মাসুদ পাইল ভাই। আমি যখন ক্রিকেট খেলতাম, বলতে গেলে ছোটবেলা থেকেই কোচিং এর প্রতি আমার একটা আলাদা ভালো লাগা কাজ করতো।কোচিং এর প্রতি ভালোলাগা থেকে আমি সিলেটে ইন্ডিভিজুয়েল একটি ক্রিকেট একাডেমিও করি। একাডেমির বর্তমান নাম হলো সিলেট সুরমা ক্রিকেট একাডেমি। একাডেমির পূর্ব নাম ছিল ক্লেমন সুরমা ক্রিকেট একাডেমি।মূলত এই একাডেমি থেকেই আমার ক্রিকেট কোচিং করানো শুরু।পাইলট ভাই এবং সুজন ভাই আমাকে সব সময় বলতেন তুমি অনেক পরিশ্রমী ও ক্রিকেটের প্রতি তোমার যে ভালোবাসা, তুমি কোচিংয়ে আসলে ভালো করতে পারবে।খালেদ মাসুদ পাইলট ভাই আমাকে তার ক্লেমন  ক্রিকেট একাডেমিতে কাজ করার সুযোগ দিয়েছিলেন। তিনি আমাকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠাতেন কাজ করার জন্য। আমার প্রতি তার আলাদা একটি বিশ্বাস ছিল, আমি আশা করি তার আস্থার প্রতিদান দিতে পেরেছি। সুজন ভাই আমাকে সব সময় বলতেন তুই কোচিং করা, তুই কোচিং করা। তুই কোচিংয়ে আসলে ছেলেরা তোর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবে। আমাকে কোচিং করানোর জন্য প্রথম জাতীয় লিগে সুযোগ করে দেন সুজন ভাই। এছাড়াও কোচিংয়ে পা দেওয়ার শুরু থেকেই সুজন ভাই আমাকে সব জায়গায় খুব আন্তরিকভাবে সাহায্য করেছিলেন। সব মিলিয়ে এই দুইজন ব্যক্তির অবদান ও কোচিং এর প্রতি আমার ভালোবাসা থেকেই মূলত এই কোচিং জগতে আসা সিদ্ধান্ত।

প্রশ্ন: কোচিংয়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী মনে হয় আপনার?

রাজিন সালেহ: কোচিংয়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল, যখন একজন কোচ হিসেবে আপনি একটি ছেলের দায়িত্ব নিবেন, তখন ওই ছেলেটাকে নিয়ে কাজ করে কিভাবে আপনি তার ব্যাটিং ইমপ্রুভ করাবেন। তাকে নিয়ে টেকনিক্যাল জিনিসগুলো নিয়ে কাজ করা এবং কাজ করার পর তাকে যখন পরীক্ষায় নামানো হয়, তখন দেখার বিষয় থাকে সে ঠিকঠাকভাবে শিখতে পেরেছে কিনা, তার উন্নতি হয়েছে কিনা।একজন ব্যাটিং কোচ হিসেবে এটা অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জ। যদিও আমি এটিকে খুব এনজয় করি।

 

প্রশ্ন: তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য আপনি কোন বিষয় গুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন?

রাজিন সালেহ: তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য টেকনিক্যাল বিষয় গুলো আমি বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। প্রথমে আমি দেখি ছেলেটি টেকনিকালি সাউন্ড কিনা।যদি দেখি যে তার টেকনিকে বড় ধরনের কোন সমস্যা না থাকে তাহলে টেকনিকালি আমি কোন পরিবর্তন আনতে চাই না।যদি আমি দেখি তার ছোটখাটো কোন ভুল পরবর্তীতে বড় আকার ধারণ করতে পারে, সে ভুলগুলো আমি শুধরে দেই। এছাড়াও ওর ভিতর প্রতিভা ও ঘাটতি গুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করি এবং কিভাবে ওকে আরো পরিপক্ব ভাবে গড়ে তোলা যায় সেটা নিয়ে আমি কাজ করি। আমার মূল চ্যালেঞ্জ থাকে ওর কাছ থেকে সেরা টুকু বের করে নিয়ে আসা।

 

প্রশ্ন: বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতির জন্য কী কী পরিবর্তন দরকার বলে মনে করেন?

রাজিন সালেহ: বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নতির জন্য অবশ্যই প্রত্যেকটা সেক্টরে আমাদের কাজের প্রতি আমাদের সৎ থাকতে হবে। আমরা যদি আমাদের জায়গায় সৎ থাকতে পারি, তাহলে আমাদের কাজগুলো আমাদের জন্য ইজি হবে। শুধু কোচ না, অফিশিয়াল, ম্যানেজমেন্ট, উপরমহলের ম্যানেজমেন্ট সহ সকল দায়িত্বশীলরা যদি নিজ নিজ কাজের প্রতি সৎ থেকে ঠিকঠাক ভাবে কাজ করেন তাহলে আমি মনে করি উন্নতি সম্ভব। এছাড়াও ডমেস্টিক ক্রিকেট গুলো অবশ্যই শুরু হওয়া উচিত।যত বেশি বেশি টুর্নামেন্ট হবে, ম্যাচ আয়োজন হবে তত বেশি ছেলেদের জন্য সুযোগ তৈরি হবে নিজেদের প্রমাণ করার জন্য।আপনি যতই কোচিং করান না কেন, যদি ওরা ম্যাচ খেলতে না পারে, ওদের সক্ষমতা প্রমাণের জন্য পরিক্ষা দেওয়ারই সুযোগ না থাকে তাহলে কোনভাবেই ওরা নিজেদের উন্নতি-অবনতি বুঝতে পারবে না। তাই আমি মনে করি ঢাকা কেন্দ্রিক না হয়ে প্রত্যকটি জেলায় ডমেস্টিক ক্রিকেটে আরও বেশি বেশি টুর্নামেন্ট ও ম্যাচ খেলার সুযোগ তৈরি করা গেলে নিঃসন্দেহে তরুণ প্রতিভাবান ক্রিকেটার বের করে আনা সম্ভব।

 

 

প্রশ্ন: আপনার স্বপ্নের “আইডিয়াল টিম” গঠনে কোন ধরণের খেলোয়াড় প্রয়োজন?

রাজিন সালেহ: আমার স্বপ্নের টিম গঠনের ক্ষেত্রে আমি মনে করি সিনিয়র-জুনিয়রের কম্বিনেশনে সুন্দর গুছানো একটা টিম হওয়া উচিত। আমি মনে করি টিমের প্রয়োজন অনুযায়ী যে প্লেয়াররা টিমওয়াইজ খেলতে পারে ওরাই আইডিয়াল প্লেয়ার একটি দলের জন্য আর আমি তাদেরই খুঁজি। আমার স্বপ্নের দল বানানোর ক্ষেত্রে আমি জুনিয়র ও সিনিয়র ক্রিকেটারদের সমন্বয়ে দল সাজাতে চাইবো।এই সিনিয়র জুনিয়রের কম্বিনেশনটা হবে এমন, এখানে খুব বেশি জুনিয়র কিংবা খুব বেশি সিনিয়র কিন্তু না। এতে করে জুনিয়ররা সিনিয়রদের কাছ থেকে শিখতে পারবে, সিনিয়রদের তত্বাবধানে থেকে ফ্রী ক্রিকেট খেলতে পারবে আর সিনিয়ররা তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জুনিয়রদের সাথে নিয়ে সুন্দর একটা টিম কম্বিনেশন নিয়ে আসতে পারবে।

 

প্রশ্ন: বিদেশি কোচ বনাম দেশি কোচ—আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী?

রাজিন সালেহ: ১০. সত্যি কথা বলতে কি, দেশী কোচ ও বিদেশি কোচের মধ্যে আমি কোন পার্থক্য দেখিনা।পার্থক্য যদি থাকে তাহলে একটাই, সেটা হচ্ছে ওরা ইংরেজিতে কথা বলে আর আমরা বাংলায় কথা বলি। এটা আমার কথা নয়, আপনি বিভিন্ন ক্রিকেটারকে জিজ্ঞেস করতে পারেন, ওরাও এমনটাই বলবে। এর বাইরে আমি দেশি- বিদেশি কোন পার্থক্য দেখি না।আপনি লক্ষ্য করলে দেখবেন দেশী কোচরা অনেক ভালো করছে এখন। আমি ব্যক্তিগত ভাবে উভয় কোচদের সক্ষমতায় কোন পার্থক্য দেখিনা।

 

প্রশ্ন: আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে কোথায় দেখতে চান?

রাজিন সালেহ: অবশ্যই আপনি, আমি আমরা সবাই চাই বাংলাদেশ ক্রিকেট আরও অনেক দূর এগিয়ে যাক। আগামী ৫ বছর পর যদি বাংলাদেশ ক্রিকেটের কথা বলেন তাহলে আমি স্বপ্ন দেখবো বাংলাদেশ বিশ্বকাপ জয় করুক, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপ জিতুক এবং টপ থ্রি টিমের একটি হোক।
আমি আশা করি এখন আমরা যে জায়গায় রয়েছি, আগামী ৫ বছর পর আমরা আরও সফল একটি দলে রুপান্তর হবো এবং ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি একটি দল হতে পারবো যদি আমাদের চেষ্টা ও লক্ষ্য অটুট থাকে ইনশাআল্লাহ আমরা পারবো।

প্রশ্ন: ব্যক্তিগতভাবে ভবিষ্যতে কোনো নির্দিষ্ট দল বা জাতীয় দলে কোচিং করার ইচ্ছে আছে কি?

রাজিন সালেহ: অবশ্যই দেশের হয়ে কাজ করাটা সবার জন্যই গর্বের। আমি যখন জাতীয় দলে ক্রিকেট খেলেছিলাম, তখনও আমি গর্বের সাথে খেলেছিলাম। তাই জাতীয় দলকে কোচিং করানোর স্বপ্ন তো অবশ্যই আছে। সুযোগ আসলে অবশ্যই আমি আমার দেশের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিবো।এছাড়াও নির্দিষ্ট কোন দল না, আমি চাইবো যেখানে ভালো সুযোগ পাবো, সেখানেই কাজ করার। আমি চাইবো নিজেকে আরও আপডেট করে নিতে এবং নিজের অভিজ্ঞতা বাড়াতে।অন্য সবার মতো আমিও স্বপ্ন দেখি একদিন জাতীয় দলকে কোচিং করাবো আর দেশের হয়ে আবারও কাজ রাখবো।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »