বিসিবির এইচপি দলের চট্টগ্রাম ক্যাম্প: ২–২.৫ কোটি টাকার ব্যয়, লক্ষ্য অর্জনে সংশয়-

নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »

চট্টগ্রামে দুই মাস ধরে চলা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) দলের ক্যাম্পে ব্যয় হয়েছে দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা। ক্যাম্পের মূল লক্ষ্য ছিল জাতীয় দলের জন্য প্রতিভাবান ক্রিকেটার বাছাই করা ও তাদের দক্ষতা উন্নত করা। কিন্তু দীর্ঘ ক্যাম্প শেষে প্রশ্ন উঠছে—এই বাজেট ও সময় দিয়ে কি সত্যিই প্রত্যাশিত লক্ষ্য পূরণ হয়েছে?

এইচপির প্রথম দফা ক্যাম্প চলেছিল ৩ মে থেকে ৩১ মে। তবে একই সময়ে চলছিল দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের সঙ্গে সিরিজ। এরপর দ্বিতীয় ধাপের ক্যাম্প শুরু হয় ১২ জুন থেকে শেষ হয় ১২ আগস্ট পর্যন্ত। এই দুই মাসের ক্যাম্পে মোট ৪০–৪৫ দিন ক্রিকেটাররা মূল মাঠে অনুশীলন করতে পারেননি। বর্ষার কারণে হোটেল জিম, সাঁতার ও ইনডোর ব্যাটিং-বোলিং সেশনেই সীমাবদ্ধ থাকতে হয়েছে।

চট্টগ্রামের ক্যাম্পে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সঙ্গে তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে এইচপি দল। জাতীয় দলের বাইরে থাকা সিনিয়র ক্রিকেটাররাও এই ম্যাচে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক সফর ও ভিসা, বিমান ভাড়া মিলিয়ে এইচপি দলের বাজেট থেকে খরচ হয়েছে ৩৫–৩৮ লাখ টাকা। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই খরচ দিয়ে উপমহাদেশের কোনো দেশে একটি আন্তর্জাতিক সিরিজ আয়োজন করলে ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা আরও বৃদ্ধি পেত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কোচের মন্তব্য অনুযায়ী, “এইচপি দলের জন্য যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। মাঠে অনুশীলন হলেও ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা ছাড়া খেলোয়াড়দের যথেষ্ট উন্নতি দেখা যায় না। জাতীয় দলের বাইরে থাকা খেলোয়াড়দের ম্যাচে অন্তর্ভুক্তি মূল ক্রিকেটারদের সুযোগ সীমিত করেছে।”

চলতি অর্থবছরের এইচপি দলের বাজেট প্রায় ১২ কোটি টাকা। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ক্যাম্পের ব্যয় দুই–আড়াই কোটি, মোট বাজেটের এক চতুর্থাংশ। কিন্তু অনুশীলন ও ম্যাচের বাস্তব অভিজ্ঞতা মিলিয়ে লক্ষ্য পূরণে সংশয় দেখা দিয়েছে। নভেম্বরে এশিয়ান গেমসে এইচপি দলের ক্রিকেটাররা অংশ নেবে, সেখানে তাদের প্রস্তুতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

এইচপি দলের ক্যাম্পের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করছে, পর্যাপ্ত বাজেট থাকলেও ম্যাচের অভাব এবং আবহাওয়ার সীমাবদ্ধতা দক্ষতা উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »