নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ফ্র্যাঞ্চাইজি চিটাগং কিংসের কাছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এখন প্রায় ৪৬ কোটি টাকা দাবির মুখে। বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, তিনটি আসরের বিভিন্ন প্রাপ্য—ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি, আয়কর ও খেলোয়াড় ও স্টাফদের বকেয়া পারিশ্রমিক—মিলিয়ে চিটাগং কিংসের মোট দেয় রয়েছে ৩৭ লাখ ৮২ হাজার ১৫৬ মার্কিন ডলার, যা বর্তমান বিনিময় হারে প্রায় ৪৬ কোটি টাকা।
২০১২ ও ২০১৩ সালের বিপিএলের পর শুরুকার সময় থেকেই একাধিক অভিযোগে জড়ায় চিটাগং কিংস। চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের কারণে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি খেলায় অংশগ্রহণ থেকে দূরে রাখা হয়েছিল, তবে প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর গত বছর আবার মাঠে ফিরেছিল। সে সময় বোর্ড জানিয়েছিল, পুরনো পাওনা সমাধানের জন্য ছাড়সহ সমঝোতা হয়েছে। কিন্তু পরস্পর হিসাব মিলিয়ে সেই অর্থও আদায় হয়নি বলেই অভিযোগ বিসিবির।
বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৭ মে সালিশি নোটিশ দিয়ে শুরু হয় আইনি পথচলা, এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২২ জুলাই চুক্তি বাতিল করে পুরনো পাওনার সুদসহ পুরো পরিমাণ দাবি করে বোর্ড। দাবিকৃত অর্থের মধ্যে রয়েছে মূল টাকা ১৫ লাখ ৫০ হাজার ৬৫ ডলার ও সুদ বাবদ ২২ লাখ ৩২ হাজার ৯২ ডলার। বোর্ড জানিয়েছে, ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যবৃদ্ধির কারণে হিসাবেও সেই পরিবর্তন প্রতিফলিত হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে চিটাগং কিংসের মালিক সামির কাদের চৌধুরী এ ব্যাপারে বলেন, “৪৫-৪৬ কোটি টাকার হিসাব আমি বুঝতেই পারছি না। বিসিবির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করতে চাই।”
তবে শুধু পুরনো ছিল না সমস্যা, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আসরেও ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ, হোটেল ও অন্যান্য সেবা প্রদানকারীদের প্রতি যথাযথ অর্থায়ন না হওয়া পরেও বিসিবির কাছে অভিযোগ ও নোটিশ পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে বোর্ড এবারে ছাড় দিতে নারাজ—সেটি স্পষ্ট করেছে চুক্তি বাতিল করে পুরো টাকা দাবি করে।
এই মাইল ফ্রন্ট পেজের এই দাবি ও বিতর্ক—বিপিএলের মাঠছাড়া যুদ্ধ, যা শুধু খেলায় নয়, প্রশাসনিকভাবে ও আর্থিকভাবে বিসিবিকে সজাগ করে তুলেছে।
