নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
দেশের ক্রিকেটের বাঁক বদলে যাদের অবদান রয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম একজন তিনি। ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফির ফাইনালে শেষ বলে এক রানের জন্য শান্তর যে ঐতিহাসিক দৌড়, তা আজও বাঙালির হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থান করে আছে। ঐতিহাসিক সেই জয়ের ফলে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলার পাশাপাশি টেস্ট মর্যাদা পায়।
আইসিসি ট্রফির ফাইনাল ম্যাচ, লাস্ট বলে প্রয়োজন ১ রান। বাঙালি ক্রিকেট ভক্তরা তাকিয়ে আছে একজনের দিকে। পারবে কি একটা রান নিয়ে দলকে আনন্দে ভাসাতে। অপর প্রান্তে ছটফট করছেন সেট ব্যাটসম্যান খালেদ মাসুদ পাইলট। বল হল কিন্তু ব্যাটে বলের সংযোহ হয় নি। কিন্তু তাতে কি দেশের জন্য একটা রান প্রয়োজন। থেমে থাকলে চলবে না, সতীর্থে ডাকে সাড়া দিয়ে ছুটলেন অদম্য গতিতে, পার হলেন ২২ গজের শেষ সীমানা। কি করলেন তিনি হয়তো বুঝতে পারেন নি। কিন্তু গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের মুখে বাংলাদেশ, বাংলাদেশ চিৎকার তার কানে ঠিকই বেঝেছিল মধুর শুরে। হ্যা বলছি ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফির হিরো হাসিবুল শান্তর কথা।
বাংলাদেশের ক্রিকেটের শুরুর দিককার ‘পোস্টার বয়’ হাসিবুল হোসেন শান্ত। তার সেই ঐতিহাসিক দৌড় প্রতিটি বাংলাদেশ সমর্থক ও ভক্তর স্মৃতিতে ভাস্বর। হাসিবুল শান্তর নাম উচ্চারিত হলেই সবার চোখে ভেসে ওঠে সেই ঐতিহাসিক ছবি। সমর্থকদের মনে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিয়েছেন শান্ত। তার নামটি এখনও সবার মনের আয়নায় জ্বলজ্বল করছে।
তার মূল পরিচয় তিনও বাংলাদেশের একজন পেস বোলার। বাংলাদেশ জাতীয় দলের জার্সি গায়ে খেলা পেসারদের ভেতরে অন্যতম সেরা পেসার। পরিসংখ্যান এবং রেকর্ড দিয়ে সব সময় সবাইকে বিচার করা জায় না। হাসিবুল ইসলাম শান্ত তেমনই একজন।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম ওভার বোলিং করেছেন শান্ত। নিজিল্যান্ডের বিপক্ষে তার সেই ওভারটিতে ৬টি বল ডট ছিল। তবে একটি ওয়াইড থাকায় হয়নি অভিষেক ওভারে মিডেন দেওয়ার বিশ্ব রেকর্ড।
২০০১ সালে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টে স্টাইক বোলার হিসেবে খেলতে নেমেছিলেন শান্ত। তিনিই করেছিলেন দেশের হয়ে প্রথম টেস্ট বল। মাশরাফি বিন মর্তুজার আগমনের আগে তিনিই ছিলেন বাংলাদেশ স্পিড স্টার।
তাকে একবার জিগ্যেস করা হয়েছিল আপনি কেন বোলার হয়েছেন।জবাবে শান্ত বলেছিলেন, ব্যাটসম্যান হলে, অনেক কিছু বহন করতে হয়, ব্যাট, প্যাড, গ্লোবস। বোলার হলে সেটার প্রয়োজন নেই।
তিনি আরও বলেছিলেন, আগে ক্রিকেট বলকে সবাই কাঠের বল বলত। বল গায়ে লাগলে ব্যাথা লাগত। যেটা ব্যাটসম্যান ভোগ করতেন। আমি চেয়েছি, আমি ব্যাথা পাব কেন, আমি অন্যকে ব্যাথা দিব( হাসি)
১০ বছরের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৩২টি ওয়ানডে ম্যাচে ২৯ উইকেট নিয়েছেন। ৬ টেস্টে নিয়েছেন ৫ উইকেট। শান্ত বাংলাদেশ ইতিহাসের অন্যতম একজন সেরা পেসার। তিনি যখন খেলেছেন তখন বাংলাদেশ খুব কম ম্যাচ খেলার সুযোগ পেতেন। যার কারনে ক্যারিয়ার সুদীর্ঘ নয়।
আগেই বলেছি পরিসংখ্যান দিয়ে সবাইকে বিচার করা জায় না। জন্মদিনে শুভ কামনা রইলো হাসিবুল ইসলাম শান্তর জন্য।
৩ জুন ১৯৭৭ সালের আজকের দিনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন হাসিবুল ইসলাম শান্ত। আজ তার ৪৮ তম শুভ জন্মদিন।
