নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
তীরে এসে তরী ডোবানোটা যেন দিন দিন বাংলাদেশ দলের অভ্যাসে পরিনত হয়েছে! আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি। চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভ এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শেষ ওভারের নাটকীয়তায় বাংলাদেশ হেরেছে ৫ রানে।
বৃষ্টিবিঘ্নিত এই ম্যাচে শেষ ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ২০ রান। শেষ ওভারে বাংলাদেশ ১৪ রানের বেশি তুলতে পারেনি।যার ফলে, ৫ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে সাকিব বাহিনী।
এই হারের মধ্য দিয়ে, চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার টুয়েলভ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেল বাংলাদেশের। এই হারের সঙ্গে সঙ্গে সেমির আশাও শেষ হয়ে গেল টাইগারদের। সুপার টুয়েলভে নিজেদের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে পাকিস্তানের।
অ্যাডিলেটে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে, লুকেশ রাহুল ও বিরাট কোহলির জোড়া অর্ধশতকে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮৪ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ দাড় করায় ভারত। ব্যাট হাতে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৪* রান করেন কোহলি। এছাড়াও লুকেশ রাহুলের ব্যাট থেকে আসে ঝড়ো ৫০ রান।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে হাসান মাহমুদের শিকার ৩ উইকেট এবং সাকিবের শিকার ২।
ভারতের ছুঁড়ে দেওয়া ১৮৫ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত করেছিল বাংলাদেশ। ২১ বলে অর্ধশতক তুলে নেওয়া লিটন দাসের কল্যাণে বাংলাদেশ বিনা উইকেটে ৭ ওভারে ৬৬ রান তুলে ফেলে। তবে এরপরেই অ্যাডিলেডের আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামায় খেলায় বিঘ্ন ঘটে।
কিছুক্ষণ বন্ধ থাকার পর আবার খেলা শুরু ওভার কমিয়ে নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। জয়ের জন্য টাইগারদের তখন ১৬ ওভারে করতে হবে ১৫১ রান। অর্থাৎ ৫৪ বলে আরও ৮৪ রান প্রয়োজন বাংলাদেশের।
বৃষ্টি বিরতির পর মাঠে নামার পর অষ্টম ওভারে দলীয় ৬৮ রানে ৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় ২৭ বলে ৬০ রান করা লিটন রানআউট হয়ে গেলে ছন্দ কেটে যায় বাংলাদেশের। এক ওভার পরেই ২১ রান করা শান্তও ফিরে চাপে পড়ে টাইগারারা।
জয়ের জন্য তখন সাকিব আর আফিফ হোসেনের দিকে তাকিয়ে ছিল বাংলাদেশ। তবে একাদশ ওভারে তিন বলের ব্যবধানে দুজনই সাজঘরে ফিরে যান। পরের ওভারে ইয়াসির আলি ও মোসাদ্দেক হোসেন তাদের পথ অনুসরণ করলে হারের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।
তবে বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েও জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহান ও তাসকিন আহমেদ। জয়ের জন্য শেষ দুই ওভারে ৩১ রান প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। হার্দিক পান্ডিয়ার করা ১৫তম ওভারে তাসকিন এক চার এবং এক ছয় মেরে আশা জাগিয়ে রাখেন। শেষ ওভারে জেতার জন্য ২০ রান দরকার ছিল টাইগারদের।
অর্শদীপ সিংয়ের করা শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে ছক্কা মারেন নুরুল হাসান। পঞ্চম বলে সোহানের মারা বাউন্ডারিতে শেষ বলে বাংলাদেশের দরকার ছিল ৭ রান। কিন্তু সোহান এক রানের বেশি নিতে না পারায় ৫ রানে জয় পায় ভারত।
সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ
ভারত – ১৮৪/৬ (২০ ওভার) (কোহলি ৬৪*, রাহুল ৫০) (হাসান ৩/৪৭)
বাংলাদেশ- ১৪৫/৬ (১৬ ওভার) (লিটন ৬০*, সোহান ২৫*)
ফলাফলঃ ভারত ৫ রানে জয়ী।
