নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আজ (রবিবার) ব্রিসবেনে মহাগুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে উড়তে থাকা জিম্বাবুয়েকে চরম নাটকীয় ভাবে ৩ রানে হারিয়েছে সাকিবরা।
শেষ ওভারের চরম নাটকীয়তার পরও ৩ রানের এই জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখল সাকিবরা। বর্তমানে টাইগারদের অবস্থান টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে।
বাংলাদেশের ছুড়ে দেওয়া ১৫১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে, শেষ ওভারে জয়ের জন্য ১৫ রান প্রয়োজন ছিল জিম্বাবুয়ের।মোসাদ্দেকের শেষ ওভারের প্রথম বলে ১ রান নেন রায়ান বার্ল। ওভারের দ্বিতীয় বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে আফিফের তালুবন্দি হয়ে ফিরে যান ব্রাড ইভান্স।ইভান্সের বিদায়ে জিম্বাবুয়ের সমিকরণ গিয়ে দাঁড়ায় ৪ বলে ১৪ রান।ইনিংসের ৩য় ও চতুর্থ বলে পরপর এক বাউন্ডারি ও এক ওভার বাউন্ডারিতে বাংলাদেশের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দেয় জিম্বাবুয়ে! শেষ দুই বলের জন্য জিম্বাবুয়ের সমিকরণ গিয়ে দাঁড়ায় ৫ রান।
ইনিংসের ৫ম বলে স্টাম্পিংয়ের শিকার হয়ে নারাভা ফিরে গেলে আবারো স্বস্তি ফিরে আসে বাংলাদেশ শিবিরে।ওভারের শেষ বল মুজারাবানী ব্যাটে লাগাতে ব্যর্থ হলে উইকেট কিপার সোহানের গ্লাভসবন্দী হয় বল।উল্লাসে ফেটে পড়ে গ্যালারী! বাংলাদেশের জয়! মাঠে উদযাপন বেঙ্গল ক্রিকেটারদেরও। কিন্তু তখনও যে ম্যাচের চরম নাটকীয়তা বাকী রয়েছে সেটাই বা কে জানতো!
ওভারের শেষ বলটি উত্তেজনার বশে স্টাম্পের আগে থেকে তালুবন্দি করে নো বলে রুপান্তর করে ফেলেন উইকেট কিপার নুরুল হাসান সোহান।
থার্ড আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে আবারো শেষ বল মোকাবিলা করতে মাঠে নামে জিম্বাবুয়ের শেষ দুই ব্যাটার।শেষ বলে জয়ের জন্য ৪ রান প্রয়োজন ছিল জিম্বাবুয়ের। তবে কোন ধরনের অঘটন না ঘটিয়ে শেষ বলটি ডট দিয়ে কষ্টার্জিত ৩ রানের জয় পায় বাংলাদেশ।
এর আগে দিনের প্রথম ম্যাচে টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নাজমুল হোসেন শান্তর অর্ধশতকের উপর ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫০ রান তোলে বাংলাদেশ।
নিজের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ-সেঞ্চুরির দিনে শান্তর ব্যাট থেকে আসে ৫৫ বলে ৭১ রানের ইনিংস।এছাড়াও আফিফ (২৯) ও অধিনায়ক সাকিব করেন ২৩ রান।
ব্যাট হাতে রানের খাতাই খুলতে পারেননি সৌম্য সরকার।লিটনের ব্যাট থেকে এসেছে ১২ রান।
রান আউটে কাঁটা পড়ে ১ রান করেই ফিরেই যান নুরুল হাসান সোহান।ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেনি মোসাদ্দেকও, ১০ বল খেলে ৭ রান করেন এই ব্যাটার। যার ফলে, বাংলাদেশের পূঁজি গিয়ে দাঁড়ায় ১৫০।
জয়ের জন্য ১৫১ রানের লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে তাসকিন-মোস্তাফিজের জোড়া আঘাতে শুরুটা ভাল হয়নি জিম্বাবুয়ের।রজিশ চাকাবাকে সঙ্গে নিয়ে ৩৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুকতে থাকা জিম্বাবুয়েকে সেই পরিস্থিতি থেকে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যান শন উইলিয়াম। চাকাবার বিদায়ের পর রায়ান বার্লকে সঙ্গে নিয়ে ৬১ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে চোখ রাঙানি দিচ্ছিল এই জুটি।এরই মধ্যে অর্ধশতক তুলে নেন উইলিয়াম। ইনিংসের ১৯তম ওভারে সাকিবের দারুণ ডিরেক্ট হিটে উইলিয়াম রান আউটে কাঁটা পড়লে আবারো ম্যাচে ফিরে আসে বাংলাদেশ। শেষ ওভারে নাটকীয়তার পর অবশেষে শেষ হাসিটা হাসলো বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে তাসকিনের শিকার ৩ উইকেট। এছাটাও, মোস্তাফিজ ও মোসাদ্দেক নেন দুটো করে উইকেট। এই জয়ে সেমিফাইনাল খেলার আশা এখনো টিকে রইলো টাইগারদের।
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড-
বাংলাদেশ : ১৫০/৭ (২০ ওভার)
শান্ত ৭১, আফিফ ২৯
মুজারাবানি ২/১৩, এনগারাভা ২/২৪
জিম্বাবুয়ে : ১৪৭/৮ (২০ ওভার)
উইলিয়ামস ৬৪, বার্ল ২৭
তাসকিন ৩/১৯, মুস্তাফিজ ২/১৫
ফলাফলঃ বাংলাদেশ ৩ রানে জয়ী।
