নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
অস্ট্রেলিয়ায় আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে টেস্ট সিরিজের পর তিনটি ওয়ানডে খেলার কথা ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। সিরিজটি বিশ্বকাপ সুপার লিগের অংশ। ওই সময়েই নিজেদের নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগ শুরু করবে দক্ষিণ আফ্রিকা।
গত মাসে অস্ট্রেলিয়াকে ওয়ানডে সিরিজটি পিছিয়ে দিতে অনুরোধ করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ান গ্রীষ্মের ঠাসা সূচিতে নতুন কোনো সময়ে সিরিজটির জায়গা দিতে পারছেন না ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। তাই শেষ পর্যন্ত ওই সিরিজের পূর্ণ পয়েন্ট ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দক্ষিণ আফ্রিকার বোর্ড।
কয়েক বছর ধরেই নিজেদের একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পর অনেক ধুমধামের সঙ্গে চালু করেছিল গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি লিগ। ৮ দল নিয়ে ওই বছরের নভেম্বরে মাঠে গড়ানোর কথা ছিল প্রতিযোগিতাটি। কিন্তু সম্প্রচারের জন্য স্থিতিশীল চুক্তি করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়ে যায় টুর্নামেন্টটি।
গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি লিগের জায়গায় পরে ২০১৮ সালের জুনে চালু করা হয় এমজানসি সুপার লিগ। সেটাও দুই আসর হওয়ার পর আর মাঠে গড়ায়নি। নতুন করে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আয়োজন করতে যাচ্ছে তারা। এবার লক্ষ্য পূরণে কিছুতেই পিছপা হতে চান না বলে ক্রিকইনফোকে জানালেন সিএসএ-এর প্রধান নির্বাহী ফোলেৎসি মোসেকি।
“অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজটি না হওয়ায় খেলোয়াড়রা হতাশ, তবে তারা কারণটা বুঝতে পারছে। টি-টোয়েন্টি লিগে অনেক লোক প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করছে এবং আমাদের এটা সফল করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।”
প্রধান কোচ মার্ক বাউচার ও রঙিন পোশাকের অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ বাদ দেওয়ার বিষয় নিয়ে প্রথমে কথা বলেন মোসেকি। পরে টেস্ট অধিনায়ক ডিন এলগারসহ পুরো দলের সঙ্গে ৪৫ মিনিট মিটিং করেন তিনি।
“তারা ঠিক খুশি ছিল না। তবে সবাই এই সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদী গুরুত্ব বুঝতে পেরেছে।”
ক্রিকেট বিশ্বকাপ সুপার লিগে ১৩ ম্যাচ খেলে দক্ষিণ আফ্রিকার পয়েন্ট মোটে ৪৯। ১৩ দলের মধ্যে তারা আছে ১১ নম্বরে। কেবল জিম্বাবুয়ে ও নেদারল্যান্ডস আছে তাদের নিচে। স্বাগতিক ভারত ও সুপার লিগের অন্য শীর্ষ সাত দল সরাসরি খেলবে ২০২৩ বিশ্বকাপে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ থেকে কোনো পয়েন্ট না পাওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকার পথ কঠিন হয়ে গেলেও আপাতত সেটা নিয়ে ভাবছেন না বোর্ড প্রধান লসন নাইডু। বললেন, টি-টোয়েন্টি লিগটি সফল করতে ঝুঁকি নিতেই হতো তাদের।
“দলের মালিকদের সন্তুষ্ট করতে এবং লিগের পরিপূর্ণতা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের সকল শীর্ষ খেলোয়াড়দের প্রয়োজন।”
“পয়েন্ট টেবিলের অবস্থান অনুযায়ী আমরা জানি, সরাসরি বিশ্বকাপে ওঠা কঠিন হবে। আমরা সরাসরি জায়গা পেতেই চাইবো, তবে আমাদের যদি বাছাই খেলতে হয়, ওটাই আমাদের করতে হবে। ঝুঁকি সম্পর্কে ক্রিকেটাররা জানে।”
আগামী বছর থেকে শুরু হতে যাওয়া লিগটি আর্থিক সংকটের মধ্যে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটের চেহারা বদলে দেবে-বিশ্বাস নাইডুর। তাই আন্তর্জাতিক সিরিজ কমিয়ে ঘরোয়া এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করে নিজেদের ক্রিকেটের ভিত আরও শক্ত করতে চান তিনি।
“সব দেশই তাদের লিগের জন্য একটি উইন্ডো পাওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা বুঝতে পারছি, আমাদের দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট কমিয়ে আনতে হবে। এখনও দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেটকে গুরুত্ব দিতে চাই আমরা, কিন্তু আমাদের মতো দেশগুলোর জন্য বাস্তবতা হলো, ভারতের বিপক্ষে খেললেই কেবল অর্থ উপার্জন করা সম্ভব।”
“কোভিডের আগের বছর ২০১৯ সালে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সিরিজ আয়োজন করেছিলাম আমরা, তারপরও লোকসানে পড়েছি। তাই আমাদের বিকল্প খুঁজতেই হবে।”
