নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক সূর্যটা উদয় হবার আগেই ক্রীড়াঙ্গনে পথচলা শুরু করেছিল বাঙ্গালীরা। বিশেষ করে ক্রিকেটে। শহীদ আব্দুল হালিম চৌধুরী জুয়েল এবং রকিবুল হাসানদের হাত ধরে ক্রিকেট ছড়িয়ে পড়ে স্বাধীন বাংলার আনাচেকানাচে। আকরাম খানদের ব্যাটে ভর করে স্বপ্ন ডানা মেলেছে ক্রিকেটের মহাকাব্যে। সাকিব-তামিম, মাশরাফিরা সেটাকে রূপ দিয়েছেন বাঙ্গালীর প্রাণের স্পন্দনে। সেই স্পন্দনের টানে সাত সমুদ্দর তেরো নদী পেরিয়েও দূর প্রবাসের বুকে লাল সবুজের প্রতিনিধিত্ব করছেন একদল বাংলাদেশী। যারা পেশাদার ক্রিকেটে খেলে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন দেশের জাতীয় দল ও নামকরা সব ক্লাবের হয়ে। আজকের গল্পটা পরবাসের লাল সবুজের সেই স্বপ্নচারীদের নিয়ে…
হুমায়ুন কবির জ্যোতি: সুইডেন জাতীয় দলে উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন এই বাংলাদেশী ক্রিকেটার। দেশে থাকাকালীন ক্রিকেট নিয়ে মেতে থাকা জ্যোতি, প্রবাস জীবনে পা রেখেও ছাড়তে পারেননি ক্রিকেটের নেশা। ২০১৭ সালে ষ্টুডেন্ট ভিসায় সুইডেন যান খুলনার ছেলে জ্যোতি। পড়াশোনার পাশাপাশি একটি রেস্টুরেন্টে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার হয়ে চাকুরী করছেন তিনি। পড়াশোনা ও চাকুরীর চাপ বাইশ গজ থেকে দূরে রাখতে পারেনি জ্যোতিকে। সবদিক ঠিক রেখে সুইডেনে চালিয়ে গেছেন নিজের ক্রিকেট চর্চা। সুইডেনের সর্বোচ্চ ক্রিকেট লিগ ‘এলিট ক্রিকেট লিগে’জ্যোতি স্টকহোম টাইগার্সের হয়ে খেলেন। ক্রিকেট খেলায় তার আদর্শ বাংলাদেশের জাতীয় দলের উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান। তারই পরামর্শ ও সহযোগিতায় সুইডেনে তিনি ক্রিকেট খেলা শুরু করেন। দেশে থাকাকালীন সময়েও নিজ বিভাগ খুলনার হয়ে বয়সভিত্তিক ক্রিকেট খেলেছেন তিনি। খুলনা জেলা অনূর্ধ্ব-১৪, খুলনা বিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৪, অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৮ দলে খেলেছেন জ্যোতি।

হুমায়ুন কবির জ্যোতি
সিরাজ উল্লাহ খাদেম নিপু: দীর্ঘ ৬ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের পর অবশেষে স্বপ্ন পূরন হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছেলে সিরাজ উল্লাহ খাদেম নিপুর। পর্তুগাল জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠ মাতাচ্ছেন এই বাংলাদেশী। সাকিব-তামিম, মুশফিকদের পুরনো বন্ধু নিপু! একসাথে খেলেছেন দেশের হয়ে অনু-১৯ বিশ্বকাপ। ২০০৯ সালে অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনার কবলে পড়ে দেশের হয়ে খেলার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল নিপুর, অন্যথায় আজ ভিনদেশী দলের জার্সিতে নয়, লাল-সবুজের জার্সিতে সাকিব-তামিমদের সতীর্থ হয়ে হয়তো দেখা যেতো তাকে।পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে সর্বশেষ একটি ত্রিদেশীয় সিরিজে ৩ ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সেরা বোলার তকমা গায়ে মেখেছেন তিনি। ১৯৮৮ সালের ১০ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্ম নিপুর। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে অনু-১৫, অনু-১৬, অনু-১৭,অনু-১৯,অনু-২৩ ও বাংলাদেশ এ দলের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। এছাড়া ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডান ও সিটি ক্লাবের হয়ে খেলেছেন তিনি। এই মুহুর্তে পর্তুগাল জাতীয় দল ছাড়াও নিপু খেলছেন ইংলিশ কাউন্টিতে।

সিরাজ উল্লাহ খাদেম নিপু
রায়হান শরিফঃ বাংলাদেশের ছেলে রায়হান শরিফের স্বপ্ন ছিল লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জড়িয়ে খেলবেন দেশের হয়ে। রায়হানের জাতীয় দলের হয়ে খেলার সেই স্বপ্ন পূরন হয়েছে ঠিকই, তবে সেটা নিজের জন্মভূমি বাংলাদেশের হয়ে নয়, সুযোগ মিলেছে ইতালী জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে খেলার।
দেশে থাকাকালীন সময়ে খেলেছেন বারিধারা ও সূর্যতরুনের হয়ে প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে। পরবর্তীতে প্রয়োজনের তাগিদে দেশ ছেড়ে পাড়ী জমিয়েছেন ইতালীতে। হাজার হাজার মাইল দূরে এসেও, ক্রিকেট নামক নেশায় আসক্ত রায়হান কোনভাবেই নিজেকে দূরে রাখতে পারেননি ক্রিকেট থেকে। ইতালিতে এসে কাজের ফাকে আলাদা সময় করে নিয়েছিলেন ক্রিকেটের জন্য। কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও নিজের আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে, নিজেকে প্রমাণ করে ইতালি জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন বাংলাদেশী এই ক্রিকেটার।

রায়হান শরিফ
রিফাত ইসলামঃ বাংলাদেশের ছেলে রিফাত ইসলামের ক্রিকেটের হাতেখড়ি ইতালিতে। অফ স্পিন অলরাউন্ডার রিফাত ইতালি অনু-১৯ জাতীয় দল হয়ে এই মুহূর্তে নিয়মিত খেলে যাচ্ছেন ইতালি জাতীয় দলে। যেখান থেকে নিয়েছেন ক্রিকেটের দীক্ষা, ইতালির আঞ্চলিক সেই রোমা বাংলা ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে এখনও মাতিয়ে যাচ্ছেন বাইশ গজ।
২০০৪ সালের ৭ই মে নরসিংদীতে জন্ম রিফাতের। ২০১৭ সালের উচ্চ শিক্ষার জন্য ইতালিতে পাড়ি জমান তিনি, সেখানেই রোমা বাংলা ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে ক্রিকেটের পথচলা শুরু তার।

রিফাত ইসলাম
বেলায়েত খানঃ ফিনল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দলের অলরাউন্ডার হিসেবে মাঠ মাতাচ্ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছেলে বেলায়েত খান। ১৯৯০ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্ম বেলায়েতের। স্কুল ক্রিকেট দিয়েই ক্রিকেটের হাতেখড়ি তার। ২০১৪ সালের উচ্চ শিক্ষার জন্য দেশ ত্যাগ করেন তিনি। দেশের বাইরে গিয়েও বাইশ গজ থেকে দূরে থাকা সম্ভব হয়নি তার। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের ক্রিকেট চর্চাও চালিয়ে যান তিনি।এস্টোনিয়ার ক্রিকেট ক্লাব সারেমা ক্রিকেট ক্লাবের হয়েও খেলেছেন তিনি। এই মুহুর্তে ফিনল্যান্ড জাতীয় দলে খেলার পাশাপাশি, জীবিকার তাগিদে টেক্সি ড্রাইভিং করেন তিনি।

আসিফ হাসান অনিকঃ ঢাকার ছেলে আসিফ হাসান অনিক এই মুহুর্তে বাইশ গজ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ায়! ১৯৯৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় জন্ম আসিফের। ক্রিকেটের হাতেখড়ি ও বেড়ে উঠা সবটাই রাজধানীতে। উচ্চ শিক্ষার জন্য দেশের ক্রিকেট ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ায়। দেশে থাকাকালীন অনু-১৩ ও অনু-১৫ বয়সভিত্তিক ক্রিকেট খেলেছেন ঢাকা মেট্রোর হয়ে। হাজার হাজার মাইল দূরে গিয়েও ব্যাট-বলের মায়া ছাড়তে পারেননি আসিফ। আর তাই অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার পাশাপাশি সমানতালে চালিয়ে গেছেন ক্রিকেটও। এই মুহুর্তে অস্ট্রেলিয়ার নামকরা ক্লাব পি আই এফ আই স্পোর্টিং ক্লাব ও সিডনি থান্ডার অরিজিন টিম-এর হয়ে খেলছেন আসিফ। এছাড়াও থান্ডার ন্যাশনস কাপে অধিনায়ক হয়ে খেলে যাচ্ছেন নিয়মিত। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় ক্রিকেটের পাশাপাশি চাকুরীও করছেন তিনি।

আসিফ হাসান অনিক
মোরশেদ কামালঃ কুয়েত জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন মোরশেদ কামাল। জন্ম সুত্রে বাংলাদেশী এই ক্রিকেটারের বেড়ে উঠা কুয়েতে। মা-বাবার হাত ধরে ক্রিকেটের হাতেখড়িও সেখানে। এই মুহুর্তে কুয়েত জাতীয় দলের পাশাপাশি মোরশেদ খেলছেন ক্লাব ক্রিকেটে কুয়েত সুইডিশ ও আঞ্চলিক ক্লাব সিলেট ওয়ান্ডার্সের হয়ে। ক্রিকেটের পাশাপাশি ওখানকার কুয়েত-বাংলাদেশ এম্বাসিতেও চাকুরীরত তিনি। মোরশেদের প্রিয় ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

মোরশেদ কামাল
ইফতেখার নাঈম আহম্মেদঃ বাংলাদেশ অনু-১৯ দলের সাবেক ক্রিকেটার ও দেশের বয়সভিত্তিক এবং ঘরোয়া ক্রিকেট মাতিয়ে বেড়ানো ক্রিকেটার ইফতেখার নাঈম আহম্মেদ এই মুহুর্তে দাপুটের সাথে খেলে যাচ্ছেন আমেরিকার প্রথম সারীর ক্লাব ক্যারিবিয়ান ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে। সর্বশেষ ৮ বছর অত্যন্ত দাপটের সাথে খেলে যাচ্ছেন এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান।
ইফতেখারের বেড়ে উঠা ও ক্রিকেটের হাতেখড়ি সব ঢাকায়। প্রখ্যাত ক্রিকেট কোচ ওয়াহেদুল গনির কাছ থেকে নিয়েছেন শৈশবের ক্রিকেট দীক্ষা।বাংলাদেশ জাতীয় অনু-১৯ ছাড়াও প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে খেলেছেন আবাহনী লিমিটেড ও বরিশাল বিভাগীয় দলের হয়ে। এছাড়া বিপিএলের প্রথম আসরে বরিশাল বার্নার্সের হয়ে খেলেছেন এই ক্রিকেটার।উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশ গমন করলেও ক্রিকেটের প্রতি মায়া কাটিয়ে উঠতে পারেননি ইফতেখার। আর তাই পড়াশোনার পাশাপাশি আমেরিকায় সমানতালে চালিয়ে গেছেন ক্রিকেটও। ইফতেখারের কাছে তার ক্রিকেট জীবনের সবচাইতে স্মরনীয় সময়টা হচ্ছে, ২০০২ সালে শিলিগুড়িতে অধিনায়ক হিসেবে অনু-১৩ এর একটি টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব। এছাড়া ২০১২ সালে ক্লেমন ইন্টার ইউনিভার্সিটি চ্যাম্পিয়নশীপের ফাইনালে ম্যাচসেরা হওয়ার মুহূর্তটিও স্মৃতির ফ্রেমে আজীবন বাধিয়ে রাখার মতো ইফতেখারের জন্য।

লাবিব মাহমুদঃ রাজশাহীর ছেলে লাবিব মাহমুদ এই মুহুর্তে দাপুটের সাথে খেলে যাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার একাধিক ক্লাবে। নর্থ ক্যানেভেরা ক্রিকেট ক্লাব, ক্যানেভারা ওলবস এবং পি আই এফ আই স্পোর্টিং ক্লাব-এর হয়ে উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান হয়ে নিয়মিত খেলে যাচ্ছেন এই ক্রিকেটার।
উচ্চ শিক্ষার জন্য ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ায় যান তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ায় চালিয়ে গেছেন নিজের ক্রিকেট চর্চা। দেশে থাকাকালীন সময়ে লাবিব খেলেছেন, রাজশাহী অনু-১৭ বিভাগীয় দল, বৈকালী সংঘ ও কালিন্দী ক্রীড়াচক্রের হয়ে। ক্রিকেটের পাশাপাশি উলওর্থসের ডিপার্টমেন্ট ম্যানেজার হয়ে কাজ করছেন তিনি।

লাবিব মাহমুদ
আরিফুল হকঃ বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) এর সাবেক ছাত্র জামালপুরের ছেলে আরিফুল হক ফ্রান্সে পাড়ি জমান উচ্চ শিক্ষার জন্য। পড়াশোনার পাশাপাশি সেখানে অত্যন্ত দাপুটের সাথে খেলে যান ক্রিকেটও। নিজেকে প্রমাণ করে খুব দ্রুত জায়গা করে নেন ফ্রান্সের প্যারিসের নামকরা ক্রিকেট ক্লাব প্যারিস নাইট রাইডার্সের মুল দলে। এছাড়াও ডাক পান ফ্রান্স জাতীয় দলের ক্যাম্প-এ। স্বপ্ন দেখেন ফ্রান্স জাতীয় দলে খেলার। আরিফুলের প্রিয় ক্রিকেটার আব্দুর রাজ্জাক, প্রিয় ক্রিকেট কোচ নাজমুল আবেদিন ফাহিম। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ অনু-১৫ দলের হয়ে খেলার মুহূর্তগুলো ক্রিকেট জীবনের সেরা মুহূর্ত আরিফুলের কাছে।

আসাদুজ্জামানঃ বগুড়ার ছেলে আসাদুজ্জামান খেলছেন ফিনল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে। আসাদের বেড়ে উঠা বগুড়ায় আর ক্রিকেটের হাতেখড়ি হয় বড় ভাইয়ের কাছে। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট আসক্ত আসাদের স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে ক্রিকেটার হবেন এবং বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন। আসাদের কঠোর অধ্যবসায় ও নিজের প্রতি বিশ্বাস থেকে, জাতীয় দলের হয়ে খেলার স্বপ্নপূরণ হয়েছে তার, তবে সেটা নিজের জন্মভূমি নয়, ফিনল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে। পড়াশোনার জন্য ২০১৭ সালে ফিনল্যান্ডে পাড়ি জমান আসাদ। পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রিকেট সমানতালে চালিয়ে যান আসাদ। নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে জায়গা করে নেন ফিনল্যান্ড জাতীয় দলে।

আসাদুজ্জামান
শফিকুর রহমানঃ মাদারিপুরের ছেলে শফিকুর রহমান এই মুহুর্তে দাপুটের সাথে খেলে যাচ্ছেন স্পেনের বার্সেলোনার আঞ্চলিক বাংলাদেশী ক্লাব বেঙ্গল সি.সি এর হয়ে। ডাক পান স্পেন জাতীয় দলের ক্যাম্প-এ। এখন স্বপ্ন দেখেন স্পেন জাতীয় দলের হয়ে খেলার।১৯৯০ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর মাদারিপুরে জন্মগ্রহণ করেন শফিকুর। মাদারিপুর ক্রিকেট ক্লিনিকে ক্রিকেটের হাতেখড়ি তার। দেশে থাকাকালীন বয়সভিত্তিক ক্রিকেট ও ঘরোয়া লিগে খেলে গেছেন অত্যন্ত দাপটের সাথে। বাংলাদেশ অনু-১৫, অনু-১৭, অনু-১৯, অগ্রণী ব্যাংক (ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ), ঢাকা ওয়ান্ডার ক্লাব দল গুলোর হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছেন শফিক। এই মুহুর্তে খেলাধুলার পাশাপাশি একটি রেস্টুরেন্টে চাকুরীও চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। শফিকের কাছে নিজের ক্রিকেটের স্মরনীয় মুহূর্তটি হলো অনু-১৫ দলের হয়ে শ্রীলঙ্কা সফর ও সেই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন তকমা।

নুরুল হুদাঃ ফিনল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন আরেক বাংলাদেশী নুরুল হুদা। অলরাউন্ডার হিসেবে ফিনল্যান্ড জাতীয় দলে খেলে যাওয়ার পাশাপাশি খেলছেন ফিনল্যান্ডের প্রথম সারীর ক্লাব বিটিসিসি-এর হয়ে। ১৯৯০ সালের ২৮ জুলাই হবিগঞ্জে জন্ম নুরুল হুদার। তার ক্রিকেটের হাতেখড়ি স্কুল ক্রিকেট থেকে। উচ্চশিক্ষার জন্য ২০১৪ সালে ফিনল্যান্ড আসেন তিনি।ফিনল্যান্ড এসে পড়াশোনার পাশাপাশি চালিয়ে গেছেন ক্রিকেটও। দীর্ঘদিন খেলেছেন ফিনল্যান্ডের ক্লাব এস.ইউ.এস.টি ক্লাবের হয়ে। সেখানে নিজেকে প্রমাণ করে জায়গা করে নিয়েছেন ফিনল্যান্ড জাতীয় দলে। একজন ক্রিকেটারের পাশাপাশি তিনি একজন বিজ্ঞানী।

নুরুল হুদা
বর্তমানে আট জন বাংলাদেশী ক্রিকেটার খেলছেন বিভিন্ন দেশের জাতীয় দলের হয়ে এবং অনেকে রয়েছেন জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার অপেক্ষায়। পাশাপাশি বেশ কিছু বাংলাদেশী ক্রিকেটার দারুণ দাপট দেখিয়ে খেলে যাচ্ছেন বিদেশি বিভিন্ন নামি-দামি ক্লাবে। এছাড়াও আরও অনেকে বিশ্বক্রিকেটে ভূমিকা রাখছেন কোচ ও সংগঠক হিসেবে। নিউজক্রিকেট টুয়েন্টিফোর পর্যায়ক্রমে সবাইকে পরিচয় করিয়ে দিবে বিশ্ব দরবারে।
উল্লেখ্য, নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশী ক্রিকেটারদের সংগঠন “এন আর বি ক্রিকেটার্স” ২০২১ সাল থেকে বিদেশে খেলা ক্রিকেটারদের নিয়ে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা এই ক্রিকেটারদের নিয়ে বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগীতা করছেন সাবেক ক্রিকেটার, কোচ ও ক্রীড়া সংগঠকরা। সংগঠনটির মূখপাত্র নিউজক্রিকেট টুয়েন্টিফোরকে নিশ্চিত করেছেন, চলতি বছরে তারা একটি গ্লোবাল টিম হয়ে বাংলাদেশ সফর করবেন। এই ব্যাপারে একটি স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানও কাজ করছে ।
