নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
গতকাল হটাতই হার্ট এট্যাকে আক্রান্ত হয়ে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন অজি কিংবদন্তি স্পিনার শেন ওয়ার্ন। মাত্র ৫২ বছর বয়সেই ক্রিকেট হারালো তার ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্রিকেটারকে।
৩ মাসের ছুটি কাটাতে ওয়ার্ন গিয়েছিলেন থাইল্যান্ডের সামুই দ্বীপে। সেখানে সাথে ছিলেন তার ডকুমেন্টারি নির্মাতা অ্যান্ড্রু নেউফিতো। মূলত পানীয় পান করার জন্য ওয়ার্ন সময় ঠিক করেছিলেন ৫টা। কিন্তু দেরী হওয়াতে নেউফিতো যখন ওয়ার্নের দরজার নক করেন তখন ভিতর থেকে কোন সারা না পাওয়ায় ভিতরে ঢুকে ওয়ার্নকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান।
শেনের মৃত্যুর পুরো ঘটনা ফক্স ক্রিকেটকে জানিয়েছেন ওয়ার্নের ম্যানেজার আর্সকিন। ফক্স ক্রিকেটকে আর্সকিন বলেন, রাত ১০টা ৩৭ মিনিটের দিকে আমি একটি ফোন পেলাম অ্যান্ড্রু নেউফিতোর কাছে। যে কি না থাইল্যান্ডে ওয়ার্নের সঙ্গে ছিল। ওয়ার্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সে তিন মাসের ছুটি কাটাবে। সে মূলত এক বছরের ছুটি চাইছিল। আমি বলেছিলাম, এক বছরের ছুটি নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাহলে সবাই তোমাকে ভুলেই যাবে।
বিজ্ঞাপন
তাই সে (ওয়ার্ন) তিন মাসের ছুটিতে বের হয়েছিল এবং এটি মাত্র শুরু হয়েছিল। তারা আগের রাতেই সেখানে পৌঁছায়। তারা ৫টার দিকে পানীয় পানের জন্য সময় ঠিক করে রেখেছিল… দেরি দেখে ৫টা ১৫ মিনিটে নেউফিতো ওয়ার্নের দরজায় নক করে। কারণ ওয়ার্ন সবসময় সময়ের ব্যাপারে সচেতন ছিল।
তো নেউফিতো দরজায় নক বলছিল, ‘আসছো না কেন, দেরি হয়ে যাচ্ছে।’ তখনই সে (নেউফিতো) বুঝতে পারে কোনো সমস্যা হয়েছে এখানে। নেউফিতো ওয়ার্নকে ঘুরিয়ে মুখে মুখ লাগিয়ে সিপিআর দিতে শুরু করে। এমনটা প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলছিল।
এরপর অ্যাম্বুলেন্স এলো এবং তারা তাকে (ওয়ার্ন) হাসপাতালে নিয়ে গেলো। প্রায় ২০ মিনিটের পথ ছিল। প্রায় ৪৫ মিনিট পর আমি আবার ফোন পেলাম, ওয়ার্নকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।
আমি কিথের (শেন ওয়ার্নের বাবা) সঙ্গে কথা বললাম। তার ছেলে তখন মৃত। তিন ওয়ার্নের তিন সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। পরে ব্রুক ও জ্যাকসনের (ওয়ার্নের দুই সন্তান) সঙ্গে কথা বললাম। তাদের আমি মৃত্যুর খবর দিতে চাইনি। পরিস্থিতি তখন খুবই গম্ভীর মনে হচ্ছিল।
সিমিওন (ওয়ার্নের সাবেক স্ত্রী) তখন কনিষ্ঠ সন্তান সামারকে আনতে গিয়েছিল। আমরা তখন সিমিওনকে ফোন করে বললাম যে, সবাই যখন একসঙ্গে থাকবো তখন না হয় তাদের (সন্তাদের) বলবো যে শেন ওয়ার্ন আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।
বিষয়টা যেনো এমন ছিল যে, কেউ আমাকে বলেছিলেন যে যখন কেউ জীবনের চেয়েও বড় হয়ে যায় তখন আপনি তার মৃত্যু মেনে নিতে পারেন না। আমার মনে হয় এটিই সবচেয়ে ভালো ব্যাখ্যা। আপনি ৫২ বছরেই কারও মৃত্যু ভাবতে পারেন না। আপনি শেন ওয়ার্নের মৃত্যু ভাবতে পারেন না। কারণ সে অসাধারণ এক ব্যক্তিত্ব ছিল।
ওয়ার্নের সবচেয়ে দারুণ বিষয় ছিল, সে ইংল্যান্ডের রাণী কিংবা নর্দমায় থাকা মানুষ- দুজনের সঙ্গে একইভাবে কথা বলতে পারতো। এটি সত্যিই অনন্য এক গুণ। আমি বাজি ধরতে পারি যে, রাণীকে যেকোনো কিছু করতেই রাজি করে ফেলতে পারতো ওয়ার্ন। সে এমনই এক চরিত্র ছিল।”
১৯৬৯ সালে জন্মগ্রহণ করা এই ক্রিকেটার আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে নিয়েছেন ৭০৮ উইকেট। এছাড়া ওয়ানডে ক্রিকেটে অজিদের জার্সি গায়ে ২৯৩ জন ব্যাটসম্যানকে পাঠিয়েছেন সাজঘরে।
