নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
বাংলাদেশ ক্রিকেটে তার আগমনটা চুপিসারে, শুরুর মতো নীরবেই কেটে গেছে তার পুরো ক্যারিয়ার। ব্যাট বল হাতে যেকজন ক্রিকেটার বাংলাদেশ ক্রিকেটকে নিয়মিত পারফরমেন্স দিয়ে গেছেন তার মধ্যে অন্যতম তিনি, তবে তার নামটা আলোচনায় আসে খুব কম সময়ই।
বলছিলাম বাংলাদেশের বর্তমান টি২০ অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের কথা। ২০০৭ সালে জুলাই মাসে শ্রীলংকার বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেট দিয়ে অভিষেক তার, অভিষেক ম্যাচেই খেলেন ৩৬ রানের ইনিংস। অভিষেক ম্যাচে দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যে ৩৬ রানের ইনিংস খেলেও বাদ পড়তে হয় পরের ম্যাচের স্কোয়াড থেকে। সে বছর খেলেন আরো চারটি টি২০, তবে সেখানে পাননি সফলতার দেখা। রিয়াদ আবার ওয়ানডে দলে ফিরেন পরের বছর আয়ারল্যান্ড সিরিজে, সেদিনও মিডল অর্ডার ভেঙে পরার পরে ৪৪ বলে ৪৯ রানের ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে এনে দেন একটা ভালো পুঁজি ।
মাহমুদুল্লাহ তখন নিজেকে চেনানো শুরু করেছেন। সে বছরই পাকিস্তান সফরের দ্বিতীয় ওয়ানডে। তামিম ইকবালের ৬০ রানের পর দলের পরের চার ব্যাটসম্যানের মোট রান ৩১। পেস স্পিনে মেশানো পাকিস্তানী বোলিং লাইনআপ এর বিপক্ষে বাংলাদেশ ব্যাটিং লাইন আপ যখন ভেঙে যাচ্ছে, যাওয়া আসার মিছিলে তখন ছয় নম্বরে নামা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এপাশে ঠায় দাঁড়িয়ে আছেন। আস্তে আস্তে সিংগেল নিচ্ছেন, লুজ বলে বাউন্ডারি মারছেন, সাবধানী শটে দলের রান বাড়ানোর প্রয়াস দেখাচ্ছেন। সে ইনিংস দেখতে ভাল লাগে না, ৭৪ বলে ৫৮ রানের সে ইনিংস চোখের তৃষ্ণা মেটায় না; মেটায় কেবল দলের প্রয়োজন।সে বছর আর কোন ম্যাচে ৪০ পেরুনো গেল না! তবে দলের প্রয়োজনে তিনি ছোটখাট ইনিংস খেলেছেন। ধীরে ধীরে রান করেছেন, কখনও হাঁকিয়েছেন বাউন্ডারি। তারপর চলে গেছেন পর্দার আড়ালে।
শুরুটা হয়েছিল এভাবেই। সাকিব, তামিম, আশরাফুল, মাশরাফির সে দলে ৬ -৭ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামা একজন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ শুরুর থেকেই পর্দার আড়ালের নায়ক। এরপর পার হয়েছে সময়, রিয়াদ জাতীয় দলে খেলেগেছেন নিয়মিত, পারফর্ম করেছেন, দলের বিপদের দিনে ব্যাট হাতিয়ে দাড়িয়ে গেছেন, আবার কোনদিন বল হাতে জরুরী মুহূর্তে এনে দিয়েছেন ব্রেক থ্রু। তবে রিয়াদ থেকে গেছেন আড়ালেই।
রিয়াদের হাত ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেট পেয়েছে অনেক সফলতার দেখা , ২০১৫ বিশ্বকাপে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে বিশ্বকাপে শতক হাঁকান, তাও আবার একটি না সেই বিশ্বকাপে দুই দুটি শতক করেন ময়মনসিংহের ছেলেটি। ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে টপ অর্ডার ভেঙে যাওয়ার পরে সাকিবের সাথে অবিশ্বাস জুটি গড়ে সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশকে সেমিফাইনালে তুলে মাঠ ছাড়েন । নিদহাস ট্রফিতে শেষ বলে ছক্কা হাকিয়ে ম্যাচ জিতিয়ে তুলেন ফাইনালে। নিরবে এমন অনেক পারফরমেন্স করে গেছেন রিয়াদ।
রিয়াদ শুধু নীরবেই পারফর্ম করে যান, দলের বিপদে যখন যেখানে ডাক পড়ে সেখানে রিয়াদ দিয়ে যান নিজের সেরাটা। টপ অর্ডার ব্যর্থ? রিয়াদকে উপরে খেলায়, টপ অর্ডার ফর্মে আছে, ফিনিশার নেই? রিয়াদকে খেলাও। দীর্ঘক্ষণ উইকেট যাচ্ছে না বল রিয়াদের হাতে দাও, যখন যেখানে ডাক পড়ে রিয়াদ খেলে যান নীরবে । কখনো কোন অভিযোগ করেননি । নিয়মিত টপ অর্ডারের ব্যাটিং করলে হয়তো রিয়াদেরও সাকিব মুশফিকদের মতো ৫-৬ হাজার রান থাকতো।
আজ থেকে ষাট বছর পর শুধুই রান সংখ্যার বিবেচনায় রিয়াদ উপাখ্যান হয়ত সেদিন ঠিক বুঝে ওঠা যাবে না। তবে গুরুত্বপূর্ণ সব ম্যাচের স্কোরকার্ড এর দিকে তাকালে যখনই টপ অর্ডারের সবার নামের পাশে এক অঙ্ক মিলবে, সেদিন লোয়ার অর্ডারে একজনের নামের পাশে অন্তত রানের দেখা মিলবে, তিনি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।
মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ থাকবেন আজীবন। মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিদাহাস ট্রফির শ্রীলঙ্কার সাথে শেষ ওভারে মারা ছক্কা যেভাবে হাওয়ায় ভেসেছিল, সেভাবে আমরা আজীবনই রিয়াদ উপাখ্যানে ভেসে থাকব। রিয়াদ থাকবেন নিদাহাসের সেই ছক্কায়,রিয়াদ থাকবেন কার্ডিফের আঙিনায়, রিয়াদ থাকবেন পঞ্চপান্ডব পাতায়, রিয়াদ থাকবেন বিপদের ত্রাণকর্তায়।
১৯৮৬ সালের আজকের এই দিনে ময়মনসিংহের এক মধ্যবিত্ত ঘরে জন্মগ্রহণ করেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। আজ তার ৩৬ তম জন্মদিন। নিউজ ক্রিকেট ২৪ এর পক্ষ থেকে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে জানাই জন্মদিনের শুভেচ্ছা, ও আগামীর জন্য রইলো শুভকামনা। মি সাইলেন্ট কিলার এভাবেই খেলে যাক দেশের জন্য, লরুক লাল সবুজের জার্সি গায়ে।
নিউজ ক্রিকেট২৪/ সুফিয়ান।
