ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোনের শুভ সূচনা

নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »

 

 

চা বাগানে গেড়া সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিকালের অস্তমিত সূর্যের আলোয় জ্বলছিল সবুজের মাঠ। সেই ঝলমলে আলোতে আরও আলো ছাড়িয়ে দিলো সাকিব আল হাসানের ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোনের স্পিনাররা। সঙ্গে ছিল সৌম্য সরকারের জোড়া আঘাত। তাইতো স্কোরবোর্ডে মাত্র ১৭৭ রানের পুঁজিতে জয় নিয়ে ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপ শুরু করেছে ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোন।

৯ই জানুয়ারি (রোববার) টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ব্যাট হাতে তেমন সুবিধা করতে না পারলেও স্কোরবোর্ডে ১৭৭ রান যুক্ত করে থেমে যায় ওয়ালটন সেন্ট্রালের ইনিংস। তুলনামূলক অল্প পুঁজিতে জয়ের আশা ধরে রাখতে বোলারদের দিকে থাকিয়ে হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেটিই করে দেখালেন তারা সেন্ট্রাল জোনের বোলাররা। যার ইতি ঘটেছে আবু হায়দার রনির থ্রোতে ইসলামী ব্যাংক ইস্ট জোনের শেষ ব্যাটসম্যান রুবেলের রানআউটে প্রতিপক্ষ দল থামে ১৫৫ রানে। ফলে, ওয়ালটন সেন্ট্রাল ২২ রানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে মোহাম্মদ আশরাফুলকে শূন্য রানে ফিরিয়ে ভালো সম্ভাবনা এনে দিয়েছিলেন রনি। এরপর ইমরুল কায়েস-রনি তালুকদার ৬৪ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধ গড়েন। এই প্রতিরোধ ভাঙে হাসান মুরাদের ঘূর্ণিতে। তিনি ২৫ রানে ফেরান ইমরুলকে। মুরাদের আক্রমণের রেশ না কাটতেই ৩৮ রানে রনি তালুকদারকে ফেরান মোসাদ্দেক। এরপর খেলার হাল ধরার চেষ্টা করেন ইরফান শুক্কুর ও আফিফ হোসেন ধ্রুব। কিন্তু আফিফকে উইকেটে বেশিক্ষন স্থায়ী থাকতে দেননি সাকিব আল হাসান। মাত্র ২ রান করে সাকিবের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ইরফান সেট হলেও বড় ইনিংস খেলে টিকে থেকে জয়ের কাছে নিতে পারেননি দলকে। ৩১ রান করে তিনিও ফেরেন সাকিবের বলে। নাঈম হাসান এসে ফেরেন ২ রান করে। এরপর খেলার হাল ধরেন নাদিফ চৌধুরী-আলাউদ্দিন বাবু। দুজনে ৩৪ রানের জুটি গড়ে দলকে নিয়ে যাচ্ছিলেন জয়ের দিকে। দুজনকেই ফেরান সৌম্য সরকার। নাদিফ ২৮ ও আলাউদ্দিন ১৭ রান করে আউট হন।এ দুজন আউট হলে জয়ের স্বপ্ন মিইয়ে যায় ইসলামী ব্যাংকের। মাত্র ৩ রানের ব্যবধানে শেষ দুই ব্যাটসম্যান আউট হয়ে ফেরেন সাজঘরে।

বল হাতে দুর্দান্ত করেছেন ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোনের স্পিনাররা। সাকিব-মুরাদ-মোসাদ্দেক মিলে নেন ৫ উইকেট। সাকিব-মুরাদ দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। মোসাদ্দেক অবশ্য কম রান খরচ করেছেন। তিনি মাত্র ১৩ রান দিয়ে উইকেটটি নেন। যার দরুণ তার হাতে ওঠে ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

এর আগে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুটা ভালো হলেও শেষ পর্যন্ত দুইশও করতে ব্যর্থ হয় ওয়ালটন সেন্ট্রাল। ওপেনিংয়ে নেমে স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাটিং করেছিলেন মিজান। কিন্তু ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। তিনি ৪০ বলে ৩৬ রান করেন। সৌম্য (১৩) খোলস ছেড়ে বের হওয়ার আগেই ফেরেন সাজঘরে। তিনে নেমে আব্দুল মজিদ (৮) ফেরেন দুই অঙ্কের ঘর ছোঁয়ার আগেই।সবার দৃষ্টি ছিল সাকিবের দিকে, কিন্তু তিনি থিতু হয়েও আলো ছড়াতে পারেননি, করেছেন হতাশ। খেলছিলেন ধীরে-সুস্থে। স্ট্রাইকরেট ছিল ৬০ এর নিচে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো লাভ হয়নি। খোলস ছেড়ে বের হতে চেয়েছে ধরা পড়েছেন ডিপ মিড উইকেটে, আউট হয়েছেন তানভীর ইসলামের বলে। ক্যাচ নিয়েছেন রনি তালুকদার। ৫৮ বলে ২ চারে ৩৫ রান করেন সাকিব।সবচেয়ে সাবলীল ছিলেন মোহাম্মদ মিঠুন। একমাত্র ব্যাটসম্যান যার স্ট্রাইকরেট ছিল ১০০। কিন্তু তিনিও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ৩৭ বলে ৩৭ রান করে আউট হন মিঠুনও।

এ ছাড়া মোসাদ্দেক ১৭ ও জাকের আলী অনিক আউট হন ১৫ রান করে। ওয়ালটন সেন্ট্রাল শেষ ৬ উইকেট হারায় মাত্র ২৬ রানে। ইস্ট জোনের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট করে নেন রুবেল হোসেন ও রেজাউর রহমান রাজা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোন: ১৭৭/১০ (মিথুন ৩৭, মিজানুর ৩৬ ও সাকিব ৩৫; রুবেল ৩/৫১, রাজা ৩/২১)| ইসলামী ব্যাংক ইস্ট জোন: ১৫৫/১০ (রনি ৩৮, ইরফান ৩১ ও নাদিফ ২৮; সাকিব ২/২৪ ও ২.২৮)| ফল: ওয়ালটন ২২ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা: মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত (ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোন)।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »