নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘরের মাঠে নিজেদের দল ঘোষণার মধ্যেই ছিল বিপদের বার্তা দেয় নিউজিল্যান্ড। আগের টেস্টে এক ইনিংসে ১০ উইকেট নেওয়া বাঁহাতি স্পিনার এজাজ প্যাটেল দলে নেই। বিপরীতে আছেন পাঁচ পেসার। তাদের চার জনই হয়তো খেলবেন প্রথম টেস্টে। বাড়তি বাউন্স ও সুইং আছে এমন উইকেটে কিউইদের পেস বোলিং নিয়ে দুর্ভাবনা থাকাই স্বাভাবিক। তবে, এই চ্যালেঞ্জে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মুমিনুল হক।
কিউইদের মাঠে বাংলাদেশী পেসারদের সক্ষমতাও দারুণ। পেসারদের জন্য এই সহায়ক কন্ডিশনেই কী-না বাংলাদেশের পেসারদের রেকর্ড মলিন। তবে এবার এই দৃশ্য পরিবর্তনের ব্যাপারে আশাবাদী অধিনায়ক। মুমিনুলের বিশ্বাস, দুই ম্যাচের সিরিজে খুব ভালো কিছু করবেন বাংলাদেশের পেসাররা।
স্বাগতিক দলে কোনো বিশেষজ্ঞ স্পিনার না থাকায় সেদিক থেকে চিন্তার কিছু নেই। তবে সবুজ ঘাসের উইকেটে ব্যাটসম্যানদের কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারেন টিম সাউদি, ট্রেন্ট বোল্ট, নিল ওয়্যাগনার, কাইল জেমিসন, ম্যাট হেনরিরা। মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে প্রথম টেস্ট শুরুর আগের দিন শুক্রবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুল বললেন, নিউ জিল্যান্ডে খেলতে এলে এই পরীক্ষার কথা মাথায় রেখেই আসতে হবে।
মুমিনুল হক বলেন, “নিউ জিল্যান্ড সব সময় আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। ওদের বিশেষজ্ঞ স্পিনার যেহেতু নেই, আমাদের জন্য সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জ হবে পেস বোলিং আক্রমণ। এটা আপনারা, আমরা, সবাই জানি। নিউ জিল্যান্ডে এলে আমাদের জন্য পেস বোলিং আক্রমণই সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে থাকে। এই চ্যালেঞ্জটা আমাদের নেওয়া উচিত।”
বাংলাদেশ দলে থাকা ছয় পেসারের চার জন- আবু জায়েদ চৌধুরি, তাসকিন আহমেদ, ইবাদত হোসেন ও সৈয়দ খালেদ আহমেদের নিউ জিল্যান্ডে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা আছে। যদিও আশা জাগানিয়া কোনো পারফরম্যান্স নেই তাদের। সুযোগ পেলে শরিফুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম খেলবেন এই প্রথম।আবু জায়েদ ২০১৯ সালের সফরে ২ টেস্টে নিয়েছিলেন তিন উইকেট। সেই দুই ম্যাচে তাসকিন দুটি ও ইবাদত একটি উইকেট নেন। এক টেস্ট খেলে এক উইকেট নেন খালেদ। এদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো গড় আবু জায়েদের, সেটাও ৬৫.৬৬।
তবে এবার পেস আক্রমণ নিয়ে বেশ আশাবাদী মুমিনুল। ২০২১ সালে দেশের হয়ে ৩ টেস্ট ১৩ উইকেট নিয়েছেন তাসকিন। কয়েকটা ভালো স্পেল করেছেন ইবাদত। পাকিস্তানের বিপক্ষে সবশেষ সিরিজে বিবর্ণ হলেও নিউ জিল্যান্ডে প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো করেছেন আবু জায়েদ। সব মিলিয়ে টেস্ট তাদের বোলিং দেখতে রোমাঞ্চ নিয়ে অপেক্ষায় বাংলাদেশ অধিনায়ক।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের যে কয়জন পেসার আছে, তাসকিন শেষ কয়েকটা টেস্টে খুব ভালো বোলিং করেছে। ইবাদত শেষ দুই টেস্টে ভালো করেছে। (আবু জায়েদ) রাহীও ভালো অবস্থায় আছে। শরিফুল, খালেদ, শহিদুল সবাই ভালো অবস্থায় আছে।”
“আমার মনে হয়, এক দেড় বছরে আমাদের পেস আক্রমণ অনেক উন্নতি করেছে। নিউ জিল্যান্ড সিরিজে ওদের দেখতে আমি রোমাঞ্চিত। এই সিরিজে ওদের কাজটা একটু বেশি। আমি ওদের নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। এবার আপনারা ভালো কিছু দেখতে পারবেন আমাদের পেস বোলারদের কাছ থেকে।”
