নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
পাক অলরাউন্ডার শোয়েব মালিক কবে অবসরে যাবেন সে প্রশ্ন করার সুযোগ রাখেননি তিনি। বয়সকে সংখ্যা বানিয়ে এখনও যদি দলের সেরা পারফরমারদের একজন হয়ে থাকেন তো অবসরের প্রসঙ্গ টানাই বোকামি।
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও শোয়েব দেখিয়ে দিলেন, ৪০ ছুঁই ছুঁই বয়সেও দলের ২০ বছরের তরুণদের চাইতে অপরিহার্য তিনি।
রোববার স্কটল্যান্ডের বোলারদের তুলোধোনা করে ১৮ বলে ৫৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে তাক লাগিয়ে দিলেন বিশ্বকে।
বিশ্বকাপে শোয়েবের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে যে বিস্ময় জেগেছে, এই বয়সেও নিজেকে এতটা ফিট কীভাবে রাখেন তিনি!
ভক্ত-অনুরাগীদের সেই প্রশ্নের জবাবে শোয়েব জানালেন, আয়নায় নিজেকে দেখে দেখে নিজের ফিটনেসকে ঠিক রাখেন তিনি।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ে ম্যাচসেরা হন মালিক।
ম্যাচপরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসে বললেন, ‘সত্যি বলতে— আয়নায় নিজেকে ফিট দেখার আত্মমগ্নতা আছে আমার। যদিও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, ক্রিকেট খেলাটা এখনও উপভোগ করছি এবং দিনশেষে এটা দলকেও সহায়তা করছে। আমার মনে হয়, নিজেকে ফিট রাখতে হলে প্রতিদিনই ট্রেনিং করতে হয় এবং আমি সেটিই করে আসছি।’
উল্লেখ্য, বিশ্বকাপের জন্য প্রথম ঘোষিত পাকিস্তান দলে ছিলেন না শোয়েব মালিক। শেষ মুহূর্তে চোটের কারণে সোহেব মাকসুদ ছিটকে গেলে বদলি হিসেবে দলে জায়গা পান শোয়েব।
শোয়েব জানালেন, তাকে হতাশা স্পর্শ করলেও তা তার মনবল ভাঙতে পারেনি। আর এই ব্যাপারটি তাকে শরীর ও মন চাঙ্গা রাখে।
বিশ্বকাপের শুরুর স্কোয়াডে জায়গা না পাওয়ার বিষয়ে শোয়েব বলেন, ‘হতাশা দূর করার সুযোগ ছিল আমার। তখন সিপিএল খেলছিলাম, খেলার মধ্যে ছিলাম। এর পর দেশে ফিরে ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি খেলি। কারণ এখনও মাঠে যেতে উপভোগ করি দারুণভাবে এবং এটিই আমার চালিকাশক্তি।’
ফিটনেস ও পারফরম্যান্স দুর্দান্ত হলেও বয়সের কারণে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, আরও কতদিন ২২ গজে দৌড়াবেন?
জবাবে অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার বললেন, ‘আরও দুই-এক বছর খেলা নিয়ে নিশ্চিত নই আমি। এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি আসরের মধ্যে আছি। আপাতত এটি নিয়েই ভাবছি।’
প্রসঙ্গত সুপার টুয়েলভের পাঁচ ম্যাচের তিনটিতেই ব্যাটিংয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন শোয়েব। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন ২০ বলে অপরাজিত ২৬ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস। আফগানিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে করেন ১৫ বলে ১৯ রান। রোববার স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তো সব সীমাই পার করে দেন। ১৮ বলে ৫৪ রানের অপরাজিত বিস্ফোরক ইনিংস খেলে বিশ্বকাপে দ্রুততম হাফসেঞ্চুরিয়ান হন।
