নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
টেস্টের পঞ্চম দিনে বুমরাহ – শারদুল ঠাকুরের বোলিং তোপের সামনে প্রতিরোধ গড়তে পারেনি ইংল্যান্ড । চতুর্থ দিনে রবি বার্নস এবং হাসিব হামিদের দাপুটে ব্যাটিং শেষ দিন ধরে রাখতে পারেনি ইংলিশরা।বরং রবীন্দ্র জাদেজা-জসপ্রিত বুমরাহ-উমেশ যাদব ও শার্দুল ঠাকুরদের বোলিং তোপে অসহায় আত্মসমর্পণ করে ইংল্যান্ড।
৩৬৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে স্বাগতিকরা মাত্র ২১০ রানে গুটিয়ে গেলে সহজ তুলে নেয় ভারত। দ্য ওভালে ইংল্যান্ডকে ১৫৭ রানে হারিয়ে সিরিজে আরও একবার এগিয়ে গেলো ভারত।
চতুর্থ দিনের শেষ সেশনে হামিদ-বার্নসের ৭৭ রানের দারুণ এক জুটিতে শক্ত ভিত পাওয়া ইংল্যান্ডের ম্যাচ জিততে শেষ দিনে প্রয়োজন ছিল ২৯১ রান। পঞ্চম দিন ভারতের বোলারদের সামলানোর যে চ্যালেঞ্জ ছিল সেখানে পুরোপুরি ব্যর্থ ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা। আগের দিন ২ চারে ৩১ রানে অপরাজিত থাকা ররি বার্নস এদিন সকালেই হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন।
তবে হাফ সেঞ্চুরির করার পরের বলেই সাজঘরে ফেরেন তিনি। অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে বল যখন ভেতরের দিকে ধেয়ে আসার সময় বার্নস ব্যাট এগিয়ে দিলে তা আলতো করে স্পর্শ করে উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে চলে যায়। সেই ক্যাচ লুফে নিতে ভুল করেননি উইকেটরক্ষক ঋষভ পান্ত। ৫ চারে ৫০ রান করে ফিরলেও হামিদের সঙ্গে তাঁর শতরানের রেকর্ডও বটে।
চতুর্থ দিন শেষে ৪৩ রানে অপরাজিত থাকা হামিদ হাফ সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন ১২৩ বলে। রবীন্দ্র জাদেজার ফুলটস বলে ডিপ মিড উইকেট ঠেলে দিয়ে তিন রান নিয়ে ক্যারিয়ারের ৪র্থ হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন ডানহাতি এই ওপেনার।
বার্নসের বিদায়ের পর তিনে নেমে সুবিধা করতে পারেননি ডেভিড মালান। সকালের শুরুতে ভারতের বোলারদের সামলাতে খানিকটা বেগ পেতে হয়েছে তাঁকে। থিতু হওয়ার চেষ্টা করলেও প্রথম সেশনের শেষ দিকে এসে সাজঘরে ফেরেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। জাদেজার বলে কভারে ঠেলে দিয়ে রান নেয়ার চেষ্টা করেন হামিদ। ডানহাতি এই ওপেনারের ডাকে সাড়া দেন মালানও। ঝুঁকিপূর্ণ এক রান নিতে গিয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় মালানকে।এরপর প্রথম সেশনের বাকি সময় রুটকে নিয়ে পাড়ি দেন হামিদ। তবে মধ্যাহৃ বিরতি থেকে ফিরতেই ধস নামে ইংল্যান্ড শিবিরে।
হামিদকে দিয়ে যার শুরুটা করেছিলেন জাদেজা। বাঁহাতি এই স্পিনারের বল লেগ স্টাম্প লাইনে পড়ে উইকেটে আঘাত করলে সাজঘরে ফিরতে হয় ৬৩ রান করা হামিদকে। এরপর ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন আপ দুমড়ে মুচড়ে ভেঙে দেন বুমরাহ। ৬ ওভারের দারুণ এক স্পেলে মাত্র ৬ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নেন তিনি। যেখানে তিনি সাজঘরে ফিরিয়েছেন ২ রান করা ওলি পোপ ও ডাক মারা জনি বেয়ারস্টোকে।
পোপকে ফিরিয়ে টেস্টে ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শে করেন বুমরাহ। ২৪ টেস্টে ১০০ উইকেট নেয়ার কীর্তি গড়েন ডানহাতি এই পেসার। যা ভারতের বোলারদের মাঝে সবচেয়ে কম ম্যাচে ১০০ উইকেটের মাইলফলক। মঈন আলিও এদিন সাজঘরে ফিরেছেন ব্যর্থতার পাল্লা ভারি করে। এরপর ইংল্যান্ডের আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রুটকে ফেরান শার্দুল। ডানহাতি এই পেসারের অফ স্টাম্পের বাইরের বল থার্ডম্যান দিয়ে খেলতে গিয়ে এজ হয়ে বোল্ড হন রুট। তাতে ওভালে জয়ের স্বপ্ন ধুলিসাৎ হয় ইংল্যান্ডের।
শেষের দিকে ক্রেইগ ওভারটন-ক্রিস ওকস ও অলি রবিনসনরা ব্যাট হাতে দাঁড়াতে না পারায় ২১০ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড। দা ওভালে স্বাগতিকদের ১৫৭ রানে হারিয়ে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল সফরকারী ভারত। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর ম্যানচেস্টারে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টেস্টে মাঠে নামবে এই দুই দল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত (প্রথম ইনিংস): ১৯১/১০ (৬১.৩ ওভার) (শার্দূল ৫৭, কোহলি ৫০; ওকস ৪/ ৫৫, রবিনসন ৩/৩৮)
ইংল্যান্ড (প্রথম ইনিংস): ২৯০/১০ (৮৪ ওভার) (পোপ ৮১, ওকস ৫০ বেয়ারস্টো ৩৭; উমেশ ৩/৭৬, জাদেজা ২/৩৬)
ভারত (দ্বিতীয় ইনিংস): ৪৬৬/১০ (১৪৮.২ ওভার) (রোহিত ১২৭, পূজারা ৬১, শার্দুল ৬০, পান্ত ৫০; ওকস ৩/৮৩)
ইংল্যান্ড (দ্বিতীয় ইনিংস): ২১০/১০ (৯২.২ ওভার) (বার্নস ৫০, হাসিব ৬৩, রুট ৩৬, উমেশ ৩/৬০, শার্দুল ২/২২, বুমরাহ ২/২৭)
