নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
কার্ডিফে ২০০৫ সালে ওয়ানডেতে অজিদের বিপক্ষে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছিল বাংলাদেশ। গত দেড় যুগে অজিদের বিপক্ষে টেস্ট ও টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটেও জয়ের স্বাদ পেয়েছে টাইগাররা। ক্রিকেটার তুসার ইমরানের কাছে সব গুলো জয়ের মধ্যে ২০০৫ সালে কার্ডিফে অজিদের মাটিতে তাদের ধরাশায়ী করার ম্যাচটিই সবার সেরা ম্যাচ।
নিউজক্রিকেট টুয়েন্টিফোরের সঙ্গে আলাপচারীতায় ক্রিকেটার তুষার ইমরান স্মৃতিচারণ করেছেন কার্ডিফের অজি বধ নিয়ে, এর পাশাপাশি কথা বলেছেন নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়েও।নিউজ ক্রিকেটকে দেওয়া সাক্ষাতকারের খন্ড চিত্র তুলে ধরা হলো।
নিউজক্রিকেটঃ ২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম জয়ী ম্যাচের দলের সদস্য ছিলেন আপনি, সেই জয়ের অনুভূতি কি? ২০২১ সালে এসে তিন ফরম্যাটেই জয় পেল বাংলাদেশ ।পার্থক্যটা কি?
তুষার ইমরানঃ আসলে সেই জয়ের অনুভূতি বোঝানো যাবে না। সেই সময়ের অষ্ট্রেলিয়া টিম আর বর্তমান টিমের মাঝে আকাশ পাতাল ব্যবধান রয়েছে। সেই সময়ে অষ্ট্রেলিয়া ছিল চ্যাম্পিয়নস টিম। সেই সময়েই সম্ভবত ৩ বার চ্যাম্পিয়নস ছিল। তারপর আরও দুইবার চ্যাম্পিয়নস হয়েছে। অপরদিকে আমরা আন্ডার ডগ টিম ছিলাম। সেই সময়ে অষ্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দেওয়া বাংলাদেশের জন্য ছিল বিশেষ কিছু। সেই সময় বলেন এই সময় বাংলাদেশের বাংলাদেশ ইতিহাসের সেরা জয় ছিল সেই সময়ে অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়।
নিউজক্রিকেটঃ সেই ম্যাচে ব্যাট হাতে ২৩ রানের দূর্দান্ত একটা ইনিংস খেলেছিলেন। দলের জয়ে অবদান রেখেছিলেন, সেই দলের সদস্য হিসেবে আপনার অনুভূতি কেমন ছিল।
তুষার ইমরানঃ আমার চেস্টা ছিল দলের জন্য কিছু করার। আসলে সেই সময়ে ২৫০+ রান তাড়া করে জিততে পারবো তা আমারা বিশ্বাস করতে পারতাম না। আমরা ম্যাচটা যখন জিতে যাই কোচ ডেভ হোয়াটমোর আমাকে বলেছিলেন তুমি ভালো একটা স্টার্ট করেছো বলেই আমরা ম্যাচটা জিততে পেরেছি।
নিউজক্রিকেটঃ ঘরোয়া ক্রিকেটের লিজেন্ড বলা হয় আপনাকে। বাংলাদেশ এর ঘরোয়া ক্রিকেটের বেশির ভাগ ইতিহাস আপনার হাতে রচিত। জাতীয় দলকে আপনার অনেক কিছু দেওয়ার ছিল।সেই সুযোগ পাননি। কোথাও কি আফসোস কাজ করে?
তুষারঃ হ্যা অনেক আফসোস কাজ করে। আমার ক্যাপ্টেন্সিতে অনেকে খেলেছে, সাকিব, মুশফিক, যদিও তামিমকে পাই নি সেই সময়ে। মাশরাফিও দুই, একটা ম্যাচ খেলেছিল। তা, ঐভাবে আরকি নিজেকে মেলে ধরতে পারি নি। আক্ষেপ তো কাজ করেই। তারও একটি কারন ছিল, আসলে সেই সময়ে বাংলাদেশ দল এতো ম্যাচ খেলতো না। এখন যেমন ধারাবাহিক ম্যাচ খেলছে, তখন আমাদের বছরে ২-৩ টা সিরিজ হতো, হাতে গোনা কয়েকটা ম্যাচ খেলতাম।
এরকম করে আমাদের পারফরম্যান্স খারাপ হতো, কোচও পরিবর্তন হতো, যার কারনে কখনোই কোচের সুনজরে আসতে পারিনি। যাদের সুনজরে এসেছি তারাও বেশিদিন ছিল না।তখন ছোট ছিলাম, তেমন বুঝতাম না। সবকিছু মিলিয়ে আক্ষেপ তো থেকেই যায়।
নিউজক্রিকেটঃ অবসরের পর ক্রিকেটের সাথেই থাকবেন? নাকি অন্য পরিকল্পনা আছে?
তুষার ইমরানঃ হ্যা ক্রিকেটে সাথেই থাকবো। আমার অভিজ্ঞতা কাজে লাগেতে চাইবো, একজন কোচ হিসাবে কিংবা ভিন্ন কোনো ভাবে। বিসিবি যদি আমাকে কাজে লাগাতে চায়, আমি চেস্ট করবো। আমি এখনই একটা একাডেমিতে কোচ হিসাবে আছি। শেখ জামাল ক্লাবের হয় কাজ করছি। নিজের সেরাটা দিতে চাইবো।
নিউজক্রিকেটঃ আপনি এখনও যেহেতু ক্রিকেট খেলছেন, ক্রিকেটের সাথেই আছেন, দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখেন এখনো?
তুষারঃ সত্যি কথা বলতে এখন আর সেই স্বপ্ন দেখি না। আরও ২-৩ বছর আগে দেখতাম। ২০১৬-১৭ সালে যখন ভালো সময় কাটিয়েছি। তখন এক সিজনে ১৭,০০ শর মতো রান করেছিলাম, আগের সিজনে ১২,০০ শর মতো। তখন ভাবতাম একটা সুযোগ পেলে হয়তো নিজেকে প্রমান করতে পারতাম। এখন আর সেই স্বপ্ন দেখি না, আসলে বয়স হয়ে গেছে, ফিটনেসে ঘাটতি হচ্ছে, তখন সুযোগ ছিল।
নিউজক্রিকেটঃ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনেক গুলো ম্যাচ খেলেছেন দেশের হয়ে। আপনার কাছে এখন অব্দি আপনার সেরা ম্যাচ কোনটি ছিল।
তুষারঃ আসলে তেমন তো খেলা হয়নি। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০০২ সালে একটা ম্যাচ ওয়ানডে খেলেছিলাম। সেখানে ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেছিলাম। পাকিস্তান দলে সোয়েব আখতার, আব্দুর রাজ্জাক, স্যাকলাইন মোস্তাক, শহিদ আফ্রিদির মতো সেরা বোলার ছিল। অল্প বয়সে এই বোলিং লাইআপের বিপক্ষে রান করা সহজ ছিল না। তাই সেটাকেই সেরা বলবো। আরও কিছু ইনিংস রয়েছে, যা ছোট হলেও কার্যকর ছিল।
নিউজক্রিকেটঃ আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, আপনার মূল্যবান সময় দিয়ে আমাদের সহযোগীতা করার জন্য। করোণার এই ক্রান্তিকালে পরিবার নিয়ে সুস্থ ও নিরাপদে থাকুন এমনটাই কামনা করি।
তুষার ইমরানঃ আপনাকেও অসংখ্যা ধন্যবাদ।
নিউজক্রিকেট পরিবারের জন্যও রইলো শুভকামনা। করোনার এই ক্রান্তিলগ্নে, আপনারাও পরিবার নিয়ে সুস্থ ও নিরাপদে থাকুন, এটাই প্রত্যাশা। আমার জন্য দোয়া রাখবেন।
উল্লেখ্য, নিউজক্রিকেট টুয়েন্টিফোরকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ক্রিকেটার তুষার ইমরান কথা বলেছেন উপরোক্ত বিষয় গুলো নিয়ে।
