নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের জন্য বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল মাত্র ১২১ রান, এই রান তাড়া করতে নেমেই হাঁপিয়ে ওঠে বাংলাদেশ। এমন পরিস্থিতিতে মিরপুরের লো স্কোরিং ম্যাচে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে বাংলাদেশকে জয় এনে দিয়েছেন আফিফ হোসেন ধ্রুব ও নুরুল হাসান সোহান। ষষ্ঠ উইকেটে তাদের ৫৪ রানের অনবদ্য ও অবিচ্ছিন্ন পার্টনারশিপ বাংলাদেশকে সিরিজে টানা দ্বিতীয় জয় এনে দেয়। এই জয়ের পর অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ প্রশংসার বৃষ্টিতে ভেজালেন দুই সতীর্থকে।
ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩.১ ওভারে দলীয় ২১ রানে দুই ওপেনারকে হরায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ইনিংসে যখন কালো মেঘের ঘনঘটা। ঠিক সেই সময়ে আশার আলো হয়ে উকি দেয় সাকিব- মাহাদি জুটি। ৩২ বলে ৩৭ রানের তৃতীয় উইকেট জুটি বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়। এরপর সেই আশা হতাশায় পরিনত হতেও সময় নেয় নি। সাকিব, মাহাদির পর ফিরে যান রিয়াদও। তখন নিমেষেই যেন কালো অন্ধকার এসে গ্রাস করে ফেলে বাংলাদেশ ইনিংসটাকে।
১১.২ বলে ৬৭ রানে নেই ৫ উইকেট। জয়ের বন্দরে নোঙর করতে হলে তখনও প্রয়োজন ছিল ৫৫ রান। ইনিংসের এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জয়ের আশা ফিকে হয়ে যেতে তাকে। আমার জন্য তখন জয় যে শুধুই ভ্রম। সেই ভ্রম বাস্তবে রূপ নেয় আফিফ-নুরুলের দূর্দান্ত এক জুটিতে। ৬ষ্ঠ উইকেটে ৪৪ বলে ৫৬ রানের জুটি বাংলাদেশকে এনে দিল রোমাঞ্চকর এক জয়।
এই উইকেটে এইরকম ব্যাটিং সত্যি প্রশংসার দাবিদার। দুই প্রান্ত থেকে অসাধারণ ব্যাটিং করেছে দুজন।ম্যাচের কুশল মোমেন্টে স্নায়ুচাপ সামলে ওরা যেভাবে ব্যাটিং করেছে তাতে মনেই হয়নি এই পিচে ব্যাটিংয় করা কষ্টসাধ্য । ৩১ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৩৭* রান করেছেন আফিফ হোসেন। ২১ বলে ৩ চারে ২২* রান করেছেন নুরুল হোসেন সোহান। ম্যাচ শেষ করে হাসতে হাসতে নাঠ ছেড়েছে ওরা। এই হাসি বিজয়ের! এই হাসি আনন্দ, তৃপ্তি আর গৌরবের! ম্যাচ শেষে এই দুজনের ব্যাটিংয়ের প্রশংসার করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
রিয়াদ বলেন ‘আফিফ ও সোহানকে এভাবে ব্যাট করতে দেখা অনেক স্বস্তির। দুইজনে আমাদের জয় পর্যন্ত নিয়ে গেছে। পরিপক্বতা দেখিয়েছে। দ্রুত কিছু উইকেট হারানোর পর ড্রেসিংরুমে দুশ্চিন্তা কাজ করছিল। কিন্তু আফিফ ও সোহান যেভাবে ব্যাট করেছে, তাতে দুশ্চিন্তা কমে গেছে।’
প্রথম ইনিংসে অসাধারণ বোলিং করেছেন বাংলাদেশের বোলাররা। অষ্ট্রেলয়াকে অল্প রানে আটকে রাখায় বোলারদেরকেও কৃতিত্ব দিয়েছেন রিয়াদ। এ নিয়ে রিয়াদ বলেন, ‘বোলাররা অনেক ভালো করেছে, যার কারণে তাদের ১২১ রানে আটকাতে পেরেছি। এমন কন্ডিশনে মুস্তাফিজ অনেক কার্যকরী এক বোলার। শরিফুলও ভালো করেছে, অন্য বোলাররাও অনেক হিসেবী ছিল। আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ এগোতে চাই।’
প্রথম ম্যাচে অলরাউন্ড পারফরম্যান্স করে ম্যাচের মূল্যবান খেলোয়ার এর পুরস্কার যেতা সতীর্থ খেলোয়াড় সাকিবের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেও ভুলেননি রিয়াদ।
‘সাকিব ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সে দেখিয়েছে দলে তাকে কতটা প্রয়োজন।‘- বলেন তিনি।
# নিউজক্রিকেট/ রাসেল।
