ক্রিকেটারদের অসাদাচরনে আম্পায়ারিং পেশা ছাড়ছেন মনিরুজ্জামান-

নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »

 

আম্পায়ারি ক্যারিয়ারে বিস্তর অপমান সহ্য করেছেন বিসিবি’র তালিকাভুক্ত আম্পায়ার মনিরুজ্জামান টিংকু। কিন্তু আর নয়, আপাতত এখানেই এই পেশার ইতি টানবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদায়ের কথা জানান তিনি। কিন্তু সেদিন খুব দূরে নয়, খুব শীগ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়ে প্রিয় পেশাকে বিদায় জানাবেন মনিরুজ্জামান।

বিষয়টি এমন নয় যে নিজ কর্মে অপমানিত হয়ে আম্পায়ারিংকে বিদায় জানাতে মনোস্থির করেছেন তুনি। বরং পক্ষপাতদুষ্ট আম্পায়ারিংকে সব সময়েই দূরে ঠেলে রেখেছেন। তার সততা ও নিষ্ঠাকে সবসময়ই কুর্ণিশ করেছে পক্ষপাতদুষ্ঠ আম্পায়ারিং। কিন্তু তার ভেতরটা তখনই পুরে খাঁক হয়ে যায়, অপমানের ক্লেশে ভরে উঠে যখন কেউ তার পেশার অন্য কাউকে গালি দেয়, দুর্নীতিপরায়ন আম্পায়ার বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধ্বণি তোলে ও তাদের প্রতি অঙ্গুলি তুলে বলে ওই যে ওই লোকটা একটা দুর্নীতীপরায়ন আম্পায়ার! যদিও তিনি মেনে নিয়েছেন, ঢাকার ক্রিকেটে বিশেষ বিশেষ ক্লাবগুলোকে বিশেষ সুবিধা দিতে আম্পায়াররা পক্ষপাতমুলক আম্পায়ারিং করে থাকেন। তাই বলে সবাই তো আর নয়। এক দুজনের দায়ে ঢালাওভাবে সবাইকে এই কাঠগড়ায় দাঁড় করানোয় তার জোর আপত্তি। কিন্তু কে তার আপত্তিতে কান দেয়? সঙ্গত কারণেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তার এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সম্প্রতি জ্বালানি দিয়েছে ‘সাকিব কান্ড’। মনিরুজ্জামান ভাবতেই পারছেন না কী করে সাকিব আল হাসানের তারকা ক্রিকেটার ওভাবে আম্পায়ারের সামনে পা তুলতে পারেন, স্ট্যাম্পে লাথি মারেন, কী করেই বা ওভাবে স্ট্যাম্প তুলে আছাড় মারেন। সেদিন ফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে তিনি ছিলেন না বটে কিন্তু তার স্বজাতির কেউই তো ছিল। তাকে এভাবে অপমান করাটা তার জন্যও তো অপমানের শামিল।

আম্পায়ারিং পেশার ইতি টানার বিষয়ে তিনি বলেন ‘সিদ্ধান্তটি আমি হিসেব করে নিয়েছি, আবেগপ্রবন হয়ে নয়। ক্রিকেট এখন যে পর্যায়ে গিয়েছে এটা এখন অনেক বড় ব্যবসা। ইদানিং অনেকেই বলছেন বাজে পারফরম্যান্সের কারণে প্লেয়াররা বাদ গেলে আম্পায়াররা কেন নয়? পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে যদি বলি আমরা অনেক বড় ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে থাকি। আমি নিজে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেছি। আমি বুঝি প্লেয়ার না থাকলে ক্রিকেট থাকবে না, তবে আম্পায়ার না থাকলে ক্রিকেট থাকবে। দেখেন আমি বা আমরা প্রচার চাই না। সাকিব যে ঘটনাটা ঘটাল ওখানে যদি আমি থাকতাম একই সিদ্ধান্ত দিতাম। আম্পায়ার হিসেবে আমার কাছেও মনে হয়েছে ওটা আউট ছিল না। সে ওটাতে খুশি ছিল না বিধায় ওই কান্ড ঘটিয়েছে।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »