নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
শুরু তো হোক শেষটা দেখা যাবে, এই মন্ত্রে বিশ্বাসী হয়ে যারা পথচলা শুরু করেছে যুগে যুগে তারাই সফল হয়েছেন। আর যারা শুরু করতেই লেট করেছে তারাই পিছিয়ে পরেছে। থেমে থাকলে চলবে নতুন কিছুর সন্ধানে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। সাফল্য লাভের আশায় অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হবে। লড়াইয়ের জন্য নিজেকে মানসিকভাবে গড়ে তুলতে হবে। বিন্দু বিন্দু জল মিলে সাগর না হোক, অন্তত এক জলাধার তো হতে পারে! ক্রিকেট মাঠে বর্তমান সময়ে তার উৎকৃষ্ট উদহারন মেহেদী হাসান মিরাজ।
মেহেদি হাসান মিরাজ শুরুর দিকে খুব বড় অবদান রাখতে পারেন নি দলের জন্য , কিন্তু তার কার্যকরী পারফরম্যান্সই এর পুরস্কার হিসাবে আইসিসি ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে বোলারদের তালিকায় দুইয়ে উঠে এসেছেন তিনি।
মেহেদি হাসান মিরাজ বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক বড় প্রাপ্তি। প্রান সঞ্চারে ভরপুর একজন তরুন খেলোয়াড় ক্রিকেট মাঠে বুক চিতিয়ে লড়াই করেন। সতীর্থদের সাথে দুষ্টামি করেন, তাদেরকে চাঙা রাখেন, লড়াইয়ে সাহস জোগান। সতীর্থরাও তাকে স্নেহ করেন ভালোবাসেন। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পাশাপাশি দূর্দান্ত ফিল্ডিং করে দলের জয়ে অবদান রাখেন। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ওয়ানডে ক্রিকেটে তেমন সফল ছিলেন না এই তরুন। সেই সময়ে ইকোনমিক বোলিং করে দলের রান সেফ করাই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু এভাবে কতোদিন, একটা সময় চারদিক থেকে অন্ধকার ঘনিয়ে আসতে থাকে। সংক্ষিপ্ত ফর্মেটে তার মলিন পারফরম্যান্স এর জন্য সমালোচিত হতে থাকেন। এক সময় তার সামর্থ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠতে থাকে। তবে ঘুড়ে দাঁড়াতেও সময় নেন নি এই তরুন অলরাউন্ডার। সময়ের সাথে সাথে বদলে গেছে তার পারফরম্যান্স এর ধার। এখন আর ক্যালকুলেট করে বল করতে হয় না। নিজের সামর্থ্যের পুরোটা ঢেলে দেন। মুড়িমুড়কির মতো উইকেট নিয়ে দলের জয়ে অবদান রাখছেন। আর এখানে আসছে ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা তাকে সাহায্য করেছে। সেই বিশ্বকাপ তার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে, এমন দাবি খোদ মিরাজের।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ অনেক বড় একটা ইভেন্ট ছিল যা আমার আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়েছে। বিশ্বমানের ব্যাটসম্যানরা থাকে। ইংল্যান্ডে তো স্পিন ট্র্যাক নেই। মানসিকভাবে ঠিক করেছিলাম, আমি যদি উইকেট নাও পাই, ব্যাটসম্যান যেন আমাকে মারতে না পারে, আমার ওপর ডমিনেট না করতে পারে। আমি যেন দলের প্রয়োজনে যেকোনো সময় রান চেক দিয়ে ২-১টা উইকেট বের করতে পারি।’
পেসারদের স্বর্গরাজ্যেও মিরাজ জ্বলে উঠেছিলেন কয়েক ম্যাচে। রান বন্যার উইকেটে করেছিলেন নিয়ন্ত্রিত বোলিং। সেখান থেকে খুঁজে পান ভবিষ্যতের রসদ। মিরাজ বলেন, ‘কয়েক ম্যাচে হয়েছেও। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচে হয়েছে, নিউজিল্যান্ড-ইংল্যান্ডের সাথেও ২টি করে উইকেট পেয়েছি। ছোট ছোট জিনিসই অনেক সময় পার্থক্য গড়ে দেয়। আমি সেগুলো নিয়েই চিন্তা করেছিলাম।’
‘টেস্ট দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু করেছিলাম। প্রথমদিকে ওয়ানডেতে তেমন সুযোগও পাইনি, নিয়মিত হয়েছি ২০১৮ সাল থেকে। তারপর এশিয়া কাপ, দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ, আয়ারল্যান্ড সফর, বিশ্বকাপে খেলেছি। ওখান থেকে ছোট ছোট পারফর্ম করতে করতে আজকে এই জায়গায়।’
শ্রীলংকার বিপক্ষে দাপুটে পারফরম্যান্স করে আইসিসি ওয়ানডে র্যাংকিংয়ের ক্যারিয়ারের সেরা ২ নম্বরে অবস্থান করছেন মিরাজ। এর আগে আর মাত্র দুজন বাংলাদেশি বোলার শীর্ষ দুইয়ে উঠতে পেরেছিল। তারাও স্পিনার- সাকিব আল হাসান ও আব্দুর রাজ্জাক। নিজের এই অর্জনে সতীর্থ ও দলকে কৃতিত্ব দিতে ভুলেননি এই তরুণ অলরাউন্ডার।
তিনি বলেন, ‘সবাই অনেক সাপোর্ট করছে, সতীর্থরা অভিনন্দন জানিয়েছে। এটা আসলে অনেক বড় একটা প্রাপ্তি। খারাপ সময় কিন্তু সবারই যায়। কিন্তু ভালো-খারাপ সবসময়ই সতীর্থরা সাপোর্ট করে। আমার খারাপ সময়টায় সবাই আমাকে সাপোর্ট করেছে, উৎসাহ দিয়েছে। হয়তো খারাপ সময়টা যদি আমি ওভারকাম না করতে পারতাম, হয়তো আজকে এই অবস্থানে আসতে পারতাম না। আমি সতীর্থ ও টিম ম্যানেজম্যান্টের সবাইকে ধন্যবাদ দিতে চাই।
নিউজক্রিকেট /রাসেল।
