মাশরাফি-আশরাফুলরা না পারলেও পেরেছেন তামিম

নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »

 

শ্রীলংকার বিপক্ষে অর্ধশতক ওয়ানডে ম্যাচ খেলার পর অবশেষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। দেশের নন্দিন সব অধিনায়কদের পিছনে ফেলে তামিমের হাতে রচিত হলো প্রথমের গল্প। এর আগে খালেদ মাসুদ, হাবিবুল বাশার, মোহাম্মদ আশরাফুল, মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৮টি ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। কিন্তু কখনোই সিরিজ জিততে পারেনি লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

টেস্ট খেলুড়ে দেশ গুলোর মধ্যে অষ্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ড ব্যাতীত প্রতিটা দলের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। এশিয়ান দল গুলোর মাঝে শুধু শ্রীলংকার বিপক্ষেই এর আগে সিরিজ জেতা হয় নি টাইগাররদের। অবশেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।

ঘরের মাঠে শ্রীলংকার বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে ইতিমধ্যেই ২-০ তে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে তামিম ইকবাল এর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ৩৩ রানে জয়ের পর দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে লঙ্কানদের ১০৩ রানে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। আগের অধিনায়করা যা পারেননি, সেটাই করে দেখালেন তামিম।

গত ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর শ্রীলংকা সফরে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের দায়িত্ব পান তামিম। সেই সিরিজেই শ্রীলংকার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের আক্ষেপ ঘোচাতে পারতেন তামিম।কিন্তু সেই সিরিজে তেতো স্বাদ নিতে হয় তাকে। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে ০-৩ ব্যাবধানে হোয়াইটওয়াশ হয় দল। তবে খুব বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি তাকে। এখন তিনি বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের নিয়মিত অধিনায়ক। দুই বছরের ব্যবধানে ঘরের মাঠে’ অধিনায়ক হয়েই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ উপহার দিয়েছেন তিনি।

১৯৯৬ সাল থেকে ২০২১ এখন পর্যন্ত শ্রীলংকার বিপক্ষে ৫০* টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত ৯* ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। বিপরূতে ৩৯ ম্যাচ জিতেছে শ্রীলংকা, ২ টি ম্যাচ পরিত্যাক্ত হয়। ২০০২ সালে প্রথমবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু খালেদ মাসুদের দল সুবিধা করতে পারেনি। তিন ম্যাচেই হেরেছিল দল। ২০০৫ সালে হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কা সফরে যায় বাংলাদেশ দল। আগের সফরের মতো এবারও তিন ম্যাচে হারে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

২০০৬ সালে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসে শ্রীলঙ্কা। হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বে খেলা দলটি এক ম্যাচ জিতলেও সিরিজ হারে ২-১ ব্যবধানে।। এরপর ২০০৭ সালে আশরাফুলের নেতৃত্বে অনেক প্রত্যাশা নিয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু ভাগ্য বদলায়নি। আবারও হোয়াইটওয়াশ হয় সফরকারীরা।

৬ বছর বিরতি দিয়ে ২০১৩ সালে মুশফিকের নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কা সফরে যায় বাংলাদেশ । সেই সফরে একটি করে জয় পায় বাংলাদেশ এবং শ্রীলংকা। অপর ম্যাচটি পরিত্যাক্ত হয়। বৃষ্টিবিঘ্নিত সিরিজটি ১-১-এ ড্র হয়। পরের বছর মুশফিকের নেতৃত্বে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে খেলে বাংলাদেশ দল। এই সিরিজে ৩-০ তে হোয়াইওয়াশ হয় বাংলাদেশ।

 

এরপর মাশরাফির নেতৃত্বে বাংলাদেশ ইতিহাসের অন্যতম সেরা দলটি নিয়ে ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কা সফরে যায় বাংলাদেশ দল। ডাম্বুলায় প্রথম ম্যাচে ৯০ রানের বড় হয় তুলে নেয়ে মাশরাফির বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়। সিরিজ জয়ের হাতছানি থাকলেও শেষ ম্যাচে । কলেম্বোতে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ৭০ রানে হেরে ১-১ সিরিজ ড্র করতে সক্ষম হয়।

২০১৯ বিশ্বকাপের পর মাশরাফির ইনজুরিতে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পান তামিম ইকবাল। তার নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়ে হতাশাজনক পারফরম্যান্স করে বাংলাদেশ। কলম্বোতে অনুষ্ঠিত সিরিজের সবকটি ম্যাচেই হেরে যায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব পেয়ে স্বপ্ন ভেলায় ভাসতে থাকেন তামিম। নিয়মিত অধিনায়ক হওয়ার পর প্রথম সিরিজেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩-০ তে হোয়াইওয়াশ করে বাংলাদেশ। অধিনায়ক হিসাবে উড়তে থাকেন তামিম। কিন্তু মুদ্রার ও পিঠ দেখতেও সময় লাগে নি তার। পরের সিরিজে নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে ৩-০ তে হোয়াইওয়াশ হয় বাংলাদেশ। ব্যর্থতার সেই দেয়াল ভেঙে ফের ঘুরে দাড়িয়েছে দল। ঘুরে দাড়িয়েছেন তামিম ইকবাল।তামিমের নেতৃত্বেই। লঙ্কানদের বিপক্ষে প্রথমবার ওয়ানডে সিরিজ জয়ে উৎসবে রঙিন বাংলাদেশ। আরও অনেক প্রথমের গল্প রচিত হোক তামিমের হাত ধরে। বাংলাদেশ উড়তে থাকুক স্বপ্ন ভেলায়।

নিউজক্রিকেট/ রাসেল।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »