নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
বাংলাদেশের ব্যাটিং স্তম্ভ বলা হয় মুশফিকুর রহিমকে। ওয়ানডে, টি টোয়েন্টি কিংবা টেস্ট, ফরম্যাট যেটাই হোক চাপের মুখে বাংলাদেশ দলের উদ্ধারকর্তা মুশফিকুর রহিম। যেমনটি চলমান সিরিজে গতকাল শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে। মিরপুরের মন্থর উইকেটে ৮৭ বলে ৮৪ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হয়েছেন বাংলাদেশ দলের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম।
দুবাই, দেরাদুন, সিডনি কিংবা শ্রীলংকার পাল্লাকেলে নয়। হোম অফ ক্রিকেট শেরই বাংলা ন্যাশনাল ক্রিকেট স্টিডিয়ামে ছিল উত্তাপ্ত রোদের ঝলকানি। ৩৭/৩৮ ডিগ্রি তাপমাত্রা ছুয়েছিল মিরপুরে। গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদের মাঝে নিজেদের ঠিক রেখে ব্যাটিং করা সহজ ছিল না ব্যাটসম্যানদের জন্য। অতিরিক্ত গরমে যে ব্যাটিং করা সহজ ছিল না সেটিও অকপটে স্বীকার করেছেন মুশফিকুর রহিম নিজেও।
নিউজিল্যান্ড সফরে যাট হাতে ব্যর্থ ছিলেন মুশফিকুর রহিম। উইকেটের পিছনেও ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। চারদিক থেকে সমালোচনার তীর ধেয়ে আসছিল তার দিকে। সেই সিরিজের ব্যর্থতা কাটিয়ে ঘরের মাঠে শ্রীলংকার বিপক্ষে নিজেকে ফিরে পেলেন মুশফিক। কঠিন চাপের মাঝেও খেলেছেন ঝলমলে এক ইনিংস। কিন্তু স্লো উইকেটের সঙ্গে এই গরমে ব্যাটিং কঠিন হয়ে পরে শুরুতেই লিটন ও সাকিবকে হারিয়ে। তবে সেখান থেকে তামিমের সঙ্গে ৫৬ এবং মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে ১০৯ রানের জুটি গড়ে দলকে সম্মানজনক স্কোরে দাঁড় করাতে বড় ভূমিকা পালন করেন মুশফিক। এই আবহাওয়ায় যে কাজটি কঠিন ছিল সেটি সরাসরিই বললেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। পাশাপাশি মিরাজ, সাইফউদ্দিনসহ বাকি বোলারদের কৃতিত্ব দিচ্ছেন তিনি।
“সত্যি বলতে, এটা ক্রিকেটের জন্য আদর্শ কন্ডিশন নয়। শুধু গরমই নয়, ভেতর থেকে অনেক কিছুই শুষে নেয় এটা। প্রচণ্ড আর্দ্রতা, অনেক ঘাম ঝরে। প্রতিটি বলে মনোযোগ ধরে রাখতে হয়। তবে আমাদের ক্রিকেটারদের কৃতিত্ব, তারা খুব ভালো সামলেছে। বিশেষ করে বোলাররা। মিরাজ অসাধারণ ছিল, মুস্তাফিজ ও সাইফউদ্দিনও সঙ্গ দিয়েছে তাকে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “ব্যাটিংয়ের জন্য এই উইকেট খুব সহজ নয়। শুরুতে লিটন ও সাকিবকে হারিয়ে আমরা একটু চাপে ছিলাম। তবে তামিম সেই সময় খুব ভালো ব্যাট করেছে, যে কারণে আমি সময় নিয়ে এগোতে পেরেছি। রিয়াদ ভাইও ভালো ব্যাট করেছেন। সব মিলিয়ে এটা ভালো ম্যাচ ছিল, কারণ লম্বা সময় পর আমরা ঘরের মাঠে ওয়ানডে ম্যাচ খেলছি।”
মুশফিকুর রহিম বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের রান মেশিন। কিন্তু কখনোই তাকে তেড়েফুঁড়ে খেলতে দেখা যায় না। দলের প্রয়োজনে কখনও মন্থর কখনো বা আক্রমনাত্মক। কিন্তু মুশফিক কখনোই বিগ হিটার হিসেবে পরিচিত ছিলেন না। উইকেটের চারপাশে বুদ্ধিদিপ্ত শর্ট খেলে রান বের করেন তিনি। ব্যাতিক্রম ছিল না গত কালকের ইনিংসটিও। মিরপুরে ৮৪ রানের ইনিংসটি সাজিয়েছিলেন মাত্র ৪ বাউন্ডারি এবং ১ টি ওভার বাউন্ডারি দিয়ে। ম্যাচ শেষে মনে করিয়ে দিলেন তিনি ক্যারিবীয় রাসেল বা পোলার্ডের মতো বিশাল দেহের কেউ নন।
মুশি বলেন“আমি বিশাল দেহের কেউ নই যে সহজেই বাউন্ডারি হাঁকাতে পারব। আমি পোলার্ড বা রাসেল নই। আমি নিজের শক্তির জায়গায় থাকার চেষ্টা করি। কন্ডিশনও আমাকে সুযোগ দেয়নি খুব বেশি বাউন্ডারি মারার। আমি তাই সময় নিয়েছি, আস্তে আস্তে রান বাড়িয়েছি। একটা প্রান্ত নিরাপদ রাখতেও হতো আমাকে। সেটা আমি করেছি।
নিউজক্রিকেট /রাসেল।
