বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক অসম্পূর্ণ কল্পকাব্য

ডেস্ক রিপোর্ট »

টেস্ট ক্রিকেট আর বাংলাদেশ! সম্পর্ক টা তেমন ভালো না।একটু ছাড়া ছাড়া। কখনো আলোর মুখ দেখি আবার কখনো বা ডুবে যাই অন্ধকারে।

 

প্রথম থেকেই কেনো যেনো মনে হতো আমরা এখনো মানিয়ে নিতে পারি নি। যদি দলে নিয়মিত ২০১৪ সাল থেকে হিসাব করি তাহলে কিছু পরিচিত নামগুলো হলো তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মুশফিক, ইমরুল, মাহমুদুল্লাহ, মমিনুল, তাইজুল। এপর্যন্ত যদি একটু লক্ষ করি ভরসার সব নামই টপ অর্ডার এ। হ্যা একজন জেনুইন স্পিনার এই লিষ্ট এ থাকলেও পেসার খুঁজে পাওয়াটা বড়ই অসাধ্য।

 

মানে ২০ বছরের টেস্ট ক্রিকেটের কোটা শেষ করার পরও আমরা এমন কেউ কে এখনও খুঁজে পাইনি যারা লোয়ার অর্ডারে আমাদের কিছু রান এনে দিবে পাশাপাশি বোলিং টাকেও সামনে থেকে সাকিব এর সাথে লিড দিবে।

 

পেয়েছি কিনা পাই নি? আসলেই কি পাই নি! হ্যা পেয়েছি, হয়তোবা ধরে রাখতে পারি নি। ২০১২ সালে অভিষেক ম্যাচে উইন্ডিজ এর বিরুদ্ধে ৯ উইকেট তাও আবার যে ম্যাচ এ উইন্ডিজ রা প্রথম ইনিংস এ ৪ উইকেট হারিয়ে ডিক্লেয়ার ঘোষণা করে,এর মধ্যে ৩ টি শিকার ই ছিল তার। তার পরিচয় দেওয়ার জন্য আরেকটা রেকর্ড এর কথা বলি যা ১৪৪ বছরের টেস্ট ইতিহাস এ এখনও কেউ গড়ে নি।এবং আগামী ১০০ বছরেও এই রেকর্ড ভাঙবে কিনা তা সবার অজানা।

রেকর্ড এ ফিরে আসি, চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম ও একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে নিউজিল্যান্ড এর বিরুদ্ধে এক ই ম্যাচে হ্যাটট্রিক এবং শতরান করার অনন্য রেকর্ড গড়েন তিনি। নাম টা নিশ্চই পরিষ্কার ? “সোহাগ গাজী”। এমন একজন পারফর্মার যে লোয়ার অর্ডার এ রান তো দিতই পাশাপাশি বোলিং তাণ্ডব এর কথা নাই বা বলি। ২০১৪ সালের পর তার ক্যারিয়ার যেনো হারিয়ে যায় এবং এরপর থেকে এখনও আমরা পাইনি তার মতো একজন নিখুঁত বোলিং অলরাউন্ডার।

 

 

অনেক সমীকরণ বলবে মেহেদী সেই সাপোর্ট টা এখন দিচ্ছে তবে সোহাগ এর মত না। তখন এমন একটা সময় ছিল যখন ৮ নম্বর এ নেমে দলের হালটা তার ই ধরতে হত। টেস্ট ক্রিকটে ১২ বছর পার করার পরেও এমন প্লেয়ার কে পেয়ে আবার ৩ বছর পর হারিয়ে ফেলাটা আমাদের দুর্ভাগ্য ছাড়া কিছুই নয়। হয়তো সেই জিদটা ধরে রাখতে পারেননি তিনি অথবা আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বাইরে থাকতে থাকতে হারিয়ে ফেলেছেন নিজেকে। এবং তার চেয়েও বড় কারন সুযোগ এর অভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি আপণ রূপে।  তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করে যাচ্ছেন নিয়মিত ।

 

 

তাকে ধরে রাখতে পারলে হয়তো আমরা পেতে পারতাম আশ্বিন,জাদেজা,এস্টন এগার,রস্টন চেস,ফিল্যান্ডার, ব্রডেদের মত ট্যালেন্ট।

 

সোহাগ গাজীর ক্যারিয়ারের শুরুটা যেমন রাজকীয় ছিলো পুরো ক্যারিয়ারও রাজকীয় হতেই পারতো, কিন্তু ইঞ্জুরি সোহাগ গাজীকে হতে দেয়নি লাল সবুজের নিয়মিত মুখ । সময় বদলে যাবে , জেনারেশন বদলাবে কিন্তু সোহাগ গাজীর রেকর্ড সবসময়ই থাকবে ইতিহাসের পাতায়।সোহাগ গাজী থাকবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক নক্ষত্র হয়ে , থাকবেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক আফসোসের নাম হয়ে।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »