হারিয়ে যাওয়া তাসকিন ফিরেছেন নতুন উদ্যমে

ডেস্ক রিপোর্ট »

সেদিন তাসকিনের অঝোরে কান্নার কথা কারো ভুলে যাওয়ার কথা নয়, চোখ মুছতে মুছতে সেদিন শেরেবাংলা থেকে বের হওয়ার সময়ের ছবি ও ভিডিও মনে করিয়ে দিচ্ছিলো ২০১১ এর মাশরাফিকে। সেদিন তাসকিন কেঁদেছিলেন, ২০১৯ বিশ্বকাপ দলে সুযোগ না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে কেঁদেছিলেন তিনি, সেই কান্নার সাথেই হয়তো পন করেছিলেন আরো ধারালো হয়ে ফিরবেন লাল সবুজের জার্সি গায়ে।

 

 

২০১৪ সালে টি২০ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক মোহাম্মদপুরের ছেলে তাসকিন আহমেদ তাজিমের। এর আগে বিপিএল ও ঘরোয়া ক্রিকেটে গতির ঝড় তুলে জানান দিয়েছেন নিজের সামর্থের । আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিষেকেই নজড় কেড়েছেন ক্রিকেট বিজ্ঞদের, ওয়ানডে অভিষেকে ভারতের বিপক্ষে ৫ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারের শুরু। এরপর ছিলেন জাতীয় দলের নিয়মিত মুখ। ২০১৫ বিশ্বকাপে ছিলেন দলের সেরা বোলার, দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বোলার। কিন্তু ১৫ এর সেরা বোলারের জায়গা হয়নি ১৯ বিশ্বকাপের দলে।

 

 

২০১৫ বিশ্বকাপের পরে সময়টা ভালোই যাচ্ছিলো তাসকিনের, কিন্তু ইঞ্জুরি পিছু ছাড়েনি এই ডানহাতি পেসারের। একের পর এক ইঞ্জুরি তাসকিনকে ক্যারিয়ার থেকে ফেলে দিয়েছে অনেক পিছনে। ইঞ্জুরি কাটিয়ে বিপিএল দুর্দান্ত পারফর্ম করে জাতীয় দলে আবারও সুযোগ আসলেও জায়গা মিলেনি বিশ্বকাপ দলে । তাসকিন হয়তো সেদিন শপথ করেছিলেন জাতীয় দলে নিজের জায়গা ফিরে পাওয়ার ।

 

 

এখান থেকেই শুরু হয় তাসকিনের অদম্য সংগ্রাম, নিজেকে নতুন করে তৈরি করার অদম্য ইচ্ছা শক্তি। তাসকিন পরিশ্রম করেছেন নিজেকে নতুন ভাবে তৈরি করতে, করোনা কালীন সমযয়েও তার বাসার অদূরে মিলেনিয়াম সিটিতে ছুটে গেছেন কঠোর পরিশ্রম করতে, আবার কখনো ছুটেছেন ধানমন্ডির জিমে। কখনো বা আগুনের উপর দিয়ে হেঁটে গিয়েছেন , শুধু পরিশ্রম না, পরিবর্তন এনেছেন নিজের জীবন ধারায়ও।

 

 

পরিশ্রমের ফল তাসকিন পেয়েছেন, খুব ভালো ভাবেই পেয়েছেন। করোনাকে পিছনে ফেলে যখন ক্রিকেট মাঠে ফিরলো তখন থেকেই তাসকিন দুর্দান্ত। প্রেসিডেন্ট কাপ দিয়ে শুরু, এরপর বঙ্গবন্ধু টি২০ লীগেও মন কেরছেন দুর্দান্ত বোলিং করে। দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এর সুযোগ টা পেলেন তাসকিন আবার জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে। প্রত্যাবর্তন ম্যাচে তাসকিন শিকার করেন দুই উইকেট।

 

এরপর নিউজিল্যান্ডের বাউন্সি উইকেটে গতির ঝড় তুলে সবাইকে মুগ্ধ করেছেন বটেই। ফিল্ডারদের ক্যাচ মিস না হলে তাসকিন এর প্রত্যাবর্তন টা হতে পারতো আরো দুর্দান্ত।

 

তবে তাসকিনের জন্য সবচেয়ে কঠিন ছিল টেস্ট ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন। ২০১৭ সালে অভিষেকের পর থেকে ৫ টেস্ট খেলে নিয়েছিলেন মাত্র ৭ উইকেট। কিন্তু এবার টেস্ট প্রত্যাবর্তনে তাসকিন করলেন বাজিমাত। শ্রীলংকার স্লো উইকেটেও দেখিয়েছেন গতির ঝড়, লাইন লেন্থেও দেখিয়েছেন চমক, আর নিয়মিত ১৪০+ গতি ধরে রেখে বড় স্পেলে বোলিং করা তাসকিনকে যেন পরিচিত করেছে নতুন ভাবে। শ্রীলঙ্কায় তাসকিন দুই টেস্টে নিয়েছেন ৮ উইকেট, যেখানে অন্য সব বোলাররা ব্যর্থ। ফিল্ডাররা ক্যাচ মিস না করলে উইকেটের সংখ্যাটা আরো বেশি হতে পারতো।

 

 

তাসকিন স্বপ্ন দেখাচ্ছেন নতুন করে, নতুন কিছু করার। নিজের পুরনো জায়গাটা তো ফিরেই পেয়েছেন এখন শুধু অপেক্ষা পুরনো তাসকিনকে ছড়িয়ে যাওয়ার। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে তাসকিন খুব শীগ্রই ছড়িয়ে যাবেন পুরনো তাসকিনকে। লাল সবুজের জার্সি গায়ে একের পর এক সাফল্য এনে নিজেকে নিবেন এক অন্যন্য উচ্চতায়।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »