নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
ক্রিকেটে ফিনিশিং শব্দটা খুবই পরিচিত। ফিনিশিং আর ফিনিশার একে অন্যের পরিপূরক। ম্যাচের কুশল মোমেন্ট স্নায়ুচাপ জয় করে কোনো একটা দলের কঠিন সমীকরণ মিলিয়ে পুরো দলকে জয়ের বন্দরে পৌছে দেওয়াই একজন ফিনিশার এর কাজ। ফিনিশার যে কেউ হতে পারে। একজন ব্যাটসম্যান, বোলার কিংবা সেই দলের দলপতি। ক্রিকেটে নিয়মিতই দেখা যায় ব্যাটিংয়ে ধুঁকতে থাকা দলটাকে টেনে তুলছেন একজন ফিনিশিং ব্যাটসম্যান । কখনোও বা প্যান্ডুলামের মতো দুলতে থাকা একটা ম্যাচে দূর্দান্ত বোলিং করে ম্যাচ ফিনিশ করছেন একজন বোলার। কখোনা বা মাইন্ড গেম কিংবা মস্তিষ্ক দিয়ে মরা ম্যাচে উত্তেজনা ছড়াচ্ছেন একজন দলনেতা। সবাইকেই ফিনিশার বলা যায়। আর এসব কাজ করে থাকেন একজন আদর্শ ফিনিশার। বাংলাদেশ দলের আদর্শ ফিনিশার হতে নিজেকে নিয়ে কাজ করছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।
বাংলাদেশ ক্লোজ ম্যাচ হেরেছে বহুবার। শেষ মূহুর্তে খুঁটিনাটি কিছু ভুলের কারণে জয়ের প্রান্ত থেকে ম্যাচ হারতে হয়েছে। এর পেছনে সাইকোলজিটা কি? ক্রিকেট যে একটা স্নায়ুর খেলা জানা সত্ত্বেও সে ব্যাপারে আমাদের ক্রিকেট বোর্ড এবং ক্রিকেটাররা কতটা মনযোগী। এভাবে চিন্তা করলে বাংলাদেশ দল এসব জায়গায় ঢের পিছিয়ে। একজন আদর্শ ফিনিশার এর অভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। ২০১২ সালের এশিয়া কাপ ফাইনাল কিংবা ২০১৬ সালের টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১/২ রানের সমীকরন মেলাতে না পেরে চোখের জ্বলে ভাসতে হয়েছে পুরো দলকে। অথচ এর থেকে কঠিন কঠিন সমীকরন মিলিয়ে দিচ্ছেন ডি ভিলিয়ার্স, মহেন্দ্র সিং ধোনি, স্টোকস,ম্যাক্সওয়েল এর মতো ফিনিশাররা।
বাংলাদেশ দলেও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, নাসির হোসেন এর মতো আদর্শ ফিনিশার রয়েছে। নাসির নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন, রিয়াদ রয়েছে ক্যারিয়ারের অন্তিম মুহূর্তে। তাহলে এদের অনুপস্থিতিতে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ দলের এই দায়িত্বটা কে নিবে। বাংলাদেশ কন্ডিশনে অল্প সময়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া খুবই কঠিন, তাতে ফিনিশার যিনিই হন না কেন। সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ারে ইতিমধ্যেই ফিনিশিং এর ভিমিকায় দেখা কঠিন এই ভূমিকায় নিজেকে আরও শাণ দিতে কঠোর পরিশ্রম করছেন জাতীয় দলের অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।
মোসাদ্দেক জানান, ‘ব্যাটিংয়ে ফিনিশারের দায়িত্বটা সবসময় থাকে। দলকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যাওয়া, ঠিকভাবে শেষ করা এটাই সবসময় কাজ থাকে। ভালো সময়ে ভালোভাবে ফিনিশ করার দায়িত্বটাই আমাদের (ফিনিশার) ওপর থাকে। নতুন করে কাজ করা বলতে… এই সময়টাতে ইয়র্কার এবং স্লোয়ার বেশি আসে। এটা নিয়েই কাজ করছি। এর বাইরে আমি মনে করি নতুন করে কাজ করার কিছু নেই।’
নিউজিল্যান্ড থেকে বয়ে আনা চোট বেশ ভুগিয়েছে মোসাদ্দেককে। অবশ্য ইনজুরি থেকে ফিরে ইতিমধ্যেই ব্যাটিং বোলি প্রাকটিস শুরু করেছেন তিনি। সবকিছুতেই ভাল অনুভন করছেন তিনি। সেই সাথে নিজেকে আত্মবিশ্বাসী দাবি করে আশা প্রকাশ করেন মোসাদ্দেক। তার বিশ্বাস অচীরেই ভালো পারফরম্যান্স করে ঘুরে দাঁড়াবেন তিনি। সেই সাথে ঘুরে দাঁড়াবে দলও।
এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। যখন ব্যাটিং বোলিং করছি তখন মনে হচ্ছে আমার শেপটা আগের চেয়ে অনেক ভালো আছে। ঐ জায়গা থেকে বলব আগের চেয়ে এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী এখন। সাম্প্রতিক সময়ে দলের যে অবস্থা, সবাই দেখছে যে একটা খারাপ সময় পার করছি। আশা করি খুব তাড়াতাড়ি এটা কাটিয়ে উঠবো এবং আমাদের দল ভালোভাবে কামব্যাক করবে, ইনশাআল্লাহ।’
নিউজক্রিকেট /রাসেল!
