নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
মাশরাফি বিন মর্তুজার ফিটনেস নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন তোলা হয়। প্রশ্ন তোলেন বিসিবিও। বরাবরই এই ইসুতে মাশরাফিকে কাঠ গড়ায় দাঁড় করিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচকরা। তবে মাশরাফির দাবি গত ২০ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে একবারও ফিটনেস টেস্টে ফেল করেননি তিনি।
মাশরাফি বিন মর্তুজা বাংলাদেশ ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়। বিশ্ব ক্রিকেটের সফল নাম মাশরাফি। নিজ নেতৃত্ব গুনে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলটাকে পৌঁছে দিয়েছেন অন্যান্য উচ্চতায়। শুধু নেতৃত্ব গুনেই নয়, তিনি বাংলাদেশ ইতিহাসের অন্যতম একজন সেরা বোলার। ব্যাট হাতেও কন্টিবিউটস করেছেন তিনি। এতোকিছুর পরেও প্রতিবারই ফিটনেস ইসু নিয়ে মাশরাফির দিকে আঙুল তোলা হতো। তিনি কি খেলার জন্য ফিট? কিছু কিছু লোক প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলতেন স্রেফ অধিনায়ক হিসাবেই দলে রয়েছেন তিনি। আর সেই সুরে তাল মেলাতেন বিসিবি কর্মকর্তারাও। বিসিবি থেকেও মাশরাফির ফিটনেস নিয়ে নেগেটিভ মন্তব্য শোনা গেছে বারংবার। অবশ্য মাশরাফি এসব বিষয়ে কখনোই মিডিয়ার সামনে মুখ খোলেন নি।
এতোদিনে এসে ফিটনেস ইসু নিয়ে খোলাখুলি কথা বললেন মাশরাফি দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম একাত্তর টিভির খেলাযোগকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশের সাবেক ক্যাপ্টেন মাশরাফি জানিয়েছেন, ২০ বছরে একবারও ফিটনেস টেস্টে ফেল করেননি তিনি।
এ প্রসঙ্গে মাশরাফি বলেন, ‘আমার তো ফিটনেস কখনও ফেলই নেই, আমি তো কখনও ক্যামেরার সামনে এসে বলিই নাই। অনেককে হয়তো বলতে শুনেছি যে মাশরাফি হয়তো পুরোপুরি ফিট নাও থাকতে পারে। আমি তখন অবাক হয়েছি যে আসলে কতটুকু তথ্য রাখে। বাইরের একজন দর্শক বলছে এটা খুবই স্বাভাবিক উনি অনেক কিছু না জেনেই বলতে পারে। কিন্তু বিসিবির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে যারা বলতেছে তারা কোনো তথ্য রাখে? তারা আদৌ অফিস করে?
তিনি আরও জানান -আমি আমার ক্যারিয়ারের শুরু থেকে আমি মানসিকভাবে তৈরি করেছি যে বাংলাদেশে যদি আমি কখনও আক্রমণ করা হয় কোনো কিছু নিয়ে তখন কিন্তু আপনি যেটাকে ছাড় দিচ্ছেন ওইটাই আপনার….। সো আমার যতই ইনজুরি আসুক, যা কিছু আসুক আমি গত ২০ বছরে একটা ফিটনেস টেস্টেও ফেল নাই। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তো আছে ৮০ (১৯৮০) সালের পর থেকে। আমি ৮০ সালের খেলোয়াড় ছিলাম না, আমি ২০০১ থেকে শুরু করে ২০২০ সাল পর্যন্ত একটা ফিটনেস টেস্টেও ফেল করি নাই!একটা ফিটনেস টেস্টে বের করে দেন যেখানে মাশরাফি ফেল আছে।’
সেই সঙ্গে মাশরাফি দাবি করেছেন বিপ টেস্ট কিংবা অন্য কোনো টেস্টেও ফেল করেননি তিনি। মাশরাফি কখনও ফিটনেস টেস্টে ফেল করেছে কিনা সেটা বিগত দিনের ফিটনেস টেস্টের ডেটা দেখে জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বিসিবি যদি বিগত দিনের ফিটনেস টেস্টের ফলাফল না দেখাতে পারে তাহলে সেটা আনপ্রফেশনাল বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
মাশরাফি বলেন, ‘যেকোনো জায়গায়, বিপ টেস্টে বলেন, স্ট্রেন্থ ট্রেনিং টেস্ট বলেন একটা জায়গায় আপনি আমাকে ফেল দেখাতে পারবেন না। যদি দিতে পারেন তারপর আপনি কথা বলেন। মারিওর কাছে আপনি চেয়ে নেন। মারিওর কাছে ডাটা তো থাকবেই বা ক্রিকেট বোর্ডে যদি না থাকে তাহলে তো এটা আনপ্রফেশনাল। ক্রিকেট বোর্ডের কাছে তো থাকতে হবে। বিগত দিনের ফিটনেস টেস্টের ফলাফলগুলো বের করে দেখেন যে আমার একটা ফিটনেস টেস্ট ফেল আছে কিনা।
উল্লখ্য গত মার্চে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বোশেষ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন তিনি। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ শেষে নেতৃত্ব ছেড়েছেন তিনি। তারপর থেকে জাতীয় দলের হয়ে খেলা হয় নি তার। সর্বোশেষ বঙ্গবন্ধু টি টোয়েন্টি ক্রিকেটে জেমকন খুলনার হয়ে খেলেছিলেন মাশরাফি। সেই টূর্নামেন্টে শেষের দিকে যুক্ত হয়েও অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছেন তিনি। জেমকন খুলনার হয়ে চ্যাম্পিয়নস হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। সবার প্রত্যাশা ছিল ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে থাকবেন মাশরাফি। কিন্তু এই সিরিজে মাশরাফিকে রাখা হয়নি বিভিন্ন অজুহাতে। মাশরাফির ক্ষোপটা এখানেই। কেননা জাতীয় দলে খেলার জন্য তৈরি প্রস্তুত ছিলেন তিনি। মাশরাফির সাথে আলোচনা না করেই তাকে বাদ দিয়েছে বিসিবি!
নিউজক্রিকেট / রাসেল!
