মারুফ ইসলাম ইফতি »
সিলেটে অনুষ্ঠিত ইভ্যালি-সিলেট টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট এর ফাইনাল দিয়ে পর্দা নামল ক্রিকেটের মিলন মেলার। ফাইনালে কুশিয়ারা রয়্যালসকে উড়িয়ে দিয়ে সিলেট টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট ২০২১’র চ্যাম্পিয়ন হলো সিলেট সিটি কর্পোরেশন ওয়ারিয়র্স। এই টূর্নামেন্টের আয়োজক সিলেট ক্রিকেটার্স এসোসিয়েশন। ১৩ দিনের ক্রিকেটের মিলনমেলায় অংশ নিয়েছিল সিলেটের মোট পাঁচটি দল।
সিলেট ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এনামুল হক জুনিয়রের তত্ত্বাবধানে করোনার ক্রান্তি লগ্ন সময় থেকে এই পর্যন্ত সিলেটে চার চারটি টূর্নামেন্ট সফলভাবে আয়োজন করেছে সংগঠনটি। সিলেট ক্রিকেটার্স এসোসিয়েশনের এমন ধারাবাহিকতার পিছনের গল্প জানাতে নিউজ ক্রিকেট২৪ এর সঙ্গে কথা বলেছিল এনামুল হক জুনিয়র।
নিউজ ক্রিকেট ২৪ কে এনামুল হক জুনিয়র জানান, সফল ভাবে টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে পেরে তারা আনন্দিত। সেই সাথে ধন্যবাদ জানিয়েছেন আয়োজন সফল করতে যাদের সর্বদা পাশে পেয়েছেন। যাদের কল্যানে এতদূর আসতে পেরেছেন, যাদের শ্রমে একটা বড় টুর্নামেন্ট শেষ করেছেন, সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।।
এনামুল হক জুনিয়র নিউজ ক্রিকেট ২৪ এর সাথে একান্ত আলাপকালে বলেন: আলহামদুলিল্লাহ, “টু-বি-অনেস্ট” আসলে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করা সহজ ছিল না। এমন টুর্নামেন্ট আয়োজনে অনেক কিছুর প্রয়োজন হয়। যেমন মাঠের অনুমতি,ফাইনানশিয়াল ব্যাকাপ, সুযোগ সুবিধা এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সবকিছু মিলিয়ে আসলে ফাস্ট অফ অল আমরা কাজটা করতে পেরেছি সিলেটের দুজন মানুষের জন্য। মহান আল্লাহ তা’য়ালাকে ধন্যবাদ জানাই প্রথমেই। পরের যেটা হইছে দুইটা মানুষের জন্য।যাদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। এক হলো নাদেল ভাই (শফিকুল আলম নাদেল) বোর্ড ডিরেক্টর, উনি সব সময় আমাদের পাশে ছিলেন। আর একটা মানুষ,সেটা আসলে সিলেট ক্রিকেটে উনার যতটুকু সম্মান পাওয়া উচিত ততটুকু পান না। বাট সিলেট ক্রিকেটের সব সময় পাশে ছিলেন এবং এখনও আছেন।সেটা এফ এ মাহমুদ ইমন ভাই, সিলেট বিভাগীয় কোচ।এই দুজন মানুষ সব সময় আমাদের পাশে ছিলেন। এই দুজন ব্যক্তি আমাদের এই পথচলায়। সবসময় সমর্থন ও সহযোগীতা করে গেছেন। আমাদের এই সাফল্যে এই মানুষ গুলোর ভুমিকা অনেক। এছাড়া আমাদের সিলেটের সম্মানিত মেয়র জনাব আরিফুল হক চৌধুরীর প্রতিও আমরা কৃতজ্ঞ। আমাদের সর্বশেষ টুর্নামেন্টে উনি খুব আন্তরিক ভাবে আমাদের সহযোগীতা করেছেন। সবমিলিয়ে বলতে গেলে কিছু মানুষ সমর্থন ও ভালবাসায় আমরা সফল হচ্ছি। সবকিছুর জন্য আলাহামদুলিল্লাহ।
- সত্যি কথা বলতে, আসলে সিলেট ক্রিড়া সংস্থা বলেন, বিভাগীয় সংস্থা বলেন সবাই হেল্প করেছেন সব টুর্নামেট গুলো করার জন্য। আর লাস্ট আমরা যে টি টোয়েন্টি ব্লাস্ট করলাম, এটা নিয়ে আমরা শুরু থেকে অনেক ঝামেলায় ছিলাম। বাট যখনই কোন সমস্যা নিয়ে নাদেল ভাইয়ের কাছে গেছি উনি কিন্তু সব সমস্যার সমাধান করে দিয়েছেন। ফ্রেডলাইটের আলোয় ম্যাচ খেলা সম্ভব হতো না যদি নাদেল ভাই আমাদের সেই ব্যবস্থা না করে দিতেন। তিনি ঢাকা থেকে লাইট ও লোক নিয়ে এসেছেন আমাদের টুর্নামেন্ট এর জন্য। আসলে আমরা লাকি এরকম একটা বোর্ড ডিরেক্টর পেয়েছি। আমরা যখন যা চেয়েছি সবই পেয়েছি। আসলে পুরোটাই ক্রেডিট নাবিল ভাইকে দিবো আমি। উনার মতো একজন ব্যক্তি যতদিন সিলেট ক্রিকেটে থাকবেন, ততদিন আলো ছড়াবে সিলেট ক্রিকেটে। আমি আপনাদের মারফতে নাদেল ভাইকে পুরো সিলেট ক্রিকেটার্স এসোসিয়েশন এর পক্ষ থেকে আরো একবার ধধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
সবার সহোযোগিতায় এই টূর্নামেন্ট আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে বলে অকপটে স্বিকার করেন জুনিয়র। সেজন্য কমিটির দায়িত্বে থাকা প্রতিটা সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছে তিনি। সিলেট ক্রিকেট নিয়ে আরও কাজ করতে চান এনামুল জুনিয়র। সেই সাথে সিলেটের খুদে প্রতিভাবান ক্রিকেটারদেরকে গড়ে তুলতে কাজ করতে চান তিনি এবং তার এসোসিয়েশন। জাতীয় দলের খেলোয়াড় তৈরি করতে চান। তিনি মনে করেন তার শক্তির জায়গা সততা। সততার সাথে কাজ করেই ভবিষ্যতেও সফল হতে চান বলে জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন: আমরা সিলেটের ক্রিকেটকে আবারো চাঙ্গা করতে এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছিলাম। আমাদের কমিটি নিয়ে আমরা খ্যাতি চাই না, আমরা চাই এখান থেকে ভাল ক্রিকেটার
বের হোক। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধিত্ব করুক। তাহলেই আমাদের পরিশ্রমের সার্থক।।
