রাসেল »
ক্রিকেট দুনিয়াকে চমকে দিনে ক্রিকেটে যুক্ত হয় নতুন এক ফর্মেট। এটা এমনই এক ফর্মেট যেখানে প্রতি বলে চার-ছক্কার ছড়াছড়ি। আন্তর্জাতিক টি টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় নিউজিল্যান্ডের ইডেন পার্ক অকল্যান্ডে। নিউজিল্যান্ডের প্রতিপক্ষ ছিলো সময়ের সেরা দল অষ্ট্রেলিয়া।
স্টিফেন ফ্লেমিং এর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিং নেয় রিকি পন্টিংয়ের অষ্ট্রেলিয়া। অভিষেক ম্যাচেই টি টোয়েন্টি ক্রিকেটের আগমনী বার্তা দিয়ে দেয় অষ্ট্রেলিয়া। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে অষ্ট্রেলিয়া তোলে ২১৪ রান। ব্যাট হাতে ৫৫ বলে ৮ চার ও ৫ ছক্কায় ৯৮* রানে অপরাজিত থাকেন রিকি পন্টিং। ১৫ বলে ৩২ করেন এন্ডু সাইমন্ড, ১৫ বলে ৩১* করেন মাইকেল হাশি, ২৫ বলে ৩০ সাইমন ক্যাটিচ। বল হতে ৪ ওভারে ৪৪ রান খরচ করে ৩ উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডের সেরা বোলার কাইল মিলস।
২১৫ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে কম যায়নি নিউজিল্যান্ডও। ব্রান্ডন ম্যাককালাম ৩৬(২৪), জেফ উইলসন ১৮(১৪) এবং স্কট স্টাইরিসের ৩৯ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৬৬ রানের উপর ভর করে ১৭০/ ১০ রানে থামে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। অষ্ট্রেলিয়া হয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন মাইকেল ক্যাসপ্রোভিজ। ২ উইকেট নেন গ্লেন ম্যাকগ্রা। ১ উইকেট করে নিয়েছিলেন জেমস হেপস, ব্রেট লি, এবং এন্ডু সাইমন্ড। অষ্ট্রেলিয়া ম্যাচ জিতে নেয় ৪৪ রানে।
আধুনিক ক্রিকেটে সবথেকে জনপ্রিয় ফরম্যাট হলো টি টোয়েন্টি ক্রিকেট। ধুম-ধারাক্কা ব্যাটিং আর চার ছক্কার ফুলঝারি যেন এই ফরম্যাট এর সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বিশ্ব জুড়ে এই ফরম্যাটকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংক্ষিপ্ত সময়ে এই ফরম্যাট এর জয় পরাজয় নিশ্চত হয় বলেই টি টোয়েন্টি ক্রিকেটকে পছন্দের তালিকায় সবার উপরে রেখেছেন ক্রিকেট ভক্তরা। দর্শকদের মনোরঞ্জন করার উদ্যেশ্যে এই ফরম্যাট কে বিশ্ব ক্রিকেটে স্বীকৃতি দিয়েছে আইসিসি।
১৮০০ শতাব্দী থেকে ক্রিকেটের প্রচলন শুরু হয়েছিল। ক্রিকেটের অভিজাত ফরম্যাট টেস্ট ক্রিকেট দিয়ে আন্তজার্তিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু হলেও বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ছিল না। সময়ের সাথে সাথে রঙিন পোশাকে খেলা শুরু হয়। ইউরোপ মহাদেশে তখনও ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা ছিল না। এক দিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপের আয়জনের মধ্য দিয়ে ক্রিকেট জনপ্রিয় খেলা হিসাবে পরিচিত পায়। তারপর থেকে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করে। দর্শকদের বারতি উৎসাহ দিতে যখন সংক্ষিপ্ত ফরম্যাট এর আয়জন শুরু হয় তারপর থেকে প্রতিযোগিতামূলক দল বারতে থাকে। বর্তমানে এই ফরম্যাটে ৮৫ টি দলকে স্বীকৃতি দিয়েছে ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (আইসিসি)। পাকিস্তান বনাম সাউথ আফ্রিকার দ্বিতীয় ম্যাচের মধ্যে দিয়ে ১১২২ টি আন্তর্জাতিক টি টোয়েন্টি ম্যাচ আয়োজন হয়েছে।( সংখ্যা বেশি হতে পারে)
২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের মধ্যে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০০৭ সালে প্রথমবারের ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটটির বিশ্বকাপ আয়োজন করা হয়, তখন এটি ক্রিকেট ভক্তদের মাঝে অন্যরকম উন্মাদনা সৃষ্টি করে। খুব দ্রুত এটি ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠে এবং বিশ্বের বিভিন্ন ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোতে টি-টোয়েন্টি লিগ চালু হতে থাকে।
