শুভ জন্মদিন মিস্টার ৩৬০°

রাসেল »

 

১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রান্সভাল প্রদেশের প্রিটোরিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন আব্রাহাম বেঞ্জামিন ডি ভিলিয়ার্স। তার মায়ের নাম মিলি। মিলি রিয্যাল এস্টেট কোম্পানিতে চাকরি করতেন। তার বাবার নাম আব্রাহাম পি ডি ভিলিয়ার্স। তিনি একজন ডাক্তার ছিলেন। জান ও ওয়েসেলস নামে তার দুই ভাইও আছে।

ক্রিকেট বিশ্বের একজন বিধ্বংসী, আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান হিসাবেই পরিচিত ডি ভিলিয়ার্স!দৃষ্টিনন্দন ও উদ্ভাবনী সব শট খেলে দর্শকদের মুগ্ধ করেন তিনি। মনোরঞ্জন করেন ক্রিকেট পোকাদের। কিন্তু তিনি শুধু আক্রমণ আর বিধ্বংসী-ই নন! ডি ভিলিয়ার্স এমন একজন ব্যাটসম্যান, যিনি দলের প্রয়োজনে নিজেকে নিয়ন্ত্রণেও সবচেয়ে পারদর্শী। এবি যে কোনো বলকে মারতে পারেন, বিশ্বের যেকোনে নামি-দামি বোলারের বিপক্ষে সাবলীল ভঙ্গিতে ব্যাট করতে পারেন।

বিশ্বের যেকোন মাঠ যেন তার ঘরের মাঠ। বোলারের যত কঠিন বলই হোক না কেন তার কাছে সব বলই যেন এক! বাউন্সার থেকে ইয়র্কার‚ তার ব্যাটে সব বলেরই গন্তব্য যেন ওই একটাই, বাউন্ডারি। তাই কেউ ক্রিকেট বুঝুক আর নাই বুঝুক যে কোনো দর্শক তার খেলা দেখে মুগ্ধ হতে এক প্রকার বাধ্য সামনে-পিছনে‚ ডানে-বামে সবদিকই যেন তার কমফোর্ট জোন। তাই তো ক্রিকেট বিশ্বে তিনি মিস্টার থ্রি সিক্সটি ডিগ্রি বলেই পরিচিত।

ক্রিকেটে সাফল্য পাওয়ার মূলমন্ত্র হলো নিজের উপর আত্মবিশ্বাস রাখা এবং কঠোর পরিশ্রম করা। ডি ভিলিয়ার্স দুটোতেই খুব ভালো। ব্যাট হাতে ঝড় তোলার পাশাপাশি উইকেট রক্ষক হিসাবেও তিনি ছিলেন অসাধারন। ২০১২ সালে মার্ক ভাউচার অবসর নিলে নিয়মিত উইকেট রক্ষক হিসাবে উইকেটের পিছনে দায়িত্ব পালন করেন ডি ভিলিয়ার্স। ২০১৬ সালে কুইন্টন ডি কক এর হাতে গ্লোভস ছেড়ে একজন ফিল্ডার হিসাবে মাঠে থাকেন এবি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৩০ ইনিংসে কিপিং করে ২৩২ টি ডিসমিসাল করেছেন এবি।

ক্রিকেট ক্যারিয়ারে একজন দূর্দান্ত ফিল্ডার ছিলেন তিনি। যিনি বাতাসে ভাসতে থাকা বল পেছন থেকে দৌড়ে এসে লুফে নিতে ওস্তাদ, ডানে,বামো সমান গতিতে ঝাঁপাতে পারেন তিনি। বাউন্ডারি লাইনে বাজপাখির ভুমিকায় দেখা যায় এবি কে। পুরো মাঠে লক্ষ্য করা যায় তার উপস্থিতি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩৮৩ ইনিংস ফিল্ডিং করে ২৪৩ টি ক্যাচ নিয়েছেন এবি। ব্যাটিং বোলিং এবং ফিল্ডিংয়ে দূর্দান্ত হলে তাকে অলরাউন্ডার বলা হয়। যদি কিপিং ফিল্ডিং এবং ব্যাটিংয়ের জন্য অলরাউন্ডার বলা হতো তাহলে ডি ভিলিয়ার্স একজন বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার হতেন। ডি ভিলিয়ার্স ব্যাট হাতে যদি ৩৬০ ডিগ্রি হয়ে থাকেন তাহলে ফিল্ডিংয়েও তিনি ৩৬০ ডিগ্রি।

ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্রুততম ফিফটি (১৬ বল)‚ দ্রুততম সেঞ্চুরি (৩১ বল)‚ দ্রুততম দেড় শতাধিক (৬৪ বল)! কী নেই তার ঝুলিতে?ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ২৫ বার তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার ছুয়েছেন। বিশ্বের একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসাবে প্রতিবারই ১০০+ স্টাইক রেট ছিল।

সাদা পোশাকে ডি ভিলিয়ার্স : অভিষেক এর পর থেকে টানা ৯৮* টেস্ট খেলে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন ডি ভিলিয়ার্স। ২০১৫ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ২ ম্যাচ টেস্ট সিরিজ থেকে সরে দাড়ালে অপরাজিত ১০০ টেস্ট খেলা প্রথম ব্যাটসম্যান হতেন তিনি। ২০০৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এবি’র অভিষেকের পর থেকে সাদা পোষাকে ১১৪ টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ৫০.৬৬ গড়ে মোট রান করেছেন ৮৭৬৫। এক ইনিংসে তার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান ২৭৮*। টেস্ট ক্রিকেটে সাউথ আফ্রিকার হয়ে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসাবে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন তিনি।ক্যারিয়ারে ২২ টি শতক এবং ৪৬টি অর্ধশতক রয়েছে তার ঝুলিতে।

ওয়ানডেতে ডি ভিলিয়ার্স : ক্রিকেটের অন্যান্য ফরম্যাটের তুলনায় ওয়ানডেতেই বেশি সফল ডি ভিলিয়ার্স। ২০০৫ সালে ইংল্যাল্ডের বিপক্ষে অভিষেকের পর থেকে এখন পর্যন্ত ২২৮ টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ৫৩.৫০ গড়ে রান করেছেন ৯৫৭৭। ২৫টি সেঞ্চুরি এবং ৫৩টি অর্ধশত রয়েছে তার ঝুলিতে। সর্বোচ্চ ব্যাক্তিগত ইনিংস ১৭৭।

টি টোয়েন্টি ক্রিকেটে ডি ভিলিয়ার্সঃ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফর্মেটে তেমন দাপট দেখানো হয়নি তার। এর কারন নিচের দিকে ব্যাট করা। তারপরও ২২ গজে ভিন্ন এবির দেখা মিলেছে অনেকবার। ৭৮ ম্যাচ খেলে ২৬.১২ গড়ে ১৩৫.১৭ স্টাইক রেটে ১৬৭২ রান করেছেন এই ফর্মেটে। দেশের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১০ টি হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে তার।

অভিষেক থেকেই যেন পণ করেছিলেন রেকর্ড গড়ার জাদুকর হবেন। তাই তো দুর্নিবার গতিতে অনন্য সব রেকর্ডে ভাগ বসাচ্ছেন এই ৩৭ বছর বয়সী ক্রিকেটার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একাধিক বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন তিনি। সাউথ আফ্রিকার হয়ে অনেক রেকর্ডের মালিক তিনি। একজন জীবন্ত কিংবদন্তি ডি ভিলিয়ার্স।

 

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »