অনিকের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে শুভসূচনা কুশিয়ারা রয়েলসের-

সাফায়েত ফুয়াদ »

সিলেটে সন্ধ্যার আকাশে যখন সূর্য অস্তমিত হচ্ছিল, সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে কানায় কানায় তখন দর্শক। বিকেল ৫:৩০ মিনিটে টস আর সন্ধ্যা ৬ টায় হয় খেলা শুরু। টসে জিতে কুশিয়ারা রয়েলস কাপ্তান ইমতিয়াজ হোসেন তান্না বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন, এবং অলক কাপালির টিম স্টার প্যাসিফিক স্ট্রাইকার্সকে ব্যাটিংয়ের জন্য আমন্ত্রণ জানান। ক্যাপ্টেনের সিদ্ধান্ত যে শতভাগ সঠিক হয়েছে তা প্রমাণ করেছে কুশিয়ারা রয়েলস এর ক্রিকেটাররা।

দলীয় ৩৪ রানের মাথায় তোফায়েল কে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলে স্টার প্যাসিফিক স্ট্রাইকার্সের ওপেনিং জুটি ভাঙেন কুশিয়ারার মাহবুব হাসান। তুষারের শুরুটা দারুণ হলেও স্কোর বোর্ডে আরও ৫ রান যোগ করতেই আবিদের বলে তান্নার হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেন তিনি। স্ট্রাইকার্সের মিডিল অর্ডার একাই ধসিয়ে দিয়েছেন মুক্তার আলী,মাহবুব, রুহেলরা। মাঝখানে নাহিদুল ইসলাম কিছুটা কুশিয়ারা রয়েলস বোলারদের উপর চওড়া ছিলেন। আর শেষে অর্ক কিছুটা ভুগিয়েছেন কুশিয়ারার বোলারদের। তাছাড়া বাকী কেউই ভালো ব্যাটিং করতে পারেননি। তুষার ২৭, নাহিদ ৩০, অর্ক ২৪ এরা ছাড়া দলের আর কোনো ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের কৌটা পার হতে পারেননি। ১১৮ রানে ৭ উইকেটের বিনিময়ে রানের চাকা থামে স্টার প্যাসিফিক স্ট্রাইকার্সের। কুশিয়ারা রয়েলস এর হয়ে মাহবুব ও মুক্তার আলী ২ টি এবং সোহাগ গাজী, আবিদ, রুহেল ১ টি করে উইকেট পান।

১১৯ রানের টার্গেট তাড়া করার লক্ষে ব্যাট করতে নেমে ডিফেন্সিভ ওয়েতে ব্যাটিং শুরু কুশিয়ারা রয়েলস এর ওপেনিং ব্যাটসম্যান তান্না এবং হৃদয়। তবে উইকেট বেশি থাকতে পারেননি ইমতিহান হোসেন তান্না। দলীয় ১৯ রানের মাথায় ৩ রান করে নাবিল সামাদের বোলে তোফায়েলের হাতে কট বিহাইন্ড সাজ ঘরে ফিরেন তিনি। দলীয় রান যখন ২৫ হ্রদয় ও নাহিদুল ইসলাম এর বলে এলবিডব্লু এর শিকার হন। তারপর আসেন ম্যাচ জয়ের নায়ক জাকের আলী অনিক। অনিক কে রেখে সায়েম ২ রান করে আউট হন তাজিমের এলবিডব্লুতে। অনিক মুক্তার আলীকে নিয়ে শুরু করেন তান্ডব ব্যাটিং। দুইজন একসাথে সমান তালে ব্যাট চালাচ্ছিলেন স্টার প্যাসিফিক স্ট্রাইকার্স বোলারদের উপর। বোলারদের লাইন লেন্থ একেবারে গুড়িয়ে দিয়েছেন অনিক মুক্তার জুটি। অনিককে রেখে মুক্তার আউট হলেও অনিক যে ধীর প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আউট হওয়ার আগে মুক্তার আলী কাজের কাজ করেন। ২২ বলে ৩৬ রান করেন মুক্তার। তবে ম্যাচ জিতেয়ে মাঠ ছাড়েন অনিক। ৩১ বলে ৪১ রানের কেমিও ইনিংস খেলেন। ৬ উইকেট হারিয়ে সহজেই ১১৯ রানের টার্গেটে পৌঁছে যায় কুশিয়ারা রয়েলস। স্টার প্যাসিফিক স্ট্রাইকার্সের হয়ে তাজিম ২ টি এবং অলক, নাবিল, নাহিদ, মেনন ১ টি করে উইকেট পান। মাঠের দর্শক সহ টিম ম্যানেজমেন্টর সবাই অনিকের ঝড়ো ব্যাটিং এর পঞ্চমুখ। ম্যাচ সেরার পুরস্কারটা ও উঠে অনিকের হাতে।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »