নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
একটা সময় বাংলাদেশ দলের সব বিষয়ে অবগত থাকতেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। তবে একাধিকবার সমালোচনা হওয়ার পর এসব থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশের পর বোর্ড সভাপতি জানালেন, দলে কি হচ্ছে বা কোনো সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসলে সে সম্পর্কেও জানেন না তিনি।
এই বিষয়ে আলাপ করতে গিয়ে বোর্ড সভাপতি উদাহরণ দেন ২০১৯ সালের ভারত সফরের। যেখানে টসের আগ পর্যন্ত তিনি জানতেন যে বাংলাদেশ শুরুতে ফিল্ডিং নেবে। কিন্তু টস জেতার পর সিদ্ধান্ত এসেছিল অন্যটা। যা সম্পর্কে জানতেন না তিনি।
এসব সিদ্ধান্তের পরিবর্তনের পেছনে অবশ্য অধিনায়ক মুমিনুল হককে পুরোপুরি দোষ দিচ্ছেন না নাজমুল হাসান। কিন্তু সেই সিরিজেই তিনি টেস্ট দলপতিকে জানিয়ে দিয়েছিলেন যেন আর এমন সারপ্রাইজ না দেয়া হয়।
নাজমুল হাসান বলেন,”প্রথমে গেল আফগানিস্তান। কিছুই ভালো লাগলো না। কিন্তু জানাইলাম এটা হবে না। এটা পরিকল্পনা হবে না এই বার্তা তাকে দেয়া হয়েছে। গেলাম ভারতে গোলাপি বলের দিবা-রাত্রি টেস্ট খেলতে। আগের দিন টিম মিটিংয়ে বসা, জিজ্ঞেস করলাম সবাইকে। আমাকে শতভাগ নিশ্চয়তা দিল আমাদের অধিনায়ক মুমিনুল সবার সামনে, কোচের সামনে যে টসে জিতলে আমরা ফিল্ডিং নেব। পরদিন সকালে নাস্তা করার সময় আবার জিজ্ঞেস করলাম আমার একটু সন্দেহ লাগছিল কেন আমার এমনটা হয় না সাধারণত। ঠিক করে বলো কি করবা যদি টসে জিত। টসে জিতলে তো ফিল্ডিং নেবই। মাঠে গিয়ে দেখি ব্যাটিং। কি করবো? এরকম হলে বড় সমস্যা। এখন এরকম তো কখনও হয়নি। কারো সঙ্গেই হয় নাই। আমি বলতে চাচ্ছি এটা কেউ করেছে। বলছি না মুমিনুল করেছে, সেটা আমি বলেছি না। কেউ পরিবর্তন করেছে সেটা যদি আমাকে না জানায় এটা বড় সমস্যা। আমি খালি তখন বলেছিলাম, এরকম সারপ্রাইজ আমি পছন্দ করি না। তোমরা যদি পরিবর্তন করতে চাও আমাকে জানাতে হবে। এখন আমি যেটা বলেছি এনাফ ইজ এনাফ। আমাদের হারার পেছনে কতগুলা কারণ। প্রথম কারণটা হচ্ছে উই হ্যাফ একচুয়ালি আন্ডারইস্টিমেটেড ওয়েস্ট ইন্ডিজ টিম। এটা হলো রিয়েলিটি। ওডিআই তিনটা হোয়াইটওয়াশ করার পর ভেবেই নিয়েছিলাম এটা অনলি মেটার অব টাইম।”
এদিকে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয় জানিয়ে নাজমুল হাসান আরও বলেন,”আগে সব কিছুতেই ইনভল্ভ ছিলাম। এটা তো স্বীকার করি। এটা অস্বীকার করছি না। কোনো একটা সময়ে মনে হয়েছে টিম আগের চেয়ে ম্যাচিউরড হয়েছে। ম্যানেজমেন্টও এখান আগের চেয়ে জানে অনেক কিছু। এখন একটা সময় হয়েছে ডেলিগেশনের। আস্তে আস্তে এটাকে একটু ছাড় দিতে হবে। এবং সেটাই করার চেষ্টা করেছিলাম। দ্বিতীয় হচ্ছে এটার জন্য আমাকে কথাও কম শুনতে হয়নি। ইন্টারফেয়ারেন্সের কারণে তো অনেকে পছন্দও করে না। কন্টিনিউয়াসলি সবাই আমার এগেইন্সটেই বলেছে। কেউ তো এটাকে সাপোর্ট করেনি। লাস্ট ইন্টারফেয়ারেন্স ছিল এশিয়া কাপে। যখন সৌম্য আর ইমরুলকে আমি নিয়ে যাই। ফ্লাই করে নিয়ে যাই এবং কারো সঙ্গে আলাপ না করে খেলাই। এটাই ছিল লাস্ট ইন্টারফেয়ারেন্স। এর আগেও অনেকদিন ইন্টারফেয়ারেন্স করিনি। যখন আমি আর পারছিলাম না তখন ইন্টারফেয়ার করেছি। এরপর নতুন কোচ আসছে একটু সময় দিতেই হবে। কোচিং স্টাফকে একটু দেখতেই হবে।”
