নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) অ্যাওয়ার্ড অফ দি ডেক্যাডে কোনো পাকিস্তানি খেলোয়াড়ের নাম না থাকায় খেলাটির বৈশ্বিক পরিচালনাকারী সংস্থাটির ‘বিশ্বস্ততা ও স্বচ্ছতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক খেলোয়াড়রা। বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তানের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও জ্বলছে ক্ষোভের আগুন।
সোমবার ঘোষিত অ্যাওয়ার্ডে পুরুষ ক্রিকেটার হিসেবে ডেক্যাড অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি আর নারীদের সম্মানটি লুফে নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার এলিসে পেরি।
তবে ১০টি ব্যক্তিগত অ্যাওয়ার্ডের কোনোটিতেই স্থান পায়নি পাকিস্তানের কোনো খেলোয়াড় এবং প্রধান টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানই একমাত্র দেশ যারা দশকের সেরা টেস্ট টিম বা ওয়ান ডে টিম অথবা টি টুয়েন্টি টিমের কোনোটিতেই জায়গা করে নিতে পারেনি।
আইসিসির তথ্যমতে, এ অ্যাওয়ার্ড নির্বাচনে ৯০ শতাংশ ভোট দেন সাংবাদিক, সম্প্রচারক, বিশ্লেষক ও সাবেক খেলোয়াড়দের একটি একাডেমি। অন্যদিকে এটির ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বাকি ১০ শতাংশ ভোট দেন ভক্তরা।
তবে ভোটিং একাডেমির এক সদস্য কাতারভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আলজাজিরাকে বলেন, ভোটের বিশাল একটি অংশ এসেছে ভক্তদের কাছ থেকে, যা ফলাফল নির্ধারণে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।
পাকিস্তানের সাবেক ফাস্ট বোলার উমর গুল আলজাজিরাকে বলেন, ‘ভবিষ্যতে এ জাতীয় পুরস্কারের ব্যাপারে আইসিসি যদি বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখতে চায় তবে তাদেরকে অবশ্যই কিছুটা স্বচ্ছতা দেখাতে হবে এবং কোন দেশ থেকে ভক্তরা কত শতাংশ ভোট দিয়েছে তা প্রকাশ করতে হবে।’
ওমর গুল ৬০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৮৫ উইকেট নিয়ে সেপ্টেম্বর মাসে আইসিসির সর্বকালের সেরা ১০ জন টি-টোয়েন্টি বোলারের তালিকার শীর্ষ অবস্থান করেছিলেন। যে তালিকায় আরো চারজন পাকিস্তানি খেলোয়াড়ের নাম ছিল। কিন্তু আইসিসির এ পুরস্কারে তাদের কারোরই নাম নেই।
ওমর গুল বলেন, ‘এটা হতবাক করার মতো ব্যাপার যে সাঈদ আজমল, শহিদ আফ্রিদি, ইউনিস খান, ইয়াসির শাহ ও বাবর আজমের মতো খেলোয়াড়রা এই পুরস্কারের কোথাও নেই।’
তিনি আরো বলেন, গত এক দশকে এদের বেশির ভাগই বিভিন্ন ফরম্যাটে সেরা খেলা উপহার দিয়েছিলেন।
‘যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ভক্তদের কাছ থেকে আসে তবে ফলাফল কী হবে এটা যে কেউ বুঝতে পারে। ভারত থেকে মোট ভোটার সংখ্যা পাকিস্তানি ভোটারদের সংখ্যাকে নিমিষেই হারিয়ে দিতে পারে। যেহেতু দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা রয়েছে, তাই ভারতীয় ভক্তদের উদ্দেশ্যমূলকভাবে পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে ভোট দেয়াটা অবাক করার মতো ব্যাপার নয়।’
পুরস্কার সম্পর্কে মন্তব্য করতে আলজাজিরার অনুরোধে সাড়া দেয়নি আইসিসি। অন্যদিকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের একজন মুখপাত্র এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
পাকিস্তানের সাবেক ফাস্ট বোলার শোয়েব আখতার বলেছেন, ‘আমি মনে করি, আইসিসি দশকের সেরা বিশ্ব ক্রিকেট দলের নাম ঘোষণা না করে আইপিএল (ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ) দল ঘোষণা করেছে।’
তিন ফরম্যাটেই টিমগুলোতে নাম লেখানো ছাড়াও ভারতের অধিনায়ক কোহলি দশকের সেরা ওয়ানডে খেলোয়াড়ের অ্যাওয়ার্ডও জিতেছেন।
এই ঘোষণার পরে বেশ কয়েকজন ভক্ত এবং বিশ্লেষক বলেছেন, পাকিস্তানি অধিনায়ক আজম ও লেগ-স্পিনার শাহের অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্য ছিল। আজম গত তিন বছর ধরে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে শীর্ষ ব্যাটসম্যানদের তালিকায় ছিল। অন্যদিকে লেগ-স্পিনার টেস্ট ক্রিকেটে দ্রুততম সময়ে ২০০ উইকেট নিয়েছেন।
অ্যাওয়ার্ডে সকল পুরুষ ও নারী দলে কমপক্ষে দু’জন করে খেলোয়াড়ের নাম রয়েছে এমন একমাত্র দেশ ভারত। পাকিস্তানের ডন পত্রিকার ক্রীড়া সম্পাদক রিশাদ মাহমুদ এটিকে ‘আইসিসির পক্ষপাতিত্বের জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন।
মাহমুদ আলজাজিরাকে বলেন, ‘আইসিসি একটি ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ’ পরিচালক সংস্থা হিসেবে বিশ্বাসযোগ্যতা হারানোর কারণে অনেক সমালোচক বা সাবেক খেলোয়াড়রা আইসিসির পুরস্কারগুলোকে আর গুরুত্ব দিবে না।’
‘পাকিস্তানের উদীয়মান ক্রিকেটাররা এ জাতীয় পুরস্কারের কারণে নিরুৎসাহিত হবেন বলে মনে করি না আমি। কারণ তারা এই ধরণের নিরর্থক অনুশীলন ও আইসিসির ত্রুটিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের ব্যাপার সচেতন।’
এই মন্তব্যগুলোর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে ওমর গুল আরো বলেন, পুরস্কার থেকে বাদ পড়ার কারণে পাকিস্তানি ভক্তরা আহত ও ক্ষুব্ধ হয়েছে। তবে খেলোয়াড়রা তাদের পারফরম্যান্সে এর প্রভাব পড়তে দেবে না।
‘খেলোয়াড়রা স্বীকৃতি পেতে চায়, সম্মানজনক তালিকায় থাকতে চায় এবং এটি তাদের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। তবে পেশাদার হিসেবে কীভাবে এগিয়ে যেতে হয় তা তারা জানে,’ আলজাজিরাকে বলেন ওমর গুল।
নিউজক্রিকেট / শাহিন
