ইমনের বিধ্বংসী হওয়ার রহস্য জানালেন দলের ম্যানেজার-

মারুফ ইসলাম ইফতি »

তিনি উইকেটে এলেন, বোলারদের তুলোধোনা করলেন, তুলে নিলেন সেঞ্চুরি, জেতালেন ম্যাচ! রচনা করলেন নতুন ইতিহাস, নিজের নামের পাশে বসালেন দেশের হয়ে দ্রুততম শতকের রেকর্ড।

উপরোক্ত বিশেষণ গুলো দেখে নিশ্চই চেনা হয়ে  গেছে কার কথা বলা হচ্ছে।বলছি বাংলাদেশ ক্রিকেটের সম্ভাবনাময় তরুন তুর্কি “পারভেজ হোসেন ইমন” এর কথা।

গতকাল (মঙ্গলবার) মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীর বিপক্ষে মাত্র ৪২ বলে ৯ বাউন্ডারি ও ৭ ওভার বাউন্ডারিতে হার না মানা ১০০* রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে রেকর্ডবুকে নিজের নাম লিখিয়েছেন তিনি। দেশের হয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরির মালিক এখন অনু-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী দলের এই সদস্য।

গতকালের (মঙ্গলবার) ম্যাচের আগে ইমনের এই বিধ্বংসী ব্যাটিং সামর্থ্যের গল্পটা ক’জনই বা জানতো? হয়তো হাতে গোণা কয়েকজন, যারা খুব কাছ থেকে ওকে চিনে। তবে নিজের সামর্থ্যের উপর পূর্ন ভরসা সবসময় ছিল ইমনের। আর তাই ফরচুন বরিশালের ম্যানেজার “হাসিবুল হোসেন শান্ত’র” কাছে নিজের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন ম্যাচের আগে। ইমনের কথা শুনে ওর আত্মবিশ্বাসে ভরসা রেখে ইমনের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়েছেন টিম ম্যানাজার। আর তাতেই নিজের প্রতি আস্থার প্রতিদান, প্রত্যাশার চেয়ে কয়েক গুন বেশি  দিয়েছেন উঠতি এই তারকা।

চলতি বঙ্গবন্ধু কাপে গতকালের (মঙ্গলবার) ম্যাচের আগ অব্দী নিজের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট ছিলেন না খোদ ইমন নিজেই। নিজেকে নিয়ে চুলচেড়া বিশ্লেষণ করে আবিস্কার করলেন নিজের ব্যাটিংয়ে নয়, সমস্যাটা নিজের ব্যাটিংয়ের স্বাধিনতায়! দলের চাহিদা অনুযায়ী ইমনকে ফ্রি খেলতে দেওয়া হচ্ছে না। ব্যাটিংয়ে কিছু বাধ্যকতা জুড়ে দেওয়া হয়েছিল টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে। অথচ নিজের মতো করে ফ্রি ভাবে ব্যাট করতে সবসময় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন ইমন। আর তাই সরাসরি অধিনায়ক তামিমের কাছে নিজের ইচ্ছার কথা না জানিয়ে, জানালেন দলের ম্যানেজার হাসিবুল হাসান শান্তর কাছে। ইমনের বক্তব্য শুনে ইমনের উপর আস্থা রাখেন ম্যানেজার। আর তাতেই বাজিমাত তরুন এই ব্যাটসম্যানের।

মিরপুর শেরে-বাংলা স্টেডিয়ামে মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীর বিপক্ষে পারভেজ হোসেন ইমনের সাইক্লোন ইনিংসের (১০০*) আসল রহস্য জানিয়েছেন ফরচুন বরিশালের  ম্যানেজার হাসিবুল হাসান শান্ত।

বরিশালের ম্যানেজার বলেনঃ ম্যাচের দিন সকালে ওর সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। তখন সে আমাকে জানালো তাকে ফ্রি খেলতে দেওয়া হচ্ছে না। একথা শুনে আমি জিজ্জেস করলাম কে তোমাকে ফ্রি খেলতে দিচ্ছে না? ইমন মুলত ফ্রি ভাবে ব্যাট করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে সবসময়। আর তাই আমি তামিমকে সাথে সাথে ফোন দিয়ে বলি ইমনকে যেন ওর মতো করে খেলতে দেওয়া হয়। তামিমও ইমনকে ঢেকে নিজের মতো করে ব্যাট করতে বলে। তামিমের কথায় সে আরো বেশি উৎসাহ পায়। আমার মনে হয় নিজের প্রতি ওর আত্মবিশ্বাস ও তামিমদের উৎসাহ ওকে দুর্দান্ত এই ইনিংস খেলতে সাহায্য করেছে।

নিউজক্রিকেট/ মারুফ ইসলাম ইফতি

 

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »