নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
৩২ বছর আগের কথা, পৃথিবীর বুকে তার আগমন হয়ত শুধু বাংলার ক্রিকেটকে রাঙিয়ে দিতে, লাল সবুজের পতাকাকে আরো উপরে তুলতে, বিশ্ব দরবারে এই ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কিলোমিটার এর ছোট রাজ্যকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার জন্য । বলছিলাম সাকিব আল হাসানের কথা, তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটকে দেখিয়েছেন আলোর পথ, বিশ্বসেরা হওয়ার পথ, তিনি শিখিয়েছেন সাহস নিয়ে কিভাবে প্রতিপক্ষকে জবাব দিতে হয়।
সাকিব আল হাসান বাংলার ক্রিকেটকে রাঙিয়ে দিয়েছেন, আধার কাটে যেমন ঐ সূর্যের তীব্র রশ্মিতে, তেমনি সাকিব আল হাসান বাংলাদেশ ক্রিকেটকে দেখিয়েছেন নতুনের পথ। মাগুরা থেকে থেকে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের পথটা মসৃণ ছিলো না, তবে ব্যাটের তেজ, বলের ঘূর্ণি , ক্রিকেটীয় পরিকল্পনা আর হার না মানার জেদ সাকিবকে বসিয়েছে বিশ্বের রাঘব বোয়ালদের মাথায়।
এই দীর্ঘ সময়ে সাকিবকে পারি দিতে হয়েছে অনেক কঠিন পথ। বারবার এসেছে বাধা, তীব্র সমালোচনা, কিংবা নিষেধাজ্ঞা কিছুই দমিয়ে রাখতে পারেনি তাকে।বরাবরই জবাব টা দিয়েছেন ব্যাট হাতে ঝড় তুলে, নয়ত ব্যাটসম্যানের স্ট্যাম্প ভেঙে জবাব দিয়েছেন সকল সমালোচনার। প্রতিপক্ষের প্রতিটা আঘাতের জবাব দিয়েছেন নির্ভয়ে।
তার অনিবার্য প্রতিভাকে ভাষায় এটে তোলা অসম্ভব, আপনার খেলা দেখার জন্য এখনো উন্মুখ হয়ে থাকে বাংলার সাধারণ মানুষ।দল যখন বিপদে অধিনায়োকের ভরসায় সাকিব আল হাসান। অধিনায়কের আস্থা তখন একজন জাদুকরে, ওই তো আসে আসছে সে হেলে-দুলে, গ্যালারি মুখরিত তার মাতমে; ‘সাকিব সাকিব’ স্লোগানে। অতঃপর বল হাতে তাঁর মায়াবী ঘূর্ণি বিভ্রমে হতবিহ্বল সবে। এভাবেই দুশ্চিন্তার ভাঁজ সরিয়ে তৃপ্তির হাসি ফোটানোই তাঁর নিত্যকার অভ্যাস। ক্রিকেট ইতিহাসের মহানায়ক ব্যাট হাতেও থাকেন অনবদ্য ভূমিকায়।
সাকিব সেই ক্রিকেটার যিনি দেশকে শিখিয়েছেন কিভাবে বিশ্বসেরা হওয়া যায়, সাকিব সেই ক্রিকেটার যিনি অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়না কখনো, মাঠ কিবা মাঠের বাইরে, বরাবরই ঝাঁপিয়ে পড়েন অন্যায়ের বিরুদ্ধে।সাকিব আল হাসান দেশকে এবং নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়।
সাকিব রেকর্ড গড়েন, রেকর্ড ভাঙেন, কেউ কেউ তাকে ডেকে রেকর্ড আল হাসান, নিজের পারফরমেন্স দিয়ে সাকিব জায়গা করে নিয়েছেন বিশ্বের রাঘব বোয়ালদের মাথায়, কিংবদন্তিদের পাশে।শুধু কি নিজেকে উপরে তুলেছেন?? দেশের সম্মানকে নিয়ে গেছেন কয়েক ধাপ উপরে, বিশ্বকে চিনিয়েছেন বাংলাদেশকে, বিশ্বকে জানিয়েছেন বাংলাদেশও পারে। বাংলাদেশকে গড়ে তুলেছেন ক্রিকেট বিশ্বের পরাশক্তি হিসেবে, এখন আর কেউ অবহেলার চোখে দেখতে পারেনা বাংলাদেশকে, দেখতে হয় সমীহের চোখে।
সাকিব তখন ফর্মের তুঙ্গে, মাতিয়ে এসেছেন বিশ্বকাপ ক্রিকেট , দেখিয়ে এসেছেন অনন্য নজির ব্যাট ও বল হাতে। তখনই এলো বাধা, আইসিসি থেকে নিষেধাজ্ঞা। ১ বছর ক্রিকেট থেকে ছিটকে গেলেন সাকিব । তবে সাকিব ফিরছেন, সাকিব ফিরছেন আর মাত্র ৬ দিন পরেই, এই ৮ দিনের অপেক্ষা যেন শেষ হওয়ার নয়, সাকিবের ফেরার প্রতীক্ষায় ১৬ কোটি বাংলাদেশী।
সাকিবের জন্য ভক্তদের অপেক্ষার পালা প্রায় শেষ, অপেক্ষা আর মাত্র ৬ দিনের। ৩০ অক্টোবরের অপেক্ষায় পুরো বাংলাদেশ,কারণ সেদিন যে সাকিব ফিরবে রাজার বেশে। তিনি ফিরবেন আবার আগের মতো করে , সাথে করে বাঘের গর্জন নিয়ে, এক খুলি আত্মবিশ্বাস ও পূর্বের সেই আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে।
নিউজ ক্রিকেট / সুফিয়ান
