স্বপ্ন দেখিয়ে হারিয়ে যাওয়া তারার জন্মদিন আজ

নিউজ ডেস্ক »

বাংলাদেশ ক্রিকেটে তার আগমন স্বপ্ন দেখিয়ে, তাকে পাওয়ার পর হাজারো আশার সঞ্চার হয়েছিল এদেশের ক্রিকেট প্রেমীদের মনে। পুরো বিশ্বে যখন লেগ স্পিনারদের দাপট তখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে ছিলো না কোন লেগী, তবে জুবায়ের হোসেন লিখন এসে স্বপ্ন দেখিয়েছেন বাংলাদেশ দলকে। তবে স্বপ্ন যেমন দীর্ঘস্থায়ী হয়না তেমনি লিখনের দেখানো স্বপ্নও বেশিদিন টিকে থাকেনি, ভেঙে গেছে সময়ের সাথে সাথেই।

একঝাঁক প্রত্যাশা নিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তার টেস্ট অভিষেক হয় ২০১৪ সালে,  অভিষেক ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ২ উইকেট তুললেও ,২য় ইনিংসে তাইজুলের দাপুটে বোলিংয়ের কারণে ১ ওভারের বেশি বল করার সুযোগই হয়নি এই স্বপ্নবাজ তরুণের। লিখন হেড কোচ হাতুরুসিংহের এতোটাই পছন্দের ছিলেন যে হাতুরু তাকে উড়িয়ে নিতে চেয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়া -নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপেও।

বিশ্বকাপ খেলা না হলেও বিশ্বকাপের পরে পাকিস্তান, ভারত ও সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে টাইগার জার্সিতে দেখা গেছে তাকে। যদিও আফ্রিকার বিপক্ষের ম্যাচটাই ছিলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার শেষ ম্যাচ। জাতীয় দলের সাথে লিখনের পথচলা ছিলো এক বছরেরও কম সময়ের, এই সময়ে লিখন খেলেছেন ৬ টেস্ট ম্যাচ। উইকেট সংখ্যা ১৬ টি। সেরা বোলিং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৫ উইকেট। টেস্ট ক্রিকেটে তার শেষ শিকার ছিলো বর্তমান বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান ভিরাট কোহলি।

লিখনের ওয়ানডে অভিষেক টাও একই বছরে,  প্রতিপক্ষ ঐ জিম্বাবুয়েই। ওয়ানডে অভিষেকেও টেস্টের মতো দুই উইকেট দিয়ে শুরু করেছিলেন ক্যারিয়ার।তার ক্যারিয়ার থেমেছিল মাত্র ৩টি ওয়ানডে খেলেই, যেখানে তার শিকার ৪ উইকেট। ঐ একই সিরিজেই ছোট ফরমেটের ক্রিকেটেও অভিষেক হয়েছিলো জুবায়ের লিখনের, এবারও দুই উইকেট দিয়েই শুরু ।

অবাক করা বিষয় জুবায়ের হোসেন লিখনের ৩ ফরমেটের অভিষেক ম্যাচই জিতেছিল বাংলাদেশ। ছোট্ট ক্যারিয়ারে লিখন নিজেকে প্রমাণ করেছিলেন ভালো ভাবেই, তবে আরো পরিণত করানোর কথা বলে লিখনকে রাখা হয় দলের বাইরে, এরপর আর কখনো জাতীয় দলের ক্যাম্পেও ডাক আসেনি এই স্বপ্নবাজ লেগ স্পিনারের। এরপর থেকেই লিখনের প্রতি চলছে অবহেলা। ধীরে ধীরে ঘরোয়া লীগ গুলোতেও লিখনের চাহিদা কমে, বিপিএলের দলে তো তাকে নিয়ে আগ্রহী দেখায় না কোন ফ্র্যাঞ্চাইজি, কোন কোন আসরে ডিপিএলেও দেখা যায় না লিখনকে।

এতো অবহেলার পরও লিখন যেখানে সুযোগ পেয়েছেন নিজেকে প্রমাণ করেছেন, ঘরোয়া লীগ গুলোতে পারফর্ম করেছেন বরাবরই। ১৭;লিস্ট  এ ম্যাচে লিখনের শিকার ২৮ উইকেট, সেরা বোলিং ৬ উইকেট শিকার। তবুও সুযোগ আসেনি আর।

ক্রিকেট বিশ্ব যখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে রশিদ খান, লামিচনে, চাহাল, শাদাব খান, জাম্পার মতো লেগ স্পিনাররা তখন আজও একজন লেগ স্পিনারের অভাব বাংলাদেশের ক্রিকেটে। এই অভাব বাংলাদেশ পূরণ করতে পারতো একজন লিখনকে দিয়ে, কিন্তু লিখন থেকে যাচ্ছে আড়ালে, সঠিক পরিচর্যা না থাকায় লিখন যাচ্ছেন হারিয়ে। সঠিক পরিচর্যা থাকলে লিখনও হতে পারতেন বিশ্ব সেরা স্পিনারদের একজন, ব্যাটসম্যানদের খাবি খাওয়ানোর মতো একজন লেগি।

১৯৯৫ সালের ১২ সেপ্টম্বর জামালপুরে  জন্ম লিখনের, আজ তার ২৫ তম জন্মদিন, আজকের এই জন্মদিনে প্রত্যাশা রইলো নিজেকে আবারো প্রমাণ করে লিখন আবারো ফিরে আসুক লাল সবুজের জার্সিতে মাঠ মাতাতে।

নিউজ ক্রিকেট/ সুফিয়ান।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »