ঘরোয়া ক্রিকেটারদের ছোট করে দেখার সুযোগ নেই, বললেন বিজয়!

কে এম আবু হুরায়রা »

ঘরোয়া ক্রিকেটারদের ছোট করে দেখার সুযোগ নেই, এমনটাই একসময়কার জাতীয় দলের তারকা ওপেনার এনামুল হক বিজয়।

বিশ্বকাপের পর শ্রীলঙ্কার সিরিজে থাকলেও ছিলেন না সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজে। বেশ অনেক বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন এনামুল হক বিজয়। ঘরোয়া ক্রিকেটও ইদানীং খেলছেন বেশ নিয়মিত। ফর্মের গ্রাফটা সব যায়গাতেই যেন উর্ধ্বমুখী। ঘরোয়া ক্রিকেট এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটারদের ছোট করে দেখার সুযোগ নেই বলে জানান জাতীয় দলের উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান এনামুল হক বিজয়।

গতকাল রাতে ‘হোয়াট অ্যা হোমমেড শো!’ নামের একটি লাইভ শো’তে এসে এ কথা জানান এনামুল হক বিজয়। ভক্তদের উদ্দেশ্য করে এনামুল হক বিজয় বলেন, ‘অনেকেই বলে যে ঘরোয়া ক্রিকেটের প্লেয়ার বা ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলে। আন্তর্জাতিকে সে খেলতে পারেনা। এই কথাটা অনেক সময় শুনি বা দেখি কমেন্ট বক্সে। আমার কাছে মনে হয় যে আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের মান যদি ভালো হতে থাকে আমাদের ইন্টারন্যাশনালের মানও ভালো হতে থাকবে। এবং ডমেস্টিকে কিন্তু তারা শতভাগ দিয়ে খেলে থাকে৷ কোন বোলার কিন্তু এসে এমনি বল করে দিবেনা। কোন ব্যাটসম্যান কিন্তু ইচ্ছে করে আউট হতে চায়না। বোলারের কষ্ট করে উইকেট নিতে হয় এবং ব্যাটসম্যানেরও খুব কষ্ট করে রান নিতে হয়।’

তিনি আরও বলেন, রান করা একেবারে সহজ নয়। যারা খেলে সবাই নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েই খেলে বলে মনে করেন এই ইউকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান। বিজয় বলেন, ‘এটা এমন না যে লুডু খেলার মত। ইচ্ছে হলো ছয়, ইচ্ছে হলে চার। এরকম না আসলে। ডমেস্টিকে যারা খেলে তারা অনেক বেশী হার্ড ওয়ার্ক করে। অনেক বেশী ভালো খেলে। তাদেরকে ছোট করে না দেখি আমরা। তারাও চেষ্টা করছে কন্টিনিউয়াসলি ভালো করে ন্যাশনাল টিমে আসার জন্য। ঐখানেও কিন্ত খারাপ পারফরম্যান্স হয়, ভালো পারফরম্যান্স হয়।’

ঘরোয়া ক্রিকেটের মানকেও ছোট করে দেখছেন না বিজয়৷ ঘরোয়া ক্রিকেটের মানও যথেষ্ট ভালোই মনে করেন তিনি। তবে আন্তর্জাতিকে অতিরিক্ত চাপ থাকে এবং কিছু কোয়ালিটি বোলার থাকে যাদের সচরাচর ঘরোয়া ক্রিকেটে পাওয়া যায়না। তাই কোন খেলোয়াড়কে ছোট করে না দেখার আহ্বান এই ওপেনারের। বিজয়ের ভাষায়, ‘ঐখানের (ঘরোয়া ক্রিকেটের) মান কিন্তু অনেক স্টান্ডার্ট। আন্তর্জাতিকে একটু চাপ থাকে। মেন্টালি টাফনেস থাকে। আমাকে ভালো খেলতে হবে৷ ভালো ভালো কোয়ালিটি বোলার থাকে। যেমন জেমি এ্যান্ডারসনের মত বোলারকে সচরাচর কিন্তু আপনি খেলবেননা। স্টার্কের বল সচরাচর আপনি পাবেননা। তো আমার কাছে মনে হয় ডমেস্টিকে যে কথা উঠে বা বলে এই কথাগুলো না বলাই উচিৎ। কারণ, ওদেরকে সাপোর্ট করলে ওরাই কিন্তু আমাদের ন্যাশনাল টিমে আসবে।’

এ সময় নিজের জাতীয় দলে ফেরা নিয়েও কথা বলেন বিজয়। নিজেকে জাতীয় দলের খুব বেশী দূরে ভাবেননা বিজয়। গত এক সিরিজ আগেও জাতীয় দলে ছিলেন মনে করিয়ে দিয়ে বিজয় বলেন, ‘আমিতো আসলে সর্বশেষ সিরিজের আগের সিরিজেও খেলেছি তো আসলে টিমের সাথেই আছি। এমন যা যে দূরে আছি। যেকোন সময় পারফরম্যান্স করলে সিলেক্টররা মনে করলে (দলে) নিয়ে নিবে। এটা এমন না যে দূরের ঘটনা৷ যেকোনো সময়ই হতে পারে। পারফরম্যান্স করাটাই আসলে ইম্পর্ট্যান্ট।’

নিজের ধৈর্য হারাচ্ছেননা বিজয়। নিজের পারফম্যান্সের উপরেই বিশ্বাস আছে তার। নির্বাচকদের মনে হলে জাতীয় দলে আসার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখছেন তিনি। বিজয় বলেন, ‘আসলে বর্তমানে ইন্টারন্যাশনাল যারা খেলছে ভালো খেলছে। যারা ভালো খেলে তাদের যায়গাতো নেওয়া যায়না। যদি তারা খারাপ করে বা টিমে আমার প্রয়োজন হয় যেকোন স্লটে। তখন দেখা যায় সুযোগটা আসে। তো ধৈর্য হারা হয়ে যাওয়া যে ধৈর্য হারা হয়ে গেছি পারবোনা এরকম কিছু না। আমাদের কাজ পারফর্ম করা। নিজেকে (জাতীয় দলের জন্য) রেডি রাখা।’ 

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »