কে এম আবু হুরায়রা »
করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের সব ধরনের ক্রীড়া বন্ধ ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশ ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। একইসাথে বন্ধ আছে বাংলাদেশের সবথেকে জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেটও। এ বছরের ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ (ডিপিএল)-ও অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এতে ভাটা পরেছে অনেক ক্রিকেটারের স্বপ্নে। বেশ কিছুদিন ধরে জাতীয় দলে আসার লড়াই কিছুটা থমকে গেলো বিজয়, তাসকিনদের মত জাতীয় দলের জন্য লড়াই করতে থাকা ক্রিকেটারদের। দীর্ঘদিনের কষতে থাকা ছকটিকে যেন উল্টে দিয়েছে কোভিড-১৯৷
গত মাসের মাঝামাঝি শুরু হওয়া ঢাকা প্রিমিয়ার লীগকে ঘিরেও আলাদা পরিকল্পনা ছিলো বিজয়ের৷ এক সময় জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য এনামুল হক বিজয়ের পরিকল্পনা জুড়েই আবারও দেশের প্রতিনিধিত্ব করার চেষ্টা। তবে সে চেষ্টা আপাতত থমকে আছে অনেকটাই।
ক্যারিয়ারের শুরুতে টেস্ট ক্রিকেটে থিতু হতে না পারলেও ওডিআই এবং টি২০ ফরমেটে নিয়মিত ওপেনার ছিলেন এনামুল হক বিজয়৷ ইঞ্জুরির কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পরার পর জাতীয় দলে ফিরেছিলেন ৩ বছর পর। তবে জাতীয় দলে ফিরে নিজেকে প্রমাণে ব্যার্থ হওয়ায় আবারও দলের বাইরে তিনি৷ তবো টি২০ ক্রিকেটে সর্বশেষ ২০১৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে সময়োপযোগী ৪৭ রানের ইনিংস খেলেও হঠাৎই অজানা কারণে বাদ পরেছিলেন এনামুল হক বিজয়৷ আর ফেরা হয়নি লিটন-সৌম্যদের ভীড়ে। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের অবস্থানের বরাবরই জানান দিচ্ছেন বিজয়। এনসিএল, ডিপিএল কিংবা বিপিএলের মত মেগা আসরেও বিজয়ের ব্যাটে ছোটে রানের ফোয়ারা। জাতীয় দলে আবারও নিয়মিত হওয়াই বিজয়ের একমাত্র আশা।
তবে এবার ডিপিএল বন্ধ থাকায় সেই আশায় কিছুটা ধাক্কা লাগলেও পরিস্থিতির কারণে মেনে নিতে হচ্ছে তাকে। জাতীয় দলে বর্তমানে ফেরাটা বেশ কঠিনই মানছেন বিজয়। তিনি বলেন, ‘জাতীয় লীগ ভালো হয়েছে। ভেবেছিলাম ডিপিএলেও দারুন কিছু করবো। কারণ, জাতীয় দলে ফেরার জন্য পারফরম্যান্স ব্যাতিত কোন পথ নেই। কিন্তু এখন সেটাও কঠিন মনে হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের যে ভয়ংকর বিস্তার।’
মাঠে ক্রিকেট ফিরলেও ফিটনেসের যে ঘাটতি সেটা পূরণ করে ফর্মে ফেরাটাই এখন চ্যালেঞ্জিং। বিজয় আরও বলেন, ‘মাঠে ক্রিকেট কবে ফিরবে তা বলা কঠিন। এরপর মাঠে ফিরলেও আগের মত ফিটনেন ফিরে পাবার লড়াই৷ সব মিলিয়ে আমাদের জন্য কঠিন সময়ই চলছে৷’
