কে এম আবু হুরায়রা »
অবশেষে অবসরের ঘোষণা দিলেন নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটার ড্যানিয়েল ফ্লিন। ২০০৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি২০ ম্যাচে অভিষেক হয় এই ক্রিকেটারের। একই সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআই এবং একই বছরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয় এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের। ক্যারিয়ারের অধিকাংশ সময়ই তিনি খেলেছেন একজন মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে৷
গতকাল (২’রা এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের অবসরের ঘোষণা করেন। এ সময় ফ্লিন জানান, “আপনার নিজের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করা যে কোন ক্রিকেটারের জন্য চূড়ান্ত পাওনা৷ শৈশবে যা সপ্নে দেখতাম সেটা করতে পেরে আমি খুব তৃপ্তির সাথেই ফিরে তাকাই।”
ফ্লিন আরও বলেন, “আমি আমার পুরো ক্যারিয়ারে যাদের সাথে খেলেছি সবাই শুধু ভালো ক্রিকেটারই নন। ভালো মনের মানুষও বটে। যাদের কাছে আমি মাঠে ও মাঠের বাইরে প্রচুর কিছু শিখেছি। এদের নিয়ে আসি নর্দানের হয়ে ট্রফি জিতেছি। এসব স্মৃতি আমি কখনই ভুলবোনা।”
ক্যারিয়ারে মোট আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন মাত্র ৪৯টি। সর্বশেষ ২০১৩ সালে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেখা গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে৷ ক্যারিয়ারে জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত না হতে পারলেও ঘরোয়া ক্রিকেটের অধিকাংশ সময়ই তিনি খেলেছেন নর্দান দলের হয়ে।
তিনি তার আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্যারিয়ারের অভিষেক ম্যাচেই লর্ডসে ১১৮ বলে ২৯ রান করে নিউজিল্যান্ড দলকে নিশ্চিত পরাজয়ের হাত থেকে রাক্ষা করে ড্র করিয়েছিলেন। একই সিরিজে ওল্ড ট্রাফোর্ডে জেমস আ্যান্ডারসনের ভয়ংকর বাউন্সারে সামনের দু’টি দাঁত হারিয়েছিলেন এই ক্রিকেটার।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ছোট হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটের বেশ নিয়মিত অংশ ছিলেন এই ক্রিকেটার৷ ১৬ বছরের ক্যারিয়ারে প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে ১৩৫টি ম্যাচ খেলে তিনি ৩৫ গড়ে রান করেছেন ৭৮১৫ এবং তার ২১টি সেঞ্চুরির সাথে ২৯টি হাফ সেঞ্চুরি ছিলো তার। ১১৩টি লিস্ট-এ ম্যাচ খেলে ২৭.৩ গড়ে ২৭৫৩ রান করেন তিনি। ৫টি সেঞ্চুরির সাথে ১২টি হাফসেঞ্চুরির মালিক তিনি।
ঘরোয়া টি২০ টুর্নামেন্টেও তার ব্যাট ছিলো ক্ষুরধার। ১০৯ টি টি২০ ম্যাচে ১৯.৩ গড়ে এবং ১২৮.৩ স্ট্রাইক রেটে রান করেছেন ১৮৩৭। সেঞ্চুরি না থাকলেও ৭টি অর্ধশত করেন এই কিউই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। তিনি লিস্ট-এ ক্রিকেট এবং সীমিত ওভারের ক্রিকেট মিলিয়ে ৭২টি ম্যাচে নর্দানের অধিনায়কত্ব করেন।
