সাকিব শাওন »
ক্লার্ক নাম টা আসলে হয়তো সবার আগে ২০১৫ বিশ্বকাপের ট্রফি উঁচিয়ে ধরার দৃশ্য চোখে ভাসে। ক্লার্ক একটি সাফল্যগাঁথার নাম। ২০০৩ সালে ওডিয়াই ক্রিকেটের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলে অভিষিক্ত হন এই তারকা ব্যাটসম্যান। এরপরের বছরই সাদা জার্সিতে ভারতের বিপক্ষে দলে ডাক পান ক্লার্ক।
ক্যারিয়ারে ফর্ম নিয়ে কখনো চিন্তার ভাঁজ পড়তে দেখা যায়নি এই ব্যাটসম্যানের। মাঝে মাঝে ইন্জুরি হানা দিলেও বারবার ফিরে এসেছেন নিজের মতো করে।
টেস্ট ক্রিকেটে ছিলেন তিনি অনন্য উচ্চতায়। তার কাছ থেকে বরাবরই দাপটীয় ইনিংস দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব। তার স্লিপের ফিল্ডিং যারা দেখেছে তারাই কেবল বলতে পারবে তিনি কতটা মনযোগী ক্রিকেটার ছিলেন। ২০১২ সালে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে একমাত্র ব্যাটসম্যানরূপে এক পঞ্জিকা বর্ষে ৪টি দ্বি-শতক হাঁকিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েন এই অজি ব্যাটসম্যান।
তিনি ছিলেন ফিলিপ হিউজের খুব কাছের বন্ধু। তাইতো হিউজ মারা যাওয়ার পর ক্লার্ক মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। শোককে শক্তিতে পরিণত করে ক্লার্কের নেতৃত্বে ৫ম বারের মতো শিরোপা ঘরে তোলে অস্ট্রেলিয়া। পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্রিকেট বিশ্বকাপের ট্রফি উঁচিয়ে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন তিনি। ফাইনাল ম্যাচে় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৭৪ রানের বিদায়ী ইনিংস খেলেছিলেন,ও দলকে ৫ম বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা লাভ করাতে সহায়তা করেছিলেন। বিদায় বেলায় এমসিজির প্রায় ৯৩,০০০ দর্শক দাঁড়িয়ে তাকে সম্মাননা জানান; আর কেনই বা জানাবেন না? তিনিতো স্টিভ ওয়াহ,রিকি পন্টিংদের মতো আরেকজন নায়ক। নায়করা বাহবা পাওয়ারই যোগ্য।

ক্যারিয়ারে ১০৮ টেস্টে সংগ্রহ করেছেন ৮,৪৩২ রান। ২৪৫ ওডিআইতে করেছেন ৭,৯৮১ রান। ক্রিকেট থেকে দূরে তবুও এখনো তাকে মাঠে দেখা তবে ব্যাট হাতে কিংবা টসের জন্য নয়। মাঝে মাঝে মাইক্রোফোন হাতে তাকে দেখা যায় কমেন্ট্রি বক্সে।

মাইকেল জন ক্লার্ক আজকের এই দিনে ২ এপ্রিল, ১৯৮১ সালে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের লিভারপুলে জন্মগ্রহণ করেন। ৩৮ বছর পার করে আজ ৩৯ পা রাখলেন এই অজি ব্যাটসম্যান। শুভ জন্মদিন মাইকেল ক্লার্ক।
