সাজিদা জেসমিন »
পাড়ার ছেলেগুলো দিন দিন ডাগর হয়ে উঠছে। সময় যত পেরোয় যেন এদের দুরন্তপনা বাড়তে থাকে। এলাকাবাসী অনেকটা বিরক্ত ও বলা চলে আবার খুশিও। বিরক্ত এই কারণে যে পাড়ার বড় মাঠটার পাশে বটতলার নিচে প্রচুর বাতাস, যেই ভাবে একটু জিরোবে কাজ শেষে তার উপায় নেই। হুড়মুড়িয়ে পঙ্গপালের মতো সব এসে শুরু করে খেলা। সবার মতে যেটা ডিঙ্গিপনা। এই ডিঙ্গিপনা অসহ্য। আবার অনেকে শৈশবের দিনগুলোতে ফিরে যান৷
টিভিতে আকরাম, নান্নু, বেলিমদের ম্যাচ দেখে তখন এক কিশোরের মনে কিছু অদ্ভুত স্বপ্ন বাসা বাঁধতে শুরু করে ছিলো। স্বপ্নগুলো খুব অদ্ভুতই হয় আসলে। এরা বলার আগেই শাখা-প্রশাখায় বিস্তৃত হয়ে পড়ে। কোন বাঁধা মানতে চায়না। টগবগে ফুটতে থাকা রক্তেও তখন মানেনা বাঁধা। এই যুবকের মনে ঠিক তেমনি করেই লাল-সবুজের ঐ বাহিনীটার প্রতি একটু একটু করে লোভ জাগতে শুরু করে।

বড় শখ করে টিভিখানা বাবা বাড়ি নিয়ে এসেছিলেন। লম্বা এন্টেনা লাগানো। ছেলেটার মাঝে মাঝে অদ্ভুত মনে হয় সবকিছু। এই ইয়া লম্বা এন্টেনাযুক্ত এই ভোটকা জিনিসটায় কিভাবে এতদূর থেকে এতসব দেখায়। ভেবে কুল পায়না সে। মনে হয় এই বুঝি ছোঁয়া যাবে মানুষগুলোকে। যখন লাল-সবুজের জার্সিতে ঐ ছেলেগুলো বাইশ গজে দৌড়ায় ছেলেটা এক নজরে তাকিয়ে দেখে। এরা কি ক্লান্ত হয়না? কোথা থেকে আসে এত শক্তি?
ছেলেটা মনের অজান্তেই যেন ক্রিকেটকে নিজের হৃদয়কুঠিরে ঠাঁয় দিয়েছিলো। এক অদৃশ্য আকর্ষণ তৈরি হয়েছে ভিতরে। যা ছিন্ন করা সাধ্যের মধ্যে পড়েনা। দিন দিন এই আগ্রহ আর কৌতুহল বাড়ছেই। এলাকায় বন্ধুদের সাথে মাঠে মাঠে ক্রিকেট ব্যাট আর বল হাতে দাপিয়ে বেড়াতে থাকেন। বল হাতে দুর্দান্ত ঘূর্ণি আর ব্যাট হাতে দুর্দান্ত সব শট যেন চোখে পড়ার মতোই। হৃদয় ছুঁয়ে যায় একেবারে।
এলাকায় টুর্নামেন্ট হলেই ডাক পড়ে ছেলেটার। এতদিনে গ্রাম-গঞ্জে নাম ছড়িয়ে গেছে। সবাই জানে ছেলেটা দুর্দান্ত খেলে। তাই টুর্নামেন্টে সবার বাড়তি নজর তার দিকেই থাকে বলা চলে। মাঠে নামার সময় হয়েছে আজ ও নির্ঘাত ছেলেটা ব্যাট-বল হাতে দ্যুতি ছড়াবে। যেই বলা সেই কাজ। ম্যাচে রানের বন্যা সাথে বল হাতে ৩উইকেট যেন সোনার সোহাগা। তবে ভাগ্যে আরো বিশাল কিছু ঘটতে যাচ্ছিলো।
টুর্নামেন্টে জেলার সুপরিচিত এক কোচ ছিলেন। যার চোখ এড়ায়নি ছেলেটির উপর থেকে। যার ফলাফলস্বরূপ খুব দ্রুতই এলো চিঠি। ডাক পড়েছে তার। স্বপ্নপূরণের ধাপতো সবে শুরু। এরপর বাকি আছে আরো বহু পথ। যে পথে পাড়ি দিতে হবে শত সংগ্রামের মাধ্যমে। বাবা-মায়ের দোয়া সাথে গ্রামবাসীর দোয়া নিয়ে ছেলেটি যাত্রা করেছিলো স্বপ্নের পথে। সেই পথ পাড়ি দিতে দিতে পেলো অনেক সাফল্য।
সবকিছু ছাড়িয়ে সেই ছোট ছেলেটা পৌঁছুলো বিশাল মঞ্চে। জাতীয় দলের বহুল কাঙ্ক্ষিত জার্সি গায়ে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ এলো তাঁর। সুযোগ লুফে নিয়ে দেশকে বিশ্ব মঞ্চে তুলে ধরার প্রত্যয়ে এগিয়ে যেতে লাগলো নতুন উদ্যমে।
পুরো চরিত্রটি কাল্পনিক। দেশের ক্রিকেটের রত্ন সাকিব আল হাসানের জন্মদিনের ছোট উপহার মাত্র। সাকিব বাংলাদেশ ক্রিকেটের রূপকথা৷ সাকিব বাংলাদেশ ক্রিকেটের কোহিনুর মণি। সাকিব কোটি ক্রিকেট ভক্তের আস্থার নাম। জন্মদিনে বিশেষ শুভেচ্ছা আমাদের ময়না।
