সাজিদা জেসমিন »
বর্তমানে করোনা ভাইরাস আতঙ্কে চারদিক আলোড়িত। আর এটি প্রতিহত করার লক্ষ্যে জনসমাবেশ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে৷ অনেক জায়গা লক করে দেওয়া হয়েছে৷ ফুটবল, ক্রিকেটের বৈশ্বিক আসর সমূহ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। অনেক জায়গায় আবার হয়েছে দর্শকশূন্য ম্যাচ৷
প্বার্শবর্তী দেশ ভারতে বন্ধ হওয়ার উপক্রম সবচাইতে জনপ্রিয় আসর আইপিএল। সিরিজ খেলতে এসে না খেলেই ফিরে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বন্ধ হয়েছে শচীনদের রোড সেফটি টুর্নামেন্ট। আর এরই মাঝে কাল থেকে মাঠে গড়াবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচাইতে জনপ্রিয় আসর ডিপিএল। এবারের ডিপিএলের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ ‘৷
৮০-৯০ এ-র দশকে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ছিলো সবচেয়ে জনপ্রিয় আসরগুলোর একটি। গ্যালারিতে থাকতো উপছে পড়া দর্শক। মোহামেডান-আবাহনীর ঐতিহ্যবাহী লড়াইয়ে দর্শকে পূর্ণ থাকতো গ্যালারি। বিমান, ব্রাদার্স, কলাবাগান, ভিক্টোরিয়ার মতো বড় দলের ম্যাচেও থাকতো দর্শকপূর্ণ। তবে সময়ের সাথে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের এই জৌলুশ কমেছে অনেকটাই।
এখন তেমন একটা দর্শক নেই বললেই চলে। সে হিসেবে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা কম থাকলেও বিসিবির রয়েছে সতর্কতা। আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দীন চৌধুরী বলেন, এই লিগ আয়োজনে বিসিবি ও সিসিডিএম করোনা ভাইরাস নিয়ে ভীষণ সতর্ক এবং ভাইরাস যাতে সংক্রমিত হতে না পারে সেজন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইতিমধ্যে ক্রিকেটারদের খেলা চলাকালীন হ্যান্ডশেক, হাই ফাইভ না করার ব্যাপারে জোর দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিসিবি সিইও বলেন, ‘আমাদের কিছু পরামর্শ রয়েছে বিসিবি ও সিসিডিএম টিমগুলোর প্রতি। করোনা ভাইরাসের কথা মাথায় রেখে সরকার যে পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করেছে ও মেডিক্যাল অ্যাডভাইজরি দিচ্ছে, সেগুলো আমরা অনুসরণ করব। আমরা ইতিমধ্যে ক্লাবগুলোর সাথে যোগাযোগ করেছি এবং দ্রুত টিম মিটিং রয়েছে। বিসিবি থেকে নির্দেশনা থাকবে কোন খেলোয়াড় অসুস্থবোধ করলে সাথে সাথে যাতে জানায়। এবং ক্লাব যেন আমাদের সাথে যোগাযোগ করে। আমরা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’
বিসিবি সিইও আরো বলেন, ‘বাইরে হ্যান্ডশেকের যে রীতি আছে, সেটা কিভাবে কমিয়ে আনা যায়, সে দিকে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। আমরা যেহেতু অভ্যস্ত সেই দিকটি বিবেচনায় রেখে এখন যেটা প্র্যাকটিস হচ্ছে সবদিক বিবেচনা করে আমরা হ্যান্ডশেকে নিরুৎসাহিত করবো। এ সকল বিষয়গুলো দলগুলোকে দিয়ে দিন যেন তারা মেনে চলে।’
তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেন, ‘জাতীয় দলের বা আন্তর্জাতিক ম্যাচসমূহে এখন যত বেশী দর্শক মাঠে থাকেন, ক্লাব ক্রিকেটসমূহে তেমন একটা দর্শক হয় না। তাই তাদের চিন্তা তুলনামূলকভাবে কম। এ কারণেই মুখে এমন বার্তা, ‘দর্শকদের ব্যাপারে যেটি বলা হয়েছে সেটি আমাদের আন্তর্জাতিক ম্যাচসমূহে বিবেচনার বিষয়বস্তু ছিল। এ ম্যাচে হয়তো তেমন একটা বাধ্যবাধকতার প্রয়োজন হবে না। তারপরও আমরা বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছি।’
