শোয়েব আক্তার »
দেশের হয়ে টেস্ট খেলার স্বপ্ন সব ক্রিকেটার-ই বুনে থাকেন। একজন ক্রিকেটারকে টেস্ট জার্সি গাঁয়ে জড়ানোর জন্য অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘদিন, উতরাতে হয় অনেক কঠিন পরীক্ষা। তারপরও অনেকের ভাগ্যে টেস্ট খেলার সৌভাগ্য হয়, অনেকের হয় না। তবে, বিশ্বে এমন কিছু কিছু ক্রিকেটার আছেন যাঁরা দেশের হয়ে একশ এর অধিক টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন।
টেস্ট ক্রিকেটের প্রায় ১০০ বছরের ও বেশি সময়ের ইতিহাসে মাত্র ৬৬ জন ব্যাটসম্যান এক’শটি টেস্ট খেলার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। টেস্ট ক্রিকেটের অভিজাত এ ক্লাবে ৬৭ তম ক্রিকেটার হিসেবে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের ডানহাতি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান রস টেইলর। ভারতের বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্টে, আগামীকাল মাঠে খেলতে নামলেই চতুর্থ কিইউই ক্রিকেটার হিসেবে এক’শ টি টেস্ট খেলার মাইলফলক স্পর্শ করবেন তিনি! এর আগে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে স্টিভেন ফ্লেমিং(১১১), ড্যানিয়েল ভিট্টোরি(১১৩) ও ব্রেন্ডন ম্যাকালাম(১০১) এক’শ বা এর অধিক টেস্ট খেলার গৌরব অর্জন করেছেন।
২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অভিষেক হয় তাঁর। অভিষেকে দূর্দান্ত কিছু করে দেখাতে না পারলেও মাত্র তৃতীয় টেস্টে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট শতকের(১২০) দেখা পেয়ে যান টেইলর। এরপর আর পেছন ফিরে তাঁকাতে হয় নি। একের পর এক দূর্দান্ত কিছু ইনিংস উপহার দিয়ে গেছেন নিউজিল্যান্ডকে।
২০১৩ সালে ইউনিভার্সিটি ওভালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম দ্বি-শতক(২১৭*) হাঁকান টেইলর। দুই বছর পর অর্থাৎ ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম ত্রিপল সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিলেন তিনি। তিনশ থেকে মাত্র ১০ রান দূরে থাকতে নাথান লায়নের বলে স্বপ্ন ভঙ্গ হয় এই ডানহাতি ব্যাটসম্যানের।
এখন পর্যন্ত ৯৯ টেস্টের ১৭৫ ইনিংসে ব্যাট করে ৭,১৭৪ রান সংগ্রহ করেছেন তিনি। ৪৬.২৮ গড়ে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ১৯ টি সেঞ্চুরি ও ৩৩ টি হাফ-সেঞ্চুরি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৯০ রানের ইনিংসটি তাঁর ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস।
ওয়েলিংটনে আগামীকাল নিজের শততম টেস্ট নিজেই রাঙিয়ে দিতে চাইবেন রস টেইলর। এতো বড় মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে টেইলর স্মরণ করলেন তাঁর পথ প্রদর্শক, প্রয়াত কিইউই ক্রিকেটার মার্টিন ক্রো’র কথা। তিনি বলছিলেন, “ক্রো আমার মধ্যে এমন কিছু দেখেছিলেন যা আমি নিজেও জানতাম না। দেশের জার্সি গাঁয়ে অন্তত একটি টেস্ট খেলতে পারলেই খুশি থাকতাম, এখন এক’শ টেস্ট খেলতে যাচ্ছি। সত্যি-ই এটা বিশেষ এক অনুভূতি।
