দুর্দান্ত জয়ে বঙ্গবন্ধু বিপিএলের ফাইনাল নিশ্চিত করলো খুলনা!

সানিউজ্জামান সরল »

বঙ্গবন্ধু বিপিএলের ১ম কোয়ালিফায়ারে সন্ধ্যায় খুলনা টাইগার্সের মুখোমুখি হয় রাজশাহী রয়্যালস। টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে থাকেন খুলনার দুই ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী মিরাজ। তবে হঠাৎ করেই পাকিস্তানি পেসার ইরফানের বলে হয় ছন্দপতন। ইরফানের এক ওভারে মিরাজ ও রুশো ফিরে গেলে চাপে পড়ে খুলনা।

মাত্র ১৫ রানে দুই উইকেট হারানো খুলনাকে ম্যাচে ফেরান আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান নাজমুল হোসেন শান্ত। শামসুর রহমানকে সঙ্গী করে ইনিংস লম্বা করতে থাকেন শান্ত। এ দুজনের দারুণ এক পার্টনারশিপে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে খুলনা। তবে দলীয় ৯৩ রানে ভাঙে তাদের পার্টনারশিপ। শামসুর রহমান ফিরে গেলে কিছুটা মন্থর গতিতে এগোতে থাকে খুলনার ইনিংস৷

অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমও এদিন সুবিধা করতে পারেননি। ব্যথা পেয়ে মাঠ ছাড়লে নাজিবউল্লাহ ও শান্ত রাসেলের করা শেষ ওভারে নেন ২২ রান৷ আর এতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৫৮ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ পায় খুলনা টাইগার্স। গত ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান শান্তর ব্যাট এ ম্যাচেও ছিল দুর্দান্ত। ৫৭ বলে ৭ চার ও ৪ ছক্কায় অপরাজিত ৭৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি।

খুলনার দেওয়া ১৫৯ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহের মোকাবেলা করতে এসে উদ্বোধনী ওভারেই ওপেনার লিটন দাসকে ফিরে যেতে হয়। পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমিরের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে সরাসরি বোল্ড হয়ে ফিরে যান। লিটন ফেরার পর, রাজশাহী শিবিরে যেন চলতে থাকে আসা যাওয়ার মিছিল। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে রাজশাহীর। দলীয় ২৩ রানেই রাজশাহীর ৫ ব্যাটসম্যানকে ২২ গজ ছাড়া করেন খুলনার বোলাররা।

তবে হঠাৎ করেই মালিক-তাইজুলে এগোতে থাকে রাজশাহীর ইনিংস। এক সময় পরাজয় নিশ্চিত হয়ে গেলেও, তারা দু’জন হারের ব্যবধানটা কমিয়ে নিতে চাইছিলেন। রানও পেতে থাকলেন। তিনে নামা মালিককে ভালোই সঙ্গ দিতে থাকেন স্পিনার তাইজুল। তবে হঠাৎ’ই তাইজুল ফিরে গেলে, শোয়েব মালিকও আমিরের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরে যেতে খুব বেশি একটা সময় নেন নি। ৫০ বল থেকে ৮০ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে ফিরে যান তিনি।

ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই জয়ের সুভাস পাওয়া খুলনার বোলাররা যেন শেষদিকে আরী ভয়ংকর রূপ ধারণ করেন। এবারের বিপিএলের এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৬ উইকেট নেন মোহাম্মদ আমির। খুলনার আরেক পেসার রবি ফ্রাইলিঙ্কও এদিন নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন এবং এর সাথে তুলে নেন একটি উইকেট। ‘বোলিং-ব্যাটিং-ফিল্ডিং’ তিন বিভাগেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ২৭ রানের জয় পাওয়ার মাধ্যমে প্রথমবারের মত ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল খুলনা টাইগার্স।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

টসঃ রাজশাহী রয়্যালস।

খুলনা টাইগার্স- ১৫৮/৩ (২০)
শান্ত ৭৮* (৫৭), শামসুর ৩২ (৩১)
ইরফান ১৩/২ (৪)

রাজশাহী রয়্যালস- ১৩১/১০ (২০)
মালিক ৮০ (৫০), তাইজুল ১২ (২৩)
আমির ১৭/৬ (৪)

ফলাফলঃ ২৭ রানের জয় পেল খুলনা।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »