নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
এখন কালো রাত! পদ্মাপাড়ে বইছে হতাশামাখা বাতাস। হতাশার এই বাতাসটা ঢের বিষাক্ত। তাইতো এই বাতাসে আক্রমণিত হয়ে ভক্ত-সমর্থকদের চোখের কোণে পানি জমে যাচ্ছে বারংবার। জমে থাকা এ পানি কোন কিছুতেই নিঃশেষ হচ্ছে না, হবেও না হয়তো। ছলছল চোখ নিয়েই কী-বোর্ড চাপছি। সবার মতো আমিও যে, বিষাক্ত বাতাসে হয়েছি আক্রমণিত।
হাহাকারের অনলে দগ্ধ হওয়া মানুষগুলো হতাশার বিষাক্ত বাতাসে আক্রমণিত হওয়ার কারণটা জানেন তো? হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। গঙ্গাপাড়ে তাদের ১১ জনের লজ্জাজনক পারফরম্যান্স।
আজ (২২ নভেম্বর) দুপুর ১ টা ৩০ মিনিটে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে প্রথমবারের মতো দিবানিশির টেস্ট খেলতে ২২ গজে নেমেছিলো ভারত-বাংলাদেশ দুই দলই। নানা আয়োজনে আয়োজিত এই ঐতিহাসিক টেস্টে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলা কাপ্তান মুমিনুল হক। ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১৫ রানেই উদ্বোধনী উইকেটের পতন ঘটে বাংলাদেশের। ব্যক্তিগত ৪ রানে ইশান্ত শর্মার বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ড্রেসিংরুমের পথ ধরতে হয় ইমরুল কায়েসকে। যদিও রিভিউ নিয়ে বাঁচার ব্যর্থ চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তবে এতে রিভিউ নষ্ট করা ছাড়া আর কিছুই হয় নি। ইমরুল ফিরে যাওয়ার পর মাঠে আসেন কাপ্তান মুমিনুল। তবে মোহাম্মদ শামির বলে রোহিতের দুর্দান্ত স্লিপ ক্যাচে একেবারে শূন্য হাতেই ফিরে যেতে হয় দলপতিকে।
এরপরের গল্পটা তো সবারই জানা। যাওয়া আসার মিছিলে মিঠুন, মুশফিক, সাদমান ও মাহমুদউল্লাহরা ছিলো অতি দ্রুতগামী ট্রেন। মুমিনুলের মতো মিঠুন ও মুশফিকেও ‘০’ রানে ফিরে যেতে হয়। ৩ টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের ‘০’ রানে আউট হওয়া, একটি দলের ব্যাটিং লাইনআপকে ধসিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। ঠিক সেটাই হয়েছে বাংলাদেশের সাথে।
টপ অর্ডার, মিডল অর্ডার একে একে ব্যর্থ হবার পর ২২ গজে আসেন লিটন কুমার দাস। কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা। আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে মোকাবিলা করতে থাকেন একেকটি বল। তবে ৫ বাউন্ডারিতে প্রায় ৮৯.০০ স্ট্রাইক রেটে ২৪ রান করার পর হঠাৎ শামির এক ভয়ঙ্কর বাউন্সার লিটনের হেলমেটকে আঘাত করে। এই আঘাতে মাঠে থাকতে পারেননি লিটন। ছুঁটে যেতে হয়েছে হাসপাতালে। লিটনের বদলি হিসেবে ব্যাটিংয়ে নামেন মেহেদী মিরাজ। কিন্তু কেউই যেন প্রতিরোধ গড়তে পারছিলো না। ফলে প্রথম ইনিংসে ১৮৩ বল খেলে ১০৬ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানরা।
বিপরীতে ভারত ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলা শুরু করে। তবে বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেননি ১ম টেস্টে দ্বি-শতক হাঁকানো আগারওয়াল। পেসার আল-আমিনের বলে মিরাজের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরে যেতে হয় তাকে। কয়েক ওভারের ব্যবধানে ভারত হারায় তাদের দ্বিতীয় ওপেনার রোহিত শর্মাকে। পেসার এবাদত হোসেনের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ফিরে যায় তিনি। যদিও রিভিউ নিয়েছিলেন, তবে সেই রিভিউ নষ্ট হওয়া ছাড়া কোনই কাজে আসে নি।
দুই উইকেট হারিয়ে ভারত শিবিরে তখন কিছুটা চিন্তার ছাপ। চিন্তা কাটাতেই যেনো মূর্তিমান প্রতীক হিসেবে আবির্ভাব হয় বর্তমান ক্রিকেটের সেরা ক্রিকেটার বিরাট কোহলি ও ভারতের টেস্ট দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান পুজারার। উইকেটে একেবারে থিতু হয়ে বসে তারা। আসলে বাংলাদেশী বোলাররা কোন রকম চাপেই ফেলতে পারে নি এ দুজনকে। তবে পঞ্চাশোর্ধ রানের শক্ত এই জুটির ভাঙন ধরান রোহিতকে বোকা বানানো সেই এবাদত। অর্ধশত রান করা পুজারাকে স্লিপ ক্যাচে সাদমানের হাতে তালু বন্দি করিয়ে ড্রেসিংরুমের পথ দেখান এবাদত হোসেন। তবে এতে ভারতের কোন সমস্যা হয়েছে বলে মনে হয় না। কেননা, কাপ্তান বিরাট কোহলি রাহানেক সঙ্গী করে কোন রকম শঙ্কা ছাড়াই প্রথম দিন শেষ করেছেন। ৫৯ রানে বিরাট ও ২৩ রানে রাহানে অপরাজিত আছেন। সেই সাথে ৬৮ রানের লিডে ১ম দিনের (দিবারাত্রি) খেলা শেষ করছে স্বাগতিক ভারত।
দিনশেষে ইডেন টেস্টের স্কোরকার্ডঃ
বাংলাদেশ (১ম ইনিংস)– ১০৬/১০ (৩৩.৩ ওভার)
সাদমান ইসলাম ২৯ (৫২), লিটন দাস ২৪ (২৭)
ইশান্ত ২২/৫, উমেশ ২৯/৩।
ভারত (১ম ইনিংস)– ১৭৪/৩ (৪৬ ওভার)
কোহলি ৫৯* (৯৩), রাহানে ২৩* (২২)
এবাদত ৬১/২, আল-আমিন ৪৯/১।
প্রসঙ্গত, তাহলে কি টস জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই বাংলাদেশের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ালো? এমন প্রশ্নকে আপনি মোটেও অপ্রাসঙ্গিক বলে উড়িয়ে দিতে পারবেন না। কেননা, এর আগে কখনোই গোলাপি বলে ২২ গজ মাতানোর অভিজ্ঞতা ছিলো না বাংলাদেশের। এই দলটাই কোন রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই টস জিতে সরাসরি ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়াটা যুক্তিহীনই মনে হচ্ছে। সে যাইহোক, ঐতিহাসিক এই টেস্টে বাংলাদেশ স্ট্রংলি কাম ব্যাক করুক, এটাই কামনা। যদিও বিষয়টা কল্পনা করতে গেলেও অদ্ভুত মনে হবে।
